https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/06/advantage-and-disadvantage-of-coffee.jpg

বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কিংবা প্রেমিকার সাথে পড়ন্ত বিকেলে মিষ্টি আলাপের ফাকে কোল্ড কিংবা হট কফির ঝুড়ি নেই। আবার রাতের আড্ডায় কিংবা নিউজ অথবা মুভি দেখতে দেখতে, অফিসের কাজের ক্লান্তি কাটাতে কফি সে যে এক অন্যরকম ভালোবাসা। কফি প্রেমিক হওয়ায় উপমা শেষ হতে চাইলেও শেষ করা যাচ্চে না। যাহোক শুরু দেখেই বুজে ফেলেছেন কি নিয়ে আজকের লেখা।

আদরের ভিজিটর, আজকের লেখা জুড়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে কফির জানা অজানা সব উপকারিতা, প্রকারভেদ, বিভিন্ন বিখ্যাত সব কফি, বিশ্বের বিখ্যাত সব হেলথ ম্যাগাজিনের মতে জনপ্রিয় এই পানীয় উপকারিতা ও অপকারিতা বা ক্ষতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত।

কফির পুষ্টিগুন

বিশেষজ্ঞদের মতে কফিতে নানা প্রাকৃতিক পুষ্টিগুন বিদ্যমান। ৮ আউন্স বা ২৪০ মিলি পরিমাণ এক কাপ কফিতে রয়েছে ভিটামিন বি-২, (১১%), ভিটামিন বি ৫, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-৩, ফোলেট, ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান।

কফির ৯ টি উপকারিতা

কফি খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতি নিয়ে নানা কথা ও ধারনা প্রচলিত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরাও বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত এই সময় ছচ্ছে খফি পানের আদর্শ সময়। প্রিয় পাঠক, চলুন এ পর্যায়ে জনপ্রিয় এই পানীয় পানের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। দেখে নেওয়া যাক বিশ্বের বিখ্যাত সব হেলথ ম্যাগাজিন কি বলে-

১. ক্যাফিনের সেরা উৎস

হেলথ লাইনের মতে, প্রায় সব ধরনের সফট ড্রিঙ্কস, চা কিংবা চকোলেট সগুলোতেই ক্যাফিন থাকে তবে, Coffee হচ্ছে ক্যাফিনের সবচেয়ে বড় উৎস। ক্যাফিন একটি পরইচিত উত্তেজক এটি আপনার মস্তিষ্কে অ্যাডেনোসিন নামক এক্ত ইনহিবিটরি নিউরোট্রান্সমিটার এর কাজকে অব্রুদ্ধ করে।এবং আপনার মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বাড়ায় এবং ন্যোরপাইনফ্রাইন এবং ডোপামিনের মতো অন্যান্য নিউরোট্রান্সমিটারগুলি প্রকাশ করে। এটি আপনার ক্লান্তি হ্রাস করে ও আপনাকে আরও বেশি সতর্ক হতে সাহায্য করে।

২ পার্কিনসন ও আলঝাইমার থেকে রক্ষা

মস্তিষ্কের উন্নতির পাশাপাশি কফি আপনার মস্তিষ্ককে পার্কিনসন ও আলঝাইমার থেকে রক্ষা করতে পারে।উইলির এক গবেষণায় দেখা যায় যে Coffee পানকারীদের আলঝাইমার রোগ হওয়ার ঝুকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ কম। অপরদিকে পার্কিনসন হল দ্বিতীয় নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ এবং এটি মূলত ডোপামাইন-জেনারেটর নিউরনের মৃত্যুর ফলে ঘটে। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায় রেগুলার পানকারীদের অন্যদের তুলনায় পার্কিনসন রোগের ঝুকি প্রায় ৩২ থেকে ৬০ শতাংশ কম। (সোর্স)

৩. টাইপ-২ ডায়াবেটিস এর ঝুকি কমায়

কফি পানকারীদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুকি কম রয়েছ বলে দাবি করা হয়। ইনসুলিন এর প্রভাবগুলির প্রতিরোধের কারনে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এলিভেটেড রক্তে শর্করার মাত্রা  দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এই সাধারন রোগ কয়েক দশকে প্রায় ১০ গুন বেড়ে গেছে। হেলথ লাইনের মতে বর্তমানে ৩০০ মিলিয়নের বেশি লোককে প্রভাবিত করে। স্প্রিঙ্গার লিঙ্ক এর তথ্য মতে, একটি গবেষণায় দেখা যায় কফি পানকারীদের এই অবস্থা বিকাশের বা বাড়ার ঝুকি ২৩ থেকে ৬৭ শতাংশ কমানো যেতে পারে।

