https://tipswali.com/wp-content/uploads/2022/01/jonmo-nibondhon-correction.jpg

বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করন, জাতীয় পরিকল্পনা প্রনয়ন, শিশু অধিকার নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালের ৩ জুলাই তারিখ থেকে বাংলাদেশ সরকারের বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য জন্ম নিবন্ধন আইন চালু করে। সরাসরি সংশোধনের পাশাপাশি সময়ের সাথে তাল মেলাতে ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপ হিসেবে ২০১০ সাল থেকে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। অফলাইনে কিংবা অনলাইনে যেখানেই বলেন না কেন বিভিন্ন কারনে জন্ম নিবন্ধের সময় আপনার কোন তথ্য ভুল হতে পারে এর এই ভুল তথ্যের কারনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম বা উপায় কি? জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা বা ফি লাগবে? কোথায় যেতে হবে?

সম্মানিত ভিজিটর, আজকের লেখাজুড়ে আমি আপনাদের শেখাবো অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি এবং জন্ম নিবন্ধনে নিজের নাম, বয়স বা জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা, ধর্ম ও অন্যান্য তথ্য সংশোধন সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও এর উত্তর।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগবে

বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৫ টি জেলা ও বিদেশে ১৭ টি দূতাবাসের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন সেবা প্রদান করা হয়। নিচে দেশ ও বিদেশ হতে Birth Certificate সংশোধন ফি বা কতো টাকা লাগবে এর তালিকা দেওয়া হল-

জন্ম নিবন্ধন সনদ সংশোধন ফি

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ধরণফি (বাংলাদেশ)ফি (বিদেশ)
তথ্য সংশোধন৳১০০$2
নাম, পিতা/মাতার নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য৳৫০$1
সনদের কপি সরবরাহ৳০$0
অনুলিপি বা কপি সরবরাহ৳৫০$1

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে যে সকল কাগজপত্র লাগবে

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে চাইলে যে সকল বিষয়গুলো সংশোধন করতে পারবেন সেগুলো হচ্ছে-

নাম/বয়স/ঠিকানা সংশোধন

জন্ম নিবন্ধন বা বার্থ সার্টিফিকেটে নিজের নাম, বয়স বা জন্ম তারিখ, এলাকায় অর্থাৎ স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা, ধর্ম, লিঙ্গ, ও অন্যান্য তথ্য সংশোধন বা সংযোজন করা যাবে। এ জন্য যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন হবে সেগুলো হচ্ছে- টিকার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট। অনলাইনে আবেদন ও যথাযথ তথ্য প্রমান সাবমিট করার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আপনি আপনার সংশোধিত জন্ম নিবন্ধন কপি পেয়ে যাবেন।

পিতা ও মাতার নাম সংশোধন

জন্ম নিবন্ধনে পিতা বা মাতার নাম বা নামের প্রথম কিংবা শেষ অংশ ভুল হলে সংশোধন করা যায়। তবে এখানে বিশেষ কিছু নিয়ম অনুসরন করতে হবে। এক্ষেত্রে পিতা মাতা জীবিত ও মৃত এবং তাদের বয়স ও জন্ম নিবন্ধন এবং ভোটার আইডি কার্ড ও এতে জন্ম তারিখ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার পিতা মাতার জন্ম সনদ থাকে তাহলে প্রথমেই চেক করে নিন তাদের জন্ম নিবন্ধনে নাম, বয়স, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য আপনার সার্টিফিকেটের সাথে মিল আছে কিনা। যদি মিল থাকে এবং আপনার নিবন্ধনের সময় পিতা মাতার তথ্য প্রদান করা হলে সেগুলো মিল থাকলে সংশোধনের আবেদন করে অনুলিপি সংশোধন করে নিলেই হবে।

পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন না থাকলে

পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে এবং আপনার জন্ম ২০০০/০১/০১ ইং তারিখের পর হলে আপনার পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন করে পিতা ও মাতার বার্থ সার্টিফিকেটের সাথে ম্যাপ করে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট পুনমুদ্রণ করে নিলেই হবে। এর আপনার জন্ম ২০০০ সালের আগে হয়ে থাকলে আপনার পিতা ও মাতার জন্ম বিন্ধন সার্টিফিকেট কপি একান্ত বাধ্যতামূলক নয়।

আপনার পিতা মাতা মারা গেলে করনীয়

আপনার জন্ম ২০০০/০১/০১ ইংরেজি তারিখের পরে হলে এবং আপনার পিতা-মাতা মারা গেলে অর্থাৎ জীবিত না থাকলে আপনি আপনার মা বাবার জন্ম সনদের সার্টিফিকেটের তথ্য ছাড়াই আপনার জন্ম সনদ সংশোধন করতে পারবেন। তবে আপনার পিতা-মাতার মৃত্যুর প্রমান দাখিল করতে হবে। এজন্য আপনাকে নিবন্ধকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন করার নিয়ম

দেশ বা বিদেশ হতে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন বা বার্থ সার্টিফিকেট ঠিক করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরন করুন-

ধাপ-১: জন্ম নিবন্ধন সাইটে প্রবেশ করুন

https://tipswali.com/wp-content/uploads/2022/01/jonmo-nibondhon.png

অনলাইনে আপনার বা আপনার পরিচিত করো জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট সংশোধন করতে আপনার মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের যে কোন ব্রাউজার হতে বাংলাদেশ সকারের https://bdris.gov.bd এই ঠিকানায় প্রবেশ করুন। এবং মেনুবার হতে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন এই মেনুতে ক্লিক করুন।

ধাপ-২: তথ্য নিশ্চিত করুন

https://tipswali.com/wp-content/uploads/2022/01/birth-certificate-check.png

মেনুতে ক্লিক করা পর আপনার সামনে দুইটি বক্স চলে আসবে যেখানে আপনাকে আপনার নিবন্ধন নাম্বার ও জন্ম তারিখ দিয়ে জন্ম নিবন্ধন তথ্য বের করতে হবে। প্রথম বক্সে আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ও ২য় বক্সে আপনার জন্ম তারিখ প্রবেশ করুন এবং অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করুন। সবঠিক থাকলে আপনি কি নিশ্চিত কিনা জিজ্ঞাসা করা হবে। এখান থেকে কনফার্ম বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ-৩: আপনার এলাকা নির্বাচন করুন

https://tipswali.com/wp-content/uploads/2022/01/address.png

কনফার্ম বাটনে ক্লিক করার পর আপনাকে আপনার জন্ম নিবন্ধন কার্যালয় অর্থাৎ আপনি যে এলাকা থেকে সেবা গ্রহণ করেছিলেন সেটি সিলেক্ট করতে বলা হবে। প্রথমেই দেশ, বিভাগ, জেলা, সিটি কর্পোরেশন/ক্যান্টনমেন্ট/উপজেলা, পৌরসভা বা ইউনিয়ন, অফিস সিলেক্ট করুন।

ধাপ-৪: আবেদন ফরম পূরণ

https://tipswali.com/wp-content/uploads/2022/01/select-reason.png

প্রথমেই আপনি যে সকল তথ্য সংশোধন করতে চান সেগুলো সিলেক্ট করুন। অর্থাৎ নাম/জন্ম তারিখ/পিতার নাম/মাতার নাম (বাংলা/ইংরেজি)/লিঙ্গ/পিতা ও মাতার কততম সন্তান/নামের প্রথম অংশ/শেষ অংশ/এনআইডি/জাতীয়তা যে বিষয়টি সংশোধন করতে চান সিলেক্ট করুন।

ধাপ-৫: স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা

https://tipswali.com/wp-content/uploads/2022/01/birth-address.png

সংশোধিত বিষয়গুলোর পর আপনার জন্মস্থানের ঠিকানা, স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা (দেশ, বিভাগ, জেলা, সিটি কর্পোরেশন/উপজেলা, পৌরসভা/ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, ডাকঘর, পাড়া/মহল্লা, বাসা ও সড়ক নাম্বার) বাংলা ও ইংরেজিতে প্রদান করুন। মনে রাখবেন একটি ভুল সংশোধন করতে গিয়ে আরেকটা নতুন ভুল না হয়। এ জন্য এইধাপটি মনোযোগ সহকারে পূরণ করুণ।

ধাপ-৬: আবেদনকারীর তথ্য প্রদান

https://tipswali.com/wp-content/uploads/2022/01/applicant-info.png

আপনি যদি নিজের জন্ম সনদ সংশোধনের আবেদন নিজে করে থাকেন তবে নিজ সিলেক্ট করুন। আপনার সন্তানের করলে পিতা বা মাতা সিলেক্ট করুন। এছাড়া অন্য কেউ যেমন- দাদা, দাদি, নানা-নানি, বা অন্যকোন অভিভাবক করে থাকলে তাদের জন্ম বিবন্ধন নাম্বার ও ভোটার আইডি কার্ড নাম্বার দিন।

ধাপ-৭: প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড প্রদান

https://tipswali.com/wp-content/uploads/2022/01/payment-method.png

এপর্যায়ে সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র যেমন- টিকার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট ও অন্যান্য আপলোড করুন। মনে রাখবেন প্রতিটি ফাইলের সাইজ ০.৫ এমবি বা ৫০০ কিলোবাইটের চেয়ে বেশি না হয়। পাশাপাশি মনে রাখবেন স্ক্যান করার সময় কোনাকুনি বা ঝাপসা না হয়। সবঠিক থাকলে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ-৮: পেমেন্ট

জন্ম নিবন্ধের ফি আপনি দুটি উপায়ে প্রদান করতে পারবেন। আবেদন সাবমিট করার পর আপনাকে একটি রেফারেন্স নাম্বার প্রদনা করা হবে। উক্ত আবেদনের কপি নিয়ে আপনি আপনার রেফারেন্স নাম্বার অনুসারে বিবন্ধকের অফিসে/ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা অথবা সিটি কর্পোরেশনের নিধারিত অফিসারের কাছে জমা দিন। অথবা আপনি চাইলে চালান এর মাধ্যমে ও জমা দিতে পারেন।

সর্বশেষ

সম্মানিত ভিজিটর, আপনার Birth Certificate ভুল থাকলে আজই ঠিক করে ফেলুন। কারণ বর্তমানে প্রায় সকল কাজেই বিশেষ করে ভোটার না হওয়া পর্যন্ত বার্থ সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।

আমাদের লেখা নিয়ে আপনার কোন মতামত, জিজ্ঞাসা কিংবা অভিযোগ থাকলে শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে।