Spread the love

মুখ ফর্সা করার ভালো ক্রিম কোনগুলো? কিংবা কোন ক্রিম ব্যবহার করলে রাতারাতি ত্বক ফর্সা হয়? কোথায় আসল ক্রিম কিনতে পাওয়া যায়? জি আপনিও যদি এই একই উত্তর খুঁজে থাকেন তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন।

প্রিয় ভিজিটর আজকের লেখা জুড়ে কথা হবে বাজারে থাকা ও স্কিন বিশেষজ্ঞদের সাজেস্ট করা সেরা ১০ টি স্থায়ীভাবে ফেস বা মুখ ফর্সা করার ক্রিম সম্পর্কে। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক এবং জেনে নেওয়া যাক মুখ ফর্সা করার ভালো ও কার্যকরী ক্রিম কোনগুলো সে সম্পর্কে।

 ১. ওয়াও ফেয়ারনেস ক্রিম WOW Fairness cream

wow fairness

কোন প্রকার ক্ষতিকর ক্যামিকেল ছাড়াই তৈরি হওয়া মুখ ফর্সা করার পাশাপাশি এই ক্রিমটির রয়েছে নানা গুণাবলি। এটা  আপনার ত্বককে   UVA এবং UBV রশ্মি থেকে রক্ষা করে। আপনার বয়সের দাগগুলি কম দৃশমান করে তোলে, বার্ধক্য জনিত লক্ষণ ধীর করে দেয় এবং আপনার ত্বককে করে তোলে আর বেশি উজ্জ্বল। এটি চিকিৎসাগত ভাবে প্রমাণিত এবং ত্বক বান্ধব। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আপনাকে প্রাথমিক ভাবে সামান্য কিছুদিন ব্যবহার করে এর কার্যকরীতা দেখে পরবর্তীতে নিয়মিত ব্যবহার করার পরামর্শ প্রদান করেন।

২. হিমালয় হার্বালস ক্লিয়ার কমপ্লেক্সিয়ন হোয়াইটেনিং ডে ক্রিম

himalaya day cream

Himalaya Herbals clear complexion whitening day cream টি আপানে মুখের স্কিনে একটি উজ্জ্বল আভা এনে দিতে সক্ষম। কোম্পানি দাবি করেন বিশেষ নন-গ্রেসারি ফরমুলা ও হারবাল উপাদানের সংমিশ্রণে এই ফেয়ারনেস ক্রিমটি তৈরি করা হয়। যা কিন আপনার মুখের কালচে ভাব দূর করতে সক্ষম ও আপনার স্কিনের উজ্জলতা বাড়িয়ে দেয়। তবে আপনি সাথে সাথেই ফলাফল পাবেন না। মোটামুটি ২-৩ মাস ব্যবহারে ধীরে ধীরে আপনার মুখের ত্বক ফর্সা হতে শুরু করবে। এই মুখ ফর্সা করার ক্রিমটিতে রয়েছে লিকারিস এক্সট্রাক্ট যা প্রাকৃতিক ভাবে আপনার মুখের উজ্জলতা বাড়াতে কাজ করে থাকে।

৩. পিওর রেডিয়েন্স ডে ক্রিম – StBotanica Pure Radiance Day Cream

পিওর রেডিয়েন্স ডে ক্রিম স্ক্রিন ফর্সা করার ক্রিমটি এক ধরনের ময়শ্চারাইজিং ক্রিম। ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, এবং ই, বোটানিক্যাল হায়ালুরোনিক এসিড, হাইড্রলাইজড ক্লজেন  এবং সিয়া বাটার এর সমন্বয়ে তৈরি। আর এসকল উপাদান আপনার মুখে উজ্জলা আনার পাশাপাশি আপনার মুখে আর বেশি ময়শ্চারাইজ ও হাইড্রেট করে। এছাড়াও এতে থাকা উপাদানগুলো আপনার স্কিনে দীর্ঘ সময় আদ্রতা নিশ্চিত করে এবং আপনার স্কিনকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে বাঁচায়।

৪. বেল্লা ভিটা পাপায়ব্লেম – PapyBlem Anti-Blemish & Pigmentation Face Gel Cream

https://tipswali.com/wp-content/uploads/2020/12/face-cream.png

বেল্লা ভিটা পাপায়ব্লেম ক্রিমটি দিনে কিংবা রাতে সবসময়ে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এটি সবধরনের ত্বকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ আপনার ত্বক যদি বেশি শুষ্ক বা তেলতেলে হয় কোন সমস্যা নেই। এই ফেস ফর্সা করার ক্রিমটি পেপে এবং জাফরানের নির্যাস, অ্যালোভেরা এর সংমিশ্রণের তৈরি। যা কিনা আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর পাশাপাশি আপনার ত্বকে পুরনো কোন দাগ থাকলে পুরতন দাগ দূর করতেও বেশ কার্যকরী। এছাড়াও রোদে পোড়া থেকেও আপনার স্কিনকে বাঁচায়।

৫. O3+ Professional Whitening Cream

এই বিশেষ ক্রিমটিও সকল স্কিনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দাবি করে, এটি আপনার হাইপারপিগমেন্টেশন কমায় এবং আপনার ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি হতে রক্ষাকরে। মুলত যারা কিনা দিনের বেলায় ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই মুখ ফর্সা করার ক্রিমটি। এর প্যাকেজিংটাও বেস দারুন। বিশেষ করে আপনি যদি ট্যুরে বা দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে চান আপনার বহনের ঝামেলা পোহাতে হবে না। 

৬. পাম ই-লুমিনেন্স ডিপ ময়শ্চারাইজিং ক্রিম – Plum E-Luminence

১২ টি প্রাকৃতিক উপাদান- ক্যালেন্ডুলা, কোকুম, সূর্যমুখী, ক্যামোমাইল, আঙ্গুর, গোলাপ, সি বাক্সথরন এর সমন্বয়ে তৈরি করা বিশেষ এই মুখ ফর্সা করার ক্রিমটি আপনার মুখের ন্যাচারাল গ্লো ধরে রাখতে সক্ষম। এতে থাকা গ্লিসারিন, ভিটামিন ই এবং জবা তেল স্বাভাবিক, শুকনো এবং খুব শুষ্ক ত্বকের তীব্র হাইড্রেশন সরবরাহ করে। কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিকর উপাদান না থাকায় অনেক স্কিন ও বিউটি বিশেষজ্ঞ এই ক্রিমটি সাজেস্ট করে থাকেন। Plum E-Luminence ক্রিমটি সব ধরনের স্কিনে ব্যবহার করা যায়।

৭. ওলায় হোয়াইট রেডিএন্স – Olay White Radiance

অন্যান্য ক্রিমের তুলনায় এই ক্রিমটি কিছুটা আলাদা। প্রাকৃতিক উপায়ে আপনার মুখের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এটি পার্ল অপটিক্স প্রযুক্তির মতো পরিশীলিত পদ্ধতি ব্যবহার করে। বিশেষ এই মুখ ফর্সা করার ক্রিমটিতে রয়েছে লাইট-ওয়েট তেক্সচার এবং গোলাপ ও জেসমিনের আকর্ষণীয় সুবাস। হাইড্রেটিং এর মাধ্যমে এটি আপনার মুখের ডার্ক সাইকেলস দূর করে, এবং পাশাপাশি আপনার মুখের পুরনো ডার্ক স্পট দূর করতে Olay White Radiance Tone Perfecting Hydrating Essence বেশ কার্যকরী।

৮. Pond’s White Beauty

বাংলাদেশের বাজারে পন্ডস হোয়াইট বিউটি সম্পর্কে মোটামুটি সবাই জানে। ভিটামিন বি৩ সমৃদ্ধ এই স্কিন লাইটিং ক্রিমটি পন্ডস ইন্সটিটিউট এর গবেষকদের বিশেষ গবেষণা ও ফরমুলা দিয়ে তৈরি। এটি আপনার মুখের কালচে ভাব দূর করার পাশাপাশি আপনার মুখের স্কিনের দাগ দূর করতে সক্ষম। এটি আপনাকে UVA & UVB রশ্মি থেকে রক্ষা করে। একটি কথা না বললেই নয় Ponds এর এই বিশেষ ক্রিমটি তেলতেলে মুখের জন্য বেশি কার্যকর। এতে রয়েছে SPF ও টাইটানিয়াম ডিওক্সাইড।

৯. লোটাস হারবালস হোয়াইট গ্লো – Lotus Herbals Whiteglow Skin Whitening Gel Creme

Screen cream

লোটাসের এই ক্রিমটিতে এমন বিশেষ ফলের নির্যাস রয়েছে যা আপনার ত্বককে গভীরভাবে পুষ্ট করে এবং আরও উজ্জ্বল করে। এটি আপনার ত্বককে সূর্য হতে রক্ষা করে এবং আপনার মুখের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর করে। টানা ২-৩ মাস ব্যবহার করলে বেশ ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

১০. Snow White Cream by Secret Key

snow white cream

স্নো হোয়াইট ক্রিম বাংলাদেশের বাজারে ততোটা সহজলভ্য না। এটি মুলত কোরিয়ান প্রোডাক্ট। এটি কেবল আপনার ত্বককে উজ্জ্বলই করে না। ত্বক উজ্জ্বল করার পাশাপাশি আপনার মুখ ময়শ্চারাইজ এবং চেহারায় স্বাস্থ্যউজ্জ্বল ভাব এনে দেয়। মুলত হাইড্রেশনে সহায়তা করে এমন উদ্ভিদ-উদ্ভূত অ্যামিনো অ্যাসিড বেটেইন সামগ্রীর সমন্বয়ে এটি  তৈরি করা হয়েছে। তবে আপনার স্কিন যদি শুষ্ক হয়ে থাকে তবে এটি আপনার ব্যবহার না করাই উত্তম।

কোথায় ফর্সা হওয়ার আসল ক্রিম কিনতে পাওয়া যায়?

ভেজালের এই যুগে আসল নকল চিনতে পারা বেশ কঠিন কাজ। প্রতিদিন সংবাদ পত্র কিংবা নিউজ চ্যানেলে নকল ফেসিয়াল পন্যের কারখানার চিত্র তুলে ধরা হয়। এই কঠিন সময়ে ব্রান্ড শপ ছাড়া লোকাল শপ থেকে ফর্সা হওয়ার ক্রিম কেনা উচিত নয়। এরা কিছুটা হলেও মান রক্ষা করে। অনুমোদিত ও ব্রান্ড শপ গুলতে ফর্সা হওয়ার আসল ক্রিম কিনতে পাওয়া যায়।

 ফর্সা হওয়ার ক্রিমের দাম কেমন বা কতো?

বাজারে বিভিন্ন ব্রান্ডের ও বিভিন্ন দামের ফর্সা হওয়ার ক্রিম কিনতে পাওয়া যায়। আমাদের লিস্টে যে সকল ক্রিমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এর বাজার মুল্য ১০০০ থেকে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত।

ফর্সা হতে কতো দিন লাগে?

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা, ফর্সা হওয়া বা না হওয়া নির্ভর করে আপনার স্কিনের উপর। আল্লাহ সকলকেই তার নিজস্ব রুপ ও প্রয়োজনীয় সব কিছু দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। তাই ফর্সা বা সাদা হওয়া নিয়ে টেনশন করার কারন নেই। তবে হ্যা আপনি ট্রাইতো করতে পারেন। সঠিক পরিচর্যায় আপনার পরিবর্তন আসলে আসতেও পারে।

টিপস ওয়ালী ডট কম-এ উপরে উল্লেখিত ফর্সা হওয়ার ক্রিম গুলো ব্যবহার করলে সাধারণত ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আপনি ফলাফল পাবেন। অনেক সময় বেশি সময়ও লাগতে পারেন। এজন্য আপনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নিতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ ছেলেদের বিউটি টিপস

সকল প্রকার বিউটি টিপস পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন টিপসওয়ালী ডট কম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *