https://tipswali.com/wp-content/uploads/2020/09/ব্রণ.jpg
Spread the love

প্রিয় পাঠক, আজকের লেখা জুড়ে কথা হবে ব্রণ কি? কেন ব্রণ হয় ও ব্রণের চিকিৎসা বা পিম্পল কিভাবে দূর করা যায় সে নিয়ে বিস্তারিত। তো ব্রণ দূর করার উপায় জানার আগে চলুন ব্রণ সম্পর্কে কিছু অবাক করা তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

ব্রণ সম্পর্কিত অবাক করা কিছু তথ্য

আপনি জেনে অবাক হবেন যে, ২০২০ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৫০ মিলিয়নের বেশি মানুষের ব্রন হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের কৈশোরকালে ব্রন হয় এবং প্রপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বিরাজ করে। এবং বয়ঃসন্ধির পর হতে শুরু করে ২৪ থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রায় ৫৪ শতাংশ মেয়ে এবং ৪০ শতাংশ পুরুষের ব্রন হয়। আরও অবাক করা তথ্য হচ্ছে প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষের বয়ঃসন্ধির পর থেকে জীবনব্যাপী ব্রণ থেকে যায়। এবং যে কোন বয়সী মানুষের ব্রণ হতে পারে। সব চেয়ে সুখবর হচ্ছে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা কিশোরদের মধ্যে ব্রণ হওয়ার মাত্রা অনেক কম।

ব্রণ কি?

ব্রণ হচ্ছে মানুষের ত্বকের একটি দীর্ঘ মেয়াদী রোগ। যা মূলত পিম্পল, লালচে ত্বক, দাগ, তৈলাক্ত ত্বক ইত্যাদি দেখে চিহ্নিত করা হয়। ব্রণের ফলে মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার পাশাপাশি, দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা ও অবসাদের মতো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ব্রণের প্রকারভেদ

বিশেষজ্ঞদের মতে ব্রণ মূলত চার প্রকার। ১) নন-ইনফ্লেমাটোরি, ২) মিল্ড প্যাপুলার, ৩) স্কেয়ারিং প্যাপুলার ও নডুলার। ব্রণের ফলে মুখে গলায় অনেক সময় পিঠেও কালো আচিল কিংবা ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

ব্রণ হওয়ার কারণ কি?

বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়ের টেস্টোস্টেরন জাতীয় অ্যান্ড্রজেন বেড়ে যাওয়ার ফলে ব্রণের দেখা দিয়ে থাকে। তবে যে কোন বয়সী মানুষের ব্রণ হতে পারে। এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার দরকার নেই। সম্পূর্ণ ঘরোয়া চিকিৎসায় ব্রণ নির্মূল করা সম্ভব।

ব্রণ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

অনেকের মতে ব্রণের কারন হিসেবে খাবারকে দায়ী করতে দেখা যায়। ব্রণ হয়েছে এমন ব্যাক্তির ভাজা কিংবা তেল জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে বলা হয়ে থাকে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলেন এর সাথে ব্রণের কোন সম্পর্ক নেই। তবে বেশি তেলযুক্ত খাবার বা ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলা শরীরের জন্য উত্তম। আবার অনেকের মতে যৌন কার্যকলাপের ফলে ব্রণ হয়। এটিও ভুল ধারণা।

ব্রণের চিকিৎসা কি?

একেক জনের ত্বকের ধরন একেক রকম। কারো ত্বক খুবই সংবেদনশীল আবার কারো ত্বকে অনেক কিছু এক্সপেরিমেন্ট করলেও তেমন কোন সমস্যা কিংবা পার্শ্ব-প্রতিক্রয়া দেখা দেয় না। যাহোক কথা না বাড়িয়ে চলুন ব্রণের চিকিৎসা বা কিভাবে ব্রণ দূর করা যায় সে বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক-

১) অভ্যাস পরিবর্তন করুন

ব্রণ হওয়ার পর আমরা সব থেকে যে কাজগুলো করি তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আয়নার সামনে দাড়িয়ে বার বার নিজের মুখের দিক তাকানো আর পিম্পলগুলো খোঁটাখুঁটি করা। একটি কাগজে লিখুন “আয়নার সামনে দাড়িয়ে পিম্পল খোঁচাখুঁচি করা যাবে না” এবং আয়নার সাথে লাগিয়ে রাখুন।

২) পরিস্কার পানি দিয়ে মুখ ধৌত করুন

একটি বিশেষ গবেষণায় দেখা যায় যারা দিনে নুন্যতম পাঁচ বার পানি দিয়ে মুখ-হাত পরিষ্কার করে তাদের ব্রনের মাত্রা বা ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। অনেকের একেবারই পিম্পল হয় না। আপনি যদি দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন তাহলে ওযুর দ্বারাই আপনার দিনের পাঁচবার মুখ ধোঁয়া হয়ে যাবে।

৩) মুলতানি মাটি ব্যবহার করুন

দুই চা চামচ পরিমান মুলতানি মাটি ও এক চা চামচ নিমের গুরা এবং সামান্য গোলাপজল নিয়ে পেস্টের মতো আঠালো করে পিম্পল হয়েছে এমন যায়গায় লাগান। এভাবে ১৫ মিনিট থাকার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলুন। সম্ভব হলে কোন মাইল্ড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করুন। এক মাসের মধ্যেই আপনার মুখের ব্রণও ব্রণের দাগ দূর হয়ে যাবে। মুলতানি মাটি আপনার মুখের স্কিনের রঙ উজ্জ্বল করতেও বেশ কার্যকরী। সে জন্য আপনি সামান্য কাচা হলুদ মিশিয়ে নিয়ে পারেন।

৪) কাঁচা হলুদ ও চন্দন কাঠের গুঁড়া

ব্রণের চিকিৎসায় কাঁচা হলুদ ও চন্দন কাঠের গুঁড়া বেশ কার্যকরী। সামান্য পরিমান চন্দন কাঠের গুঁড়া ও কাঁচা হলুদ বেটে একসাথে মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করে নিন। এরপর আক্রান্ত যায়গায় মিশ্রণটি লাগান এবং শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৫) মধু ব্যবহার করুন

মধুর হাজারো ঔষধী গুন রয়েছে। আপনার মুখের ব্রণের প্রকোপ কমাতে মধুর ঝুড়ি নেই। যতটা সম্ভব খাটি মধু সংগ্রহ করার চেষ্টা করুন। ফেসওয়াশ দিয়ে ভালো ভাবে মুখ ধুয়ে নিন। হালকা করে মুছে ফেলুন এবং ভেজা ভেজা ভাব থাকতে মুখে ক্রিম মাখানোর মতো করে সামান্য মধু মাখুন। এভাবে ১০ মিনিট রেখে ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলুন। এর অন্তন দুই ঘণ্টার মধ্যে মুখে কোন প্রকার প্রসাধনী ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

৬) পানি

পানির অপর নাম জীবন। শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিলে নানা সমস্যা দেখা দেয়। পিম্পল বা ব্রণ দূর করার জন্য প্রচুর পানি পানি করুন। দিনের ৯ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। তবে একসাথে না কিছু সময় পর পর পানি পানি করুন।

৭) মুখে বরফ বুলান

যখনই আপনার নজরে আসে যে আপনার মুখে সামান্য লাল হয়ে উঠেছে অর্থাৎ ব্রণ উঠছে এমন কিছু টের পাচ্ছেন সাথে সাথে পরিষ্কার পানি দিয়ে বানানো বরফ আপনার মুখে বুলান। ফ্রিজে বরফ বানানোর সময় খেয়াল রাখবেন, বরফের সাথে যেন মাছ মাংসের রক্ত বা পানি না মিশে যায়। যত বারই লাল হয়ে উঠবে ততবারই বরফ মুখে বুলান। এতে করে পিম্পলের চুলাকানি বা ইনফেকশন হওয়ার পরিমান কমবে।

৮) চুলে শ্যাম্পু করুন

বাহিরে বের হওয়ার ফলে আমাদের চুলে ধুলাবালিসহ নানা ক্ষতিকর উপাদান বাসা বাধে। আর ঘামের সাথে এগুলো মুখের ত্বকে ছড়িয়ে পরে স্কিনের গ্রন্থিগুলো বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও আপনার চুলের জন্য টনিক বা চটচটে উপাদান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এই সকল উপাদান আপনার মুখে ছড়িয়ে পরতে পারে এবং ব্রণ দেখা দিতে পারে।

৯) পর্যাপ্ত ঘুমান

একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যারা শো-বিজে আছেন ঘুমানোর আগে ভালোভাবে মেকআপ তুলে বা ধুয়ে ফেলুন।

১০) ছাতা ব্যবহার করুন

বেশি সময় রোদে চলাফেরা করলে কিংবা গমের দিনে মুখে একটা তেলতেলে ভাব ভলে আসে। বাতাসে থাকা ধুলাবালি ও নানা ক্ষতিকর উপাদান মিলে স্কিনের গ্রন্থিগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তাই বাহিরে চলাফেরা করার সময় ছাতা ব্যবহার করুন।

১১) স্কিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন

আপনার ত্বক যদি বেশি সেন্সিটিভ হয়ে থাকে এবং ব্রণের মাত্রা যদি বেশি হয়ে থাকে তবে আপনি কোন স্কিন বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন। কোন প্রকার প্রসাধনী ব্যবহার করার আগে তার উপাদানগুলো দেখে নিন।

ব্রনের ট্যাবলেট কি?

ব্রণের জন্য কোন ট্যাবলেট কাজ করবে সেটা নির্ভর করে আপনার স্কিনের উপর। নিজে থেকে কোন ট্যাবলেট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন এতে করে হিতের বিপরীত হতে পারে। বিজ্ঞাপনের প্রলোভন থেকে দূরে ত অবশ্যই ডাক্তারে বা স্কিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

ব্রণ দূর করার জন্য কি রসুন ব্যবহার করা উচিত?

একেক জনের ত্বকের ধরন একেক রকম। রসুনে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্টস এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমাটরি থাকে যা কারো কারো স্ক্রিনে ভালো কাজ করে; কিন্তু হাইপার-সেনসেটিভ স্কিনের জন্য রসুনের ব্যবহার হতে পারে হিতের বিপরীত। পিম্পলে রসুনের রস লাগলে ওই জায়গায় কালো দাগও পরে যেতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মুখে রসূনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উত্তম।

শেষ কথা

যখনই আপনার মুখে ব্রণ দেখা দিলে খোঁচাখুঁচি বন্ধ করুন। দিনের অন্তত পাঁচ বার ঠাণ্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমান। মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। জীবনকে উপভোগ করুন।

স্বাস্থ্য, বিউটি, রান্না সহ হাজারো টিপস পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আপনাদের প্রিয় টিপসওয়ালী ডট কম।

আরও পড়ুনঃ

ওজন কমানোর কার্যকরী উপায়

গর্ভধারণ টিপস

টনসিলে চিকিৎসা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *