https://tipswali.com/wp-content/uploads/2020/09/কোষ্ঠকাঠিন্য.jpg
Spread the love

কোষ্ঠকাঠিন্য জনিত সমস্যায় ভুগছেন! কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় কি? কি কারনে বা কেন Constipation হয়? প্রিয় পাঠক আজকের লেখা জুড়ে কথা হবে কিভাবে  সম্পূর্ণ ঘরোয়া উপায়ে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

কোষ্ঠকাঠিন্য কি?

সাধারনত কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে একজন ব্যাক্তির নিয়মিত মলত্যাগ জনিত সমস্যা। অর্থাৎ সহজে মলত্যাগ না হওয়া বা ২-৩ দিন পর বা শুষ্ক ও শক্ত মল নিশকাসনকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। এটি কোন জটিল রোগ নয়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষন কি?

কোষ্ঠকাঠিন্য একটি যন্ত্রণাদায়ক ও অতি বিরক্তিকর সমস্যা। আর এর কারনে আপনার স্বাভাবিক জীবন যাপনে বিঘ্ন ঘটতে পারে। নিচে এর কারনগুলো দেওয়া হলোঃ

  • নিয়মিত মলত্যাগ না হওয়া।
  • সাধারন সময়ের তুলনায় কম মলত্যাগ হওয়া।
  • মলত্যাগে অতিরিক্ত চাপ বা সময় নেওয়া ।
  • শুকনা মলত্যাগ হওয়া।
  • পেট ফেপে যাওয়া বা ব্যাথা করা।
  • মলদ্বারে ব্যাথা অনুভব হওয়া।
  • অধিক সময় নেওয়ার পরও মলত্যাগ অসম্পূর্ণ মনে হওয়া।

কি কি কারনে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়?

  • অনিয়মিত ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাদ্য গ্রহন।
  • পরিমান মতো পানি পান না করা।
  • শরীরে আই বি এস থাকলে।
  • নিয়মিত শরীর চর্চা না করা।
  • অতিরিক্ত ল্যাক্সাটিভ ব্যবহার।
  • মানুষিক চাপ।
  • আশজাতীয় খাবার না খাওয়া।
  • টিউমার, হার্নিয়া জনিত সমস্যা থাকলে।
  • টয়লেট চেপে রাখা।
  • কিছু কিছু ব্যাথা নাশক ওষুধ।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় কি?

কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই অনেকেই বিভিন্ন প্রকার ঔষধ নেওয়া শুরু করে। যা কিনা স্বাভাবিক ভাবে মলত্যাগের অভ্যাস নষ্ট করে দিতে পারে। ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমেই কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে তলা বা দূর করা সম্ভব। নিচের উপায় বা পদ্ধতিগুলো অনুসারন করে সম্পূর্ণ ঘরোয়া উপায়ে আপনি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

পর্যাপ্ত পানি পান করুণ

পানির অপর নাম জীবন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মানুষের শরীরে নানা রোগ ব্যাধি দেখা দিতে পারে। পরিমান পানি না পান করা এর অন্যতম কারন। বেশি বেশি পানি পান করুণ। অল্প সময়ের মধ্যেই আপনি কোষ্ঠকাঠিন্যজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

ইসবগুল বা ভুসি

যাদের নিয়মিত ইসবগুল বা ভুসি পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার অবভ্যাস আছে তাদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য জনিত সমস্যা দেখা যায় না। সকালে খালি পেয়ে ১-২ গ্লাস পানিতে পরিমান মতো ( ১ গ্লাসে ২ চা চামচ ভুসি) মিশিয়ে সামান্য গুড় বা চিনি দিয়ে পান করুণ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।

প্রতিদিন আশজাতীয় খাবার গ্রহন করুণ

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আশ জাতীয় খাবার থাকা উত্তম। আশজাতীয় খাবার মলত্যাগ নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে। টাটকা ফল, শোল মাছ, শাকসবজি ও ওটস জাতীয় খাবারেও প্রচুর আশ থাকে।

টয়লেট চেপে রাখার অভ্যাস বন্ধ করুণ

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে পায়খানা আসলে চেপে রাখে। এই ধরনের খারাপ অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি আরও নানা শারীরিক সমস্যার অন্যতম কারন।

পাকা বেলের শরবত

পাকা বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বেশ কার্যকরী। ৩০-৪০ গ্রাম বেলের শাস দিয়ে শরবত বানিয়ে দিনের ২-৩ বার ১ গ্লাস করে পান করুণ। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য জনিত সমস্যা থাকলে ১৫ দিন বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত পাকা বেলের শরবত পান করুণ।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন

মুলত খাবার জনিত কারণে Constipation দেখা দেয়। তেলজাতীয় বা ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন। এছাড়াও কোমল পানীয় ও চিপস আপনার হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। পাশাপাশি ধূমপান কিংবা মধ্যপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। এই জাতীয় মাদকজাত দ্রব্য আপনার জন্য মরন ব্যাধি ক্যনাসার নিয়ে আসতে পারে।

রুটিন মাফিক চলুন

প্রতিদিন একই সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস করে তুলুন। আর বেগ পেলেই প্রকৃতির ডাকে সারা দিন।

সুবিধাজনক পজিশন

আমাদের মধ্যে অনেকে হাই কমোডে আবার কেউ নিচু কমোডে মলত্যাগ করতে পছন্দ করে। পজিশন কোন বিসয় না আপনার যেখানে সুবিধা মনে হয় সেভাবেই মলত্যাগ করুণ। অবশ্যই খোলা আকাশের নিচে না। শহর অঞ্চলে বাসা ভাড়া নিলে আপনার পছন্দ মতো বাসা খুঁজুন।

নিয়মিত ব্যায়াম করুণ

সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ব্যাম করার জুড়ি নেই। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে আপনার শরীরবৃত্তীয় কার্যক্রমগুলো ঠিক থাকে ও ওজন ঠিক থাকে। যা কিনা আপনার মলত্যাগেও প্রভাব ফেলে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রতিক্রিয়া

নিয়মিত পায়খানা না হলে আপনার শরীরে নানা বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে আপনার অবসাদ, অনিদ্রা বা রাতে ঘুম কম হওয়া, চোখে ব্যাথা অনুভব হওয়া, কোমর ব্যাথা, এমনকি মনোযোগ হ্রাস পেতে পারে।

দীর্ঘ স্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে নানা ধরনের চর্মরোগ জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও খুদা মন্দা, মুখে বাজে ঘ্রান, পেটে গ্যাস হয়ে থাকে।

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা, অনেক সময় গর্ভবতী মেয়েদের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় বিশেষ করে পেটা বাচ্চার বয়স যখন ৭-৯ মাস। তাই এই সম্যগুলতে ভয় পাওয়ার কারন নেই। গর্ভবতী মেয়েদের প্রতিদিনের খাবার তালিকা অনুসারে খাবার গ্রহন করতে সাহায্য করুণ। ঘরোয়া চিকিৎসায় সমাধান না হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *