air travel tips

বিমানে উঠার নিয়ম কি? কোথায় ও কিভাবে বিমানের টিকেট পাওয়া যায়? বিমান ভাড়া কেমন? বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে যেতে কেমন সময় লাগে এমন সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আপনাদের জন্য টিপসওয়ালীর আজকের আয়োজন।

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা, আমাদের মধ্যে অনেকেরই হয়তো বিমানে যাতায়াত করা হয়নি আবার অনেকের বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা আছে। আবার কেউবা শিগ্রই বিদেশ ভ্রমণে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সাধারন যানবাহনে ভ্রমনের তুলনায় বিমান ভ্রমনে বিশেষ কিছু আলাদা নিয়ম কানুন রয়েছে। প্রত্যেক মানুষেরই প্রথমবার বিমান ভ্রমনের অভিজ্ঞতা ভোলার মতো না। তবে প্রথমবার বিমানে চড়ার পূর্বে মনের মধ্যে নানা ভীতি বা চিন্তা কাজ করে। আপনি যদি প্রথমবার বিমান ভ্রমণ করেতে যাচ্ছেন এমন হলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য বেশ উপকারি হতে যাচ্ছে।

বিমান ভ্রমন সম্পন্ন হওয়ার ৬ টি ধাপ

বিমান ভ্রমণের টিপস জানার আগে আমাদের জানা উচিত বিমান ভ্রমণে কি ধাপ বা পর্যায় রয়েছে। আপনি যদি এই ছয়টি ধাপ স্মরন রাখেন বা জানা থাকে তবে আপনার বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা হয়ে যেতে পারে আরও বেশি সুন্দর ও আনন্দময়।

১. বিমানের টিকেট বুকিং দিন

পরিবহনে যাতায়াতের জন্য যেভাবে টিকেট প্রয়োজন হয় তেমনি আপনার ডোমেস্টিক কিংবা ইন্টারন্যাশনাল বিমান ভ্রমণের জন্য টিকেট প্রয়োজন। তাই বিমান ভ্রমণের দিনের এবং সময়ের সাথে প্লেনের শিডিউল মিলিয়ে আপনার জন্য বিমান টিকেট বুকিং দিতে ট্রাভেলস এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করুন।

ঢাকার লোকাল-বাসের মতো বিমানে যেহেতু দাড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সেহেতু বিমানের সিট খালি না থাকলে আপনি সেদিন আপনার কাঙ্ক্ষিত ভ্রমণটি করতে পারবেন না। তাই আপনার বিমান ভ্রমণের দিনের টিকেট কাটার জন্য বেশ কয়েক দিন আগেই টিকেট বুকিং দিন।

২. বিমান ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুতি নিন

বিমানের টিকেট কাটার ঝামেলা শেষ হওয়ার কাজ শেষ হলে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন- ভিসা, পাসপোর্ট, ভ্রমণ রিলেটেড পেপারস। উল্লেখ্য, দেশের বাহিরে ভ্রম্রণে জন্য আপনার ভিসা ও পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে। তবে দেশের মধ্য বিমান ভ্রমণের জন্য আপনার এতো কাগজপত্র লাগবে না। টিকেট ও কেবল মাত্র আপ্নার কোন একটি আইডি কার্ড এর কপি হলেই চলবে।

দেশের বাহিরে ভ্রম্রণের জন্য অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছান। আর আভ্যন্তরীণ রুটে বিমান ভ্রমণ করতে চাইলে এক ঘণ্টা আগে বিমানে ভ্রমণ করলেই যথেষ্ট।

এয়ার লাইন্স ভেদে আলাদা আলাদা ওজন বহনের অনুমতি থাকে। অর্থাৎ আপনি যদি কোন লাগেজ কিংবা ব্যাগ বহন করতে চান তাহলে অবশ্যই জেনে নিন আপনি সর্বোচ্চ কতো কেজি ওজনের জিনিসপত্র বহন করতে পারবেন।

৩. চেক ইন করুন

অনেকেই হয়তো জানেন এয়ারপোর্টে ঢোকার পর সর্বপ্রথম আপনাকে চেক ইন করতে হবে। অর্থাৎ আপনার ফ্লাইট খুলে দেওয়ার পর আপনি চেক ইন করতে পারবেন। চেক ইন করার পর বিমান বন্দর টার্মিনালে থাকা মনিটর এর দিকে খেয়াল রাখুন।

বিমানবন্দরে থাকা নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের আপনার টিকেট, ভ্রমণ সংক্রান্ত পেপারস ও পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে আপনার সাথে থাকা লাগেজ জমা দিতে হবে। সেখানে আপনাকে বোর্ডিং পাস এবং লাগেজের ডকুমেন্টস হিসেবে একি কার্ড দেওয়া হবে। অবশ্যই কার্ডটি আপনার সাথেই রাখুন।

৪. বোর্ডিং

এ পর্যায়ে আপনার গন্তব্য ডিপার্চার লাউঞ্জ। এখানে আপনার শরীর থেকে শুরু করে যাবতীয় সবকিছু চেক করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আপনার হ্যান্ড ব্যাগ ও বোর্ডিং পাসে ষ্ট্যাম্প দেবেন। একটি কথা মনে রাখবেন, আপনি যদি বিদেশ ভ্রমণ করে থাকেন তবে আপনার ইমিগ্রেসন চেক করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আপনাকে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

৫. ফ্লাইটের মধ্যে যা যা করা হবে

আপনাকে ফ্লাইটে প্রবেশ করতে দেওয়া হলে আপনার সিটে বসে পরুন। বোর্ডিং এর পাশেই আপনার সিট নাম্বার দেখতে পাবেন। সব যাত্রী প্রবেশ করার পর প্লেনের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বিমানে থাকা বিশেষ দায়িত্বরত কর্মকর্তা যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ কিছু সতর্কতামুলক কথা বলবেন। সিটবেল্ট সিগন্যাল দিলে উঠে দাঁড়াবেন না। নির্দিষ্ট উচ্চতায় ওঠার পর এই সিগন্যাল অফ হয়ে যাবে। আপনি চাইলে তখন খাবার খেতে পারবেন কিংবা উঠে দাড়াতে পারবেন।

৬. বিমান ল্যান্ড করার সময়

বিমান মাটিতে নেমে আসাই হচ্ছে বিমান ল্যান্ডিং। ল্যান্ড করার সময় ধীরে ধীরে মাটির দিকে নেমে আসবে। মনে রাখবেন বিমান থামার সাথে সাথেই উঠে দাঁড়ানো যাবে না।  সিট বেল্ট খুলতে বলার আগে সিট বেল্ট খুলবেন না। আপনার ব্যাগ মালামাল বুঝে নিন। এবং ধীরে ধীরে টার্মিনাল ত্যাগ করুন। বিদেশ ভ্রমণের সময় আপনাকে ইমিগ্রেশন অফিসারকে আপনার পাসপোর্ট দেখাতে হবে।

বিমান বা প্লেনে চড়ার টিপস

আপনি যদি প্রথমবার বিমান ভ্রমণ করে থাকেন তবে এই বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখবেন। আশা করছি এই টিপসগুলো আপনার বিমান যাত্রাকে আরও আরামদায়ক ও আনন্দদায়ক করে তুলবে।

১. মাথা ঘোরার সমস্যা থাকলে যা যা করা উচিত

বাসের পাশাপাশি বিমানেও অনেকের মাথা ঘুরাতে পারে। তবে এ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব না। আপনার যদি এ ধরনের সমস্যা থাকে তবে সবসময় প্রথম শ্রেণির সিট বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করুন। তবে বিমানে উঠলে মাথা ঘুরানোর সমস্যা খুব কমই দেখা যায়।

২. ব্যাগের আকৃতি ও ওজনের দিকে খেয়াল রাখুন

একেক এয়ারলাইন্সে একেক পরিমান ওজন বহন করার অনুমতি দেওয়া হয়। আপনি চাইলে টিকেট কাটার সময় তাদের থেকে জেনে নিতে পারেন অথবা অনলাইনের ওই এয়ারলাইন্সের সাইট থেকে জেনে নিতে পারেন। এতে করে মালামাল বহনের ঝামেলায় পরার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন। যে পরিমান মালামাল বহন করতে পারবেন সেই পরিমান মালামাল নিয়ে বাস হতে বেড় হউন। না হয় মালামাল এয়ারপোর্টে ফেলে যাওয়া লাগতে পারে।

৩. আগে আগে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করুন

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা কিনা কোথাও রওয়ান দিলে একদম তাড়াহুড়ো করে বের হয়। অর্থাৎ হাতে সময় নিয়ে বের হয় না। তবে বিমান ভ্রমণের সময় এই সকল কাজ থেকে দূরে থাকুন। বিমান আপনার জন্য অপেক্ষা করবে না। এর বিমান বা প্লেনে অনেক নিয়ম পাড়ি দিয়ে আপনাকে বিমানের ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। তাই কোথাও একটু দেরি হয়ে গেলে আপনার ফ্লাইট মিস হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রথমবার বিমান ভ্রমণ হলে অন্তত ১ ঘণ্টা আগে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাস্তায় জ্যামের কথা ভুলে গেলে তো আপনার ভ্রমনই শেষ।

৪. সব কিছু বহন করা যাবে না

বিমানে ধাতব ও ধারালো জিনিস নিয়ে ওঠা নিষেধ। বিমান টিকেট কাটার আগে ওই এয়ালাইন্সের সাইট থেকে ভালো করেজেনে নিনি কি কি বহন করা যাবে আর যাবে না। না হয় আপনার অনেক পছন্দের জিনিসও এয়ারপোর্টে ফেলে যাওয়া লাগতে পারে। নির্দিষ্ট পরিমান ওজনের জিনিস আপনি সাথে বহন করতে পারেবন। তবে অতিরিক্ত ওজনের জিনিস বহন করতে চাইলে আপনাকে বিশেষ ফি প্রদান করতে হবে। আর এই ফি বেশ ব্যাবহুল।

৫. সান ব্লক ক্রিম ব্যবহার করুন

বিমান যেহেতু ভুমি হতে অনেক উপর দিয়ে চলাচল করে। সেহেতু স্বাভাবিক ভাবেই রোদের তাপমাত্রা ও রেডিয়েশন অনেক বেশি থাকে। আর বিশেষ গবেষণায় দেখা যায় যে, ভুমি থেকে বিমানের রোদ আপনার স্কিনের জন্য প্রায় ১০ গুন পরিমান ক্ষতিকর। তাই স্কিনের ক্ষতি থেকে বাচতে চাইলে অবশ্যই সানব্লক ক্রিম ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে মুখে।

৬. খাবার কেনর ব্যাপারে সচেতন হউন

বিমানের মধ্যে অনেক খাবারে ব্যবস্থা থাকে। তবে সাধারন রেস্টুরেন্ট কিংবা হোটেলের তুলনায় বেশ চড়া দাম দিয়ে কিনতে হয়। তাই যতটা সম্ভব অযথা খাবার কেনা থেকে বিরত থাকুন। আপনি চাইলে স্নাক্স জাতীয় খাবার সাথে নিয়ে বিমানে উঠতে পারেন। তবে প্রায় সকল ফ্লাইটেই আপনার জন্য নাস্তা ও পানির ব্যাবস্থা থাকবে। অনেক বিমানে বিয়ার পরিবেশন করা হয়ে থাকে। তবে আপনি যদি এগুলোতে নিয়মিত অভ্যাস্ত না থাকেন তবে বিয়ার পান করা থেকে বিরত থাকুন।

৭. উইকেন্ড কিংবা বিশেষ দিনে বিমান ভ্রমণ করতে চাইলে আগেই টিকেট বুকিং দিন

সাধারন পরিবহনের মতো বিমানেও বিশেষ দিনগুলোতে বেশ ভীর থাকে। তাই আপনি যদি বিশেষ দিনের বিমান ভ্রমণ করতে চান তবে অবশ্যই আগে থেকে টিকেট কেটে রাখুন এক মাস আগেই কাটুন।

আমরা এই ডিসেম্বর মাসে ২৫ তারিখের দিকে কক্সবাজারে বিমানে যাওয়ার প্লান করছিলাম। মাসের ১২ তারিখে বুকিং দিতে গিয়ে দেখি ওই দিনের প্রথম সারির কোন টিকেট ফাকা নেই। এবং বেশিরভাগ সিট বুকিং শেষ।

৮. বিমান বন্দর লাউঞ্জ

প্রায় প্রতিটা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ থাকে। যেখানে আপনি বিভিন্ন ধনের খাবার বিশ্রাম, ও পানীয় পানের সুবিধা পেয়ে থাকবেন। ভিবিন্ন ট্রাভেলস কার্ড কিংবা ব্যাংক তাদর ক্রেডিট কার্ড ইউজারদের ফ্রিতে খাবার সহ লাউঞ্জে প্রবেশ করার সুযোগ দেয়। তবে আপনি যদি কার্ড ধারী না হয়ে থাকেন তাহলে আপনি নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে লাউঞ্জে প্রবেশ করতে পারবেন।

৯. পাশের যাত্রীর সাথে অযথা কথা বলে থেকে বিরত থাকুন

আমাদের অনেকেই পাশে বসা লোকটির সাথে খুচরা আলাপে জড়িয়ে যাই। সবাই বেশি কথা পছন্দ করে না। আবার অনেকে জোরে বা খুব উচ্চস্বরে কথা বলে থাকে। এরা একদম ভুলেই যায় এটি তাদের ঘর না। তাই আপনি আস্তে আস্তে কথা বলার চেষ্টা করুন। এতে করে পাশের যাত্রীরা বিরক্ত হবে না।

১০. বাচ্চাদের গায়ে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

অনেকেই বাচ্চাদের দেখলে তাদের সাথে দুষ্টুমি করতে পছন্দ করে। তবে আমার মতে অপরিচিত কারো বাচ্চার সাথে এগুলোতে না জড়ানোই উত্তম। সবার মন-মানুসিকতা একই না।

১১. নয়েজ ক্যান্সেলিং হেডফোন

বিমানে সচারাচার একটু সাউন্ড হয়। তাই যাত্রা পথে এই শব্দ আপনার জন্য অসস্থির কারন হতে পারে। তবে আপনি এই বিরক্তকর সাউন্ড থেকে বাচতে আপনার সাথে একটি ভালো হেডফোন নিতে পারেন।

১২. মার্জিত থাকুন ভদ্রতার পরিচয় দিন

আমরা ইন্টারনেটে অনেক সময় বিমানের মধ্যে হাতাহাতি কিংবা কথা কাটাকাটির ভিডিও দেখতে পাই। আসলে আমাদের মধ্যে অনেক হ্যাডা ভরা ভাব ওয়ালা পাবলিক আছে যারা কিনা সব যায়গায় উল্টা পাল্টা ভাব মারে। নিজেকে অনেক কিছু মনে করে বসে। অন্য মানুষের সাথে আচরন কিভাবে করতে হয় সেটা ভুলে যায়। আপনি মার্জিত থাকুন কোন সমস্যা ফেস করলে ফ্লাইটে থাকা ক্রুদের ডেকে সুন্দর ভাবে বলুন। পাশের যাত্রি দ্বারা বিরক্ত হলে সরাসরি তাকে না বলে কেবিন ক্রুদের দিয়ে বলুন।

১৩. টয়লেট ব্যবহারের সময়

আসলে বিমান বন্দরে যেতে যেতে অনেকে বাথরুম চেপে বসে। আর তাড়াহুড়ার কারনে সময় হয়ে উঠে না। বিমানে উঠে সিরিয়ালে পড়া লাগে। এর যেহেতু বিমানের দায়িত্বে থাকা লোকজন আপনাকে অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ নির্দিষ্ট উচ্চতায় না যাওয়া পর্যন্ত উঠে দাড়াতে পারবেন না। আপনাকে অনেক সময় বসে থাকতে হতে পারে। তাই বাসা থেকে বেড় হওয়ার আগে কিংবা এয়ারপোর্টে গিয়ে বিমানে ওঠার আগে বাথরুমে যেতে পারেন। তবে সময়ের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন।

১৪. আপনার ডিভাইসগুলোতে চার্জ দিয়ে নিন

আপনাকে যেহেতু অনেক সময় বাহিরে থাকতে হবে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত আপনি আপনার ফোনে চার্জ দিতে পারবেন না। তাই বাসা দিয়ে বের হওয়ার আগে ভালো ভাবে চার্জ দিয়ে নিন। সাথে ফোনে কিছু ইবুক, মুভি ও গান লোড করে নিতে পারেন।

বিমান ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেলে কি করা উচিত?

টিকেট ছাড়া বিমানে চড়া কিংবা বিমান ভ্রমণ সম্ভব না। বিমানের টিকেট হারানো একটি কমন সমস্যা। বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি বলেন- অনেক গ্রাহকই এই ধরনের সমস্যায় পড়েন। আর এই সমস্যা থেকে বাচতে অনেকেই আজাকাল ই-টিকেতে ঝুঁকছেন। বেশির ভাগ এয়ার লাইন্সই হাড়িয়ে যাওয়া টিকেটের জন্য রি-ফান্ড করে থাকে না। আপনাকে নতুন টিকেট কিনে বিমানে চড়তে করতে হবে। যাহোক রাস্তা যে একদম যে খালি তা কিন্তু নয়।

১. তাড়াহুড়ো করবেন না

টিকেট হাড়িয়ে গেলে তাড়াহুড়ো করবেন না। ধৈর্য ধরুন। নাহয় আন্য কোন ভুল করে ফেলতে পারেন। প্রথমত মাথা ঠাণ্ডা করে একটু চিন্তা করুন। কোথায় রাখতে পারেন। আপনার জিনিস পত্রের মধ্যে একবার খুঁজে দেখুন।

২. এজেন্সির সাথে যোগাযোগ

আপনার কাছে যদি ফটোকপি থাকে বা ছবি তোলা থাকে, অথবা আপনার কাছে যদি টিকেট নাম্বার থাকে তবে আপনি যে এজেন্সি হতে টিকেট কিনছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন।

৩. থানায় জিডি করুন

আপনার হারানো টিকেট দিয়ে যাতে কোন বিপদে না পড়তে হয় তাই আপনার নিকটস্থ থানায় একটি জিডি করুন। থানায় জিডি করা একদম ফ্রি ও সহজ। আজকাল অনলাইনেও জিডি করা যায়।

৪. বিমান টিকেট মুল্য রিফান্ডের জন্য আবেদন করুন

আজকাল অনেক এয়ার লাইন্স রিফান্ড সুবিধা দিয়ে থাকে তবে সংখ্যায় অনেক কম। তবে যারা করে না তাদের সাথে তর্কে যাবেন না। কারন তাদের পলিসি নেই। আপনি গিয়ে যুক্তি দেখাতে পারেন না যে অন্য কোম্পানি তো দেয়। আপনি কেবল আবেদন করে রাখতে পারেন। অনেক সময় রিফান্ড হতে ৩০ দিন থেকে ১ বছর সময় লাগতে পারে।

৫. টিকেট বিমান ছাড়া ভ্রমণ সম্ভব না

আপনার টিকেট হাড়িয়ে গেলে এজেন্সি যদি আপনাকে রিপ্লসেমেন্ট টিকেট না দেয় অবশ্যই আপনাকে নতুন টিকেট কিনে ভ্রমণ করতে হবে।

বিমান এর টয়লেটের বর্জ্য কোথায় যায়?

কখনো কি ভেবেছেন বিমানের বর্জ্য বা ময়লা কোথায় যায়। আচ্ছা আসুন জেনে নেওয়া যাক বিমানের টয়লেটের ময়লা ও অন্যান্য বর্জ্য কোথায় যায়।

বিমানের লেজের দিকে টয়লেটের সাথে একটি বিশেষ লাইন থাকে। যেখানে সকল বর্জ্য গিয়ে জমা হয়। বিমান ল্যান্ড করার পর যাত্রী সব নেমে গেলে বিমানের কাছে একটি হানি ট্রাক নিয়ে আসা হয়। বিশেষ পাইপের সাহায্যে সকল বর্জ্য ট্রাকে করে রিসাইকেলের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

বিমানের টিকেটের দাম কত?

এয়ার লাইন্স, ক্লাস ও দেশ ভেদে বিমানের ভাড়ার পার্থক্য হয়ে থাকে। এবং বিশেষ দিনগুলোতে দাম উঠা নামা করে থাকে। বর্তমান টিকেটের ঢাকা টু দাম্মাম বিমান ভাড়া, ঢাকা টু জেদ্দা বিমান ভাড়া কত, ঢাকা টু রিয়াদ, ঢাকা টু দুবাই বিমান ভাড়া, জানতে গুগুলে Air Ticket Bd লিখে সার্চ করলে অনেক সাইট আসবে। সেখানে আপনার গন্তব্য ও তারিখ বসিয়ে সার্চ করলে এভেইল এভেল সিট। বর্তমান টিকেটের দাম একদম সঠিক ভাবে জানতে পারবেন। আমি ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাইছি না।

জেদ্দা থেকে ঢাকার বিমান ভাড়া

জেদ্দা থেকে ঢাকার বিমান ভাড়া এডাল্ট প্রতিজন ৩২০০ রিয়েল, শিশুদের ১২ বছরের নিচে মূল ভাড়ার ৭৫% অর্থাৎ মূল ভাড়া ১০০ টাকা হলে ৭৫ টাকা+ট্যাক্স। এবং ২ বছরের নিচের বাঁচাদের জন্য মূল ভাড়ার ২৫%+ট্যাক্স।

বিঃ দ্রঃ এখানে দেওয়া ভাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০ সালের। ভাড়া পরিবর্তনশীল। অবশ্যই কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা উত্তম।

সৌদি এয়ারলাইন্স ঢাকা অফিস

প্রিয় পাঠক, সৌদি এয়ারলাইন্স এর ঢাকা অফিসের ঠিকানাঃ প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেল, ১০৭, কাওরান বাজার, ঢাকা, বাংলাদেশ। হটলাইন/ফোন নাম্বারঃ +88 02 8140255

সৌদি এয়ারলাইন্স ঢাকা কার্গো সেবার জন্য

কার্গো সম্পর্কিত তথ্য সেবার জন্য সৌদি এয়ারলাইন্স এ যেখানে যোগাযোগ করবেনঃ কার্গো ভিলেজ, হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, কুর্মিটোলা, ঢাকা। ফোন নাম্বরঃ +৮৮ ০২ ৮৯০১১৭২

বিমান বাংলাদেশ এয়ারকাইন্স টিকেট চেক করার নিয়ম কি?

প্রথমে Biman-airlines.com-এই সাইটে প্রবেশ করুন। এর পর আপনার টিকেটের PNR (Passanger name record) বা ভেন্ডর লোকেটর, নাম, ও ইমেইল লিখুন এবং শো আপগ্রেড বাটনে ক্লিক করুন। অথবা কল করুন ০১৯৯০৯৯৭৯৯৭ নাম্বারে।

সর্বশেষ

সম্মানিত ভিজিটর, বিমান ভ্রমণ সম্পর্কিত টিপসগুলো অনুসরন করুন। আপনাদের কোন মতামত, পরামর্শ, কিংবা অভিযোগ শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে। আপনার বিমান ভ্রমণ শুভ হোক।

10 Comments



  1. Hi to all, how is everything, I think every one is getting more from this web
    page, and your views are nice for new users.

  2. Hello, I think your website might be having browser compatibility issues.
    When I look at your blog site in Ie, it looks fine but when opening in Internet Explorer, it has some overlapping.
    I just wanted to give you a quick heads up! Other then that, amazing blog!

  3. After checking out a handful of the articles on your blog, I really like your way of writing a blog.I saved as a favorite it to my bookmark site list and will be checking back in the near future.Take a look at my website too and let me know your opinion.

  4. Wonderful beat ! I wish to apprentice whilst you amend your web site, how could i
    subscribe for a weblog site? The account aided me a acceptable deal.
    I have been a little bit acquainted of this your
    broadcast offered vibrant clear concept

  5. Its like you read my mind! You appear to know a lot about this, like you
    wrote the book in it or something. I think that you can do with a
    few pics to drive the message home a bit, but instead
    of that, this is great blog. A great read.
    I will definitely be back.

  6. Hi it’s me, I am also visiting this site regularly, this web site is genuinely pleasant and the visitors are truly sharing good thoughts.



Leave a Reply