https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/11/lose-belly-fat.jpg

পেটের মেদ বা ভুঁড়ি নিয়ে যে কি ভীষণ রকম বিব্রকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় তা কেবল তিনিই বুজতে পারেন যার পেটে মেদ আছে ও স্বাস্থ্য নিয়ে একটু সচেতন। পেটের মেদ যেমন একদিনে তৈরি হয় না তেমনি চাইলে একদিনেই কমানো যায় না আর কমানোর উপায়ও নেই। এজন্য অবশ্যই সঠিক নিয়ম মানতে হবে ও পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন হবে।

সম্মানিত ভিজিটর, আপনি যদি ছেলে বা মেয়েদের পেটের মেদ কমানোর উপায় খুঁজে থাকেন তবে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। কারন আজকের লেখাজুড়ে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি পেটের মেদ কমানোর উপায় ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। ভুঁড়ি বা মেদ কমাতে কি কি খাবার খেতে হবে, মেদ কমানোর ব্যায়াম ও কি কি কাজ করা যাবে না এগুলো নিয়ে বিস্তারিত। তবে মেদ কমানোর উপায় জানার আগে হওয়ার কারন জানান উচিত।

পেটের মেদ বা ভুঁড়ি বাড়ার কারন কি?

বিশেষজ্ঞদের মতে পেটের মেদ বাড়ার অন্যতম কারনসমূহ হচ্ছে অতিরিক্ত মশলা জাতীয় ও মিষ্টি খাবার গ্রহণ, খাবারে অতিরিক্ত তেল ও তেলে ভাজা খাদ্য গ্রহণ, রান্নায় একই তেল বারবার ব্যবহার, মদ্যপান, নিয়মিত লাল মাংস বা রেড মিট খাওয়া, বাহিরের অস্বাস্থ্যকর খাবার দীর্ঘ সময় বসে বসে কাজ করা ইত্যাদি। তবে অনেকের জিনগত কারনেও শরীরে চর্বি বা মেদ হয়ে থাকে।

পেটের মেদ কমানোর উপায়

প্রিয় ভিজিটর, তাহলে চলুন কথা না বাড়িয়ে পেটের ভুঁড়ি কমানোর উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক-

১) ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার

পেটের মেদ বাড়ার সব চেয়ে বড় কারন হচ্ছে খাদ্যাভ্যাস। তাই ভুঁড়ি কমাতে সর্বপ্রথম আপনার খাবার তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে। সঠিক মাত্রায় সুষম খাবার গ্রহণ ও খবার তালিকায় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন- সবুজ শাঁকসবজি, ফলমূল, লাল চালের ভাত, লাল আটা দিয়ে তৈরি খাবার ইত্যাদি যোগ করুন। পাশাপাশি একবারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

২) চিন্তা মুক্ত থাকুন

অতিরিক্ত চিন্তা মানুষকে চিন্তাবিদ বানায় না উপরন্তু মানুষের শরীরে হাজারো সমস্যা ও রোগ সৃষ্টি করে। গবেষকদের মতে অতিরিক্ত চিন্তার কারনে কোমর বা পেটের চারপাশে মেদ জমতে পারে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমানোর ও চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। মাথায় বেশি চিন্তা কাজ করলে বাহিরে বের হন, ভ্রমনে যান, আড্ডা দিন, রবের নিকট প্রার্থনা করুন। বাংলা ভ্রমণ গাইড ও টিপস

৩) খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি করুন

খাবার খেয়ে সাথে সাথে বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে পড়া কিংবা মোবাইল পিসি নিয়ে বসে পড়ার বদ অভ্যাস আমাদের মধ্যে কমন। আর এই অভ্যাস পেটের মেদ বাড়ার অন্যতম কারন। খাবার খেয়ে সাথে সাথে বসে বা শুয়ে পড়লে খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং পেটে চর্বি জমতে থাকে। তাই খাবার শেষে সাথে সাথে শুয়ে বা বসে না পড়ে কিছু সময় (১০-১৫ মিনিট) পায়চারী বা হাঁটাহাঁটি করুন। তবে দৌড়াদৌড়ি করা যাবে না।

৪) সারা দিন বসে বসে কাজ করা বাদ দিন

যারা অফিসে কাজ করে, ফ্রিল্যান্সিং করে, কিংবা দোকানে বসেন তাদের বেশিরভাগই সারা দিন বসে বসে কাজ করে। আর সারা দিন টেবিল চেয়ার বসে কাজ করলে পেটে সহজে মেদ জমে যায় ও পেট গোল হতে থাকে। আপনি যদি দিনের একটা বড় অংশ সময় বসে বসে কাজ করে তাহলে আজই আপনার অভ্যাস বদল করুন। পেটে মেদ কমাতে প্রতি এক ঘণ্টা পর পর ১০-১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। হাটার সুযোগ না থাকলে মাঝে মাঝে উঠে দাঁড়ান।

৫) পানি ও লেবুর রস

সকাল বেলা খালি পেটে পানি পান করা শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। তবে আপনি চাইলে একটু অন্যরকম সকাল শুরু করতে পারেন। বিশেষ করে ভুঁড়ি কমানোর জন্য। প্রথমে এক গ্লাস নরমাল পানি পান করে নিন। এর পড়ে সামান্য কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। আর এটি আপনার হজম শক্তির উন্নতি করবে। যা পেটের মেদ বাড়ার গতি ধীর করে দিতে বেশ কার্যকর।

৬) গ্রিন টি পান করুন

দিনে কয়েক কাপ চা কফি পান করে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম না। একটু খেয়াল করে তাকালেই খেয়াল করবেন এদের পেটের সাইজ একটু গোলগাল। চা পান করুন তবে একটু ভিন্ন উপায়ে করুন। দুধ দিয়ে চা পানের পরিবর্তে গ্রিন টি বা সবুজ চায়ে মনোযোগ দিন। গ্রিন টি এর উপকারিতা অনেকেরই জানা। তবে আপনি যদি না জানেন তবে জেনে নিন এতে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা কিনা আমাদের পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে।

৭) মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার

মিষ্টি না খেয়ে থাকা বেশ মুশকিল। নামটাই কেমন যেন একটু লোভী লোভী টাইপের। না না লোভ করা যাবে না ও আপনার পেটের সাইজ গোল করে দিবে। যারা বেশি মিষ্টি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খায় তাদের পেটের মেদ বাড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। আপনি যদি বেশি মিষ্টি জাতীয় খাবার খান তবে তা হতে পারে ডায়াবেটিস এর অন্যতম কারন। তাই পেটের মেদ কমাতে মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া কমান।

৮) কাঁচা রসুন খান

কি অবাক হয়ে গেলেন? অবাক হওয়ার কিছু নেই। রসুনের নানা উপকারিতা রয়েছে। পেটের মেদ কমাতে সকালে কয়েক কোয়া কাঁচা রসুন চুষে চুষে খান। কারন কাঁচা রসুন শরীরে রক্ত প্রবাহ সহজ করে তোলে। ফলে আমাদের শরীরে মেদ জমতে পারে না। তবে অতিরিক্ত পরিমাণ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৯) নেশাজাত দ্রব পরিহার করুন

ধুমপান ও মধ্যপান আমাদের সমাজের অন্যতম ব্যাধি। দিন দিন এই ব্যাধি আরও প্রকট আকার ধারন করছে। ঢাকা শহর বারে ছেয়ে যাচ্ছে এখন বলতে গেলে অলিতে গলিতে মদ পাওয়া যাচ্ছে। পার্টি অনুষ্ঠান যেন এ ছাড়া চলেই না। দেখার কেউ নেই। দুই দিন পর পর উদ্ধার অভিযান চালানো হয় কেবল লোক দেখানোর জন্য। যারা এর মূল হোতা তাদের বাড়ির কাছেও যায় না। যাহোক নেশা না শান্তি দিবে ইহকালে না পরকালে। আপনি যদি একজন ধূমপায়ী হয়ে থাকেন কিংবা অন্য কোন নেশা করেন তাহলে আজি পরিহার করুন। ধূমপান ত্যাগের উপায় পড়ুন

১০) স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন

স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন আপনাকে হাজারো রোগ থেকে দূরে রাখবে। পেটে মেদ হওয়ার অন্যতম কারন অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। পেটের মেদ কমাতে চাইলে স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপনের দিকে নজর দিন। এ জন্য আপনাকে দামি বাড়িতে থাকা কিংবা দামি গাড়িতে চড়তে হবে না। ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত, পরিষ্কার পরিছন্ন থাকা, অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার, নিয়মিত ঘুমানো, চিন্তামুক্ত থাকা সুস্থতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম

নিয়মিত ব্যায়াম করার মাধ্যমে পেটের মেদ কমানো সম্ভব। আপনি চাইলে বাসায় বসেই জিমের মতো ব্যায়াম করতে পারেন। চলুন পেটের মেদ কমানোর কার্যকরী কয়েকটি ব্যায়াম সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

১) ব্রিস্ক ওয়াকিং ব্যায়াম

সকালে বা বিকেলে ব্রিক্স ওয়াকিং করে পেটের মেদ কমাতে পারেন। এই ব্যায়াম করার নিয়ম হচ্ছে- প্রথমে ১ মিনিট সময় ধীরে ধীরে হাটুন, এর পরের ৩০ সেকেন্ড জোরে হাটুন এভাবে আবার ১ মিনিট আসতে ও ৩০ সেকেন্ড জোরে হাঁটুন। একবারে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ব্রিস্ক ওয়াকিং ব্যায়াম করুন।

২) ক্রাঞ্চ ব্যায়াম

ফ্লোরে বা মাটিতে একটি মাদুর বিছিয়ে নিন। এবার চিত হয়ে শুয়ে যান। মাথার পিছনের দিকে হাত দিন এবং হাঁটু ভাজ করুন। এবার হাঁটু বুকের কাছাকাছি এবং মাথা হাঁটুর কাছাকাছি আনার চেষ্টা করুন। দিনে নিয়ম করে দুই বেলা ১০ থেকে ২০ বার এই ব্যায়াম করলে পেটের মেদ কমে যাবে। ব্যায়াম করার সময় হাঁটু ও মাথা এক সাথে করার সময় শ্বাস নিন এবং পূর্বের অবস্থায় যাওয়ার সময় শ্বাস ছেড়ে দিন।

৩) জগিং

জগিং এর সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। পেটের মেদ কমাতে এই ব্যায়ামটি বেশ কার্যকর। সকালে ফজরের নামাজ শেষে প্রথমে এক মিনিট জগিং ও ত্রিশ সেকেন্ড সময় জোরে দৌড়ান, আবার এক মিনিট জগিং এবং ৩০ সেকেন্ড দৌড়ান। পেটের মেদ বা ভুঁড়ি কমাতে ঠিক এইভাবে নিয়মিত ৫-১০ মিনিট জগিং করুন।

৪) ফ্লাটার কিক ব্যায়াম

পেটের মেদ কমাতে ফ্লাটার কিক ব্যায়ামটি বেশ কাজের। মাদুরে চিত হয়ে শুয়ে দুই হাত হিপ অর্থাৎ কোমরের নিচে রাখুন। আপনার মাথা কাঁধ সহ উপরের দিকে উঠান এবং দু পা উপরে নিচে ওঠানামা করুন। এভাবে ৫ থেকে ১০ বার করুন।

আরও পড়ুনঃ পাছা মোটা করার উপায়। বুকের স্তন বড় করার উপায়

সর্বশেষ

প্রিয় ভিজিটর আজকের মতো এখানে শেষ করছি। আমাদের লেখা নিয়ে কোন মতামত অভিযোগ, কিংবা পরামর্শ থাকলে শেয়ার করুন আমাদের সাথে। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। টিপসওয়ালী ডট কমের সাথেই থাকুন।

বাসায় ব্যায়াম করার নিয়ম