৪. লিভার ডায়াবেটিস এর ঝুকি কমাতে কফি

লিভার শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যার সাথে আপনার শরীরের অনেক বিষয় জরিত। অতিরিক্ত এলকোহল ও ফ্রুক্টোজ গ্রহনের ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি সংবেদনশীল। লিভারের ক্ষতির শেষ পর্যায় হচ্ছে সিরোসিস বলা হয়। যারা প্রতিদিন ৪ কাপ বা এই পরিমাণ কফি পান করে তাদের সিরোসিস হওয়ার ঝুকি  প্রায় ৮০ শতাংশ কম থাকে। এছাড়া লিভার ক্যান্সারের ঝুকিও প্রায় ৪০ শতাংশ কম থাকে।

৫. হতাশা ও আত্মহত্যার ঝুকি কমায়

হতাশা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানসিক ব্যাধি। ২০১১ সালে হার্ভার্ড এর এক গবেষণায় দেখা যায় যারা সবচেয়ে বেশি কফি পান করে তাদের হতাশাগ্রস্থ হওয়ার ঝুঁকি কম ছিল। তিনটি গবেষণার একটি পর্যালোচনাতে দেখা যায়, যারা দিনে চার কাপ Coffee পান করে তাদের আত্মহত্যার সম্ভাবনা ৫৩ শতাংশ কম ছিল।

কফির অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক

কফি আপনাকে উপকার করছে কথা সত্য তবে এর কিছু ক্ষতিকরদিকও রয়েছে। যেসকল অপকারিতাগুলো আপনার জানা একান্ত প্রয়োজন। চলুন এ পর্যায়ে কফির অপকারিতা জেনে নেওয়া যাক-

১. কফি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়

ঘুম মানুষের শরীরের জন্য অত্যান্ত প্রয়োজনীয়। অতিরিক্ত Coffee পানের ফলে আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে। আপনার ঘুমের পরিমাণ যদি হ্রাস পায় তবে দুপুর ২ টার পর কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন।

২. আসক্ত হয়ে পড়া

ন্যাশনাল লাইব্রেরী অভ মেডিসিন এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে মানুষ যদি প্রতিদিন কফি পান করে তখন সে নিয়মিত ক্যাফিন গ্রহন করে। আর হঠাৎ করে এটি বন্ধ করে দিলে এর প্রভাব তৈরির জন্য আর বড় ডোজ গ্রহন করা লাগতে পারে। অনেকের কফি পান করা থেকে বিরত থাকলে মাথা ব্যাথা, ক্লান্তি কিংবা মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩. গর্ভবতী মা ও সন্তানের জন্মে প্রভাব

মহিলাদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে গর্ভবতী থাকা কালীন অতিরিক্ত কফি পান করলে ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। কারন কফি পান করলে কফিতে থাকা গর্ভে প্রবেশ করতে পারে এমন ক্যাফিনের প্রভাবগুলির জন্য ভ্রুন অত্যন্ত সংবেদনশীল। এছাড়াও এটি রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে গর্ভকালীন সময়ে কফি এড়িয়ে চলা উত্তম।

কফি পানের নিয়ম

অনেক পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান তবে এর মানে এই নয় যে আপনি দিনে কয়েক কাপ কফি পান করলে কফিতে থাকা পুষ্টিগুণ আপনার উপকারে আসবে। এটা একদম ভুল ধারনা, আপনাকে নিয়ম মেনে পান করতে হবে। অন্যথায় হিতের বিপরীত হতে পারে।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে থেকে কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তারা বিকালের পড়ে কফি পান করা উত্তম।

উপরে যেভাবে বলা হয়েছে গর্ভ কালীন মায়েদের জন্য কফি এড়িয়ে চলুন। এছাড়া ৬-৮ বছরের নিচের বাচ্চাদের কফি পান থেকে বিরত রাখতেও বলা হয়েছে। মোট কথা দিনে এক কাপ দুই কাপ পান করা কিংবা সপ্তাহে ৮-১০ কাপ পান করা উত্তম।

কফির প্রকারভেদ

মূলত ২ প্রকারের কফি বিন রয়েছে ১) এরাবিকা ও ২) রোবাস্টা। তবে বিভিন্ন স্বাদের ও বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন ড্রিঙ্কস রয়েছে। এগুলোর মধ্য অন্যতম ও জনপ্রিয় কয়েকটি হচ্ছে- ব্ল্যাক, লাঠে, কাপুচিনো, এমেরিকান, এসপ্রেসো, ডপ্পিও, কর্টাডো, আইরিস, মোছা, ফ্লাট হোয়াইট, অ্যাফোগাটো, ক্যারামেল লাতে, হট, কোল্ড কফি ইত্যাদি।

সর্বশেষ

সম্মানিত ভিজিটর, সব কিছু পর্যাপ্ত করা উত্তম হোক খাওয়া কিংবা ঘুম, পরিশ্রম কিংবা আরাম। নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয় করুন। ব্যায়াম করুন, নিয়মিত ঘুমান। সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন। আমাদের লেখা সম্পর্কে আপনার কোন মতামত অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের সাথে।

আপনার পছন্দের মানুষটিকে সচেতন করতে তার কাছে শেয়ার করতে পারেন আমাদের লেখাটি।

Leave a Reply