https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/11/Healthy-Foods-for-Winter.jpg

বাংলাদেশে এখন শীতকাল। এই সময়ে প্রকৃতির সাথে সাথে আমাদের শরীর ও মনের মধ্যেও আলাদা একটা পরিবর্তন কাজ করে। ঋতু পরিবর্তনের কারনে এই সময়ে বাংলাদেশে নতুন নতুন, ফল সবজিরও দেখা মেলে। সুস্থ থাকতে বছরের সব সময়ই পরিমিত পরিমাণ সুষম খাবার গ্রহণ করা উচিত। তো প্রিয় ভিজিটর, যেহেতু শীতকাল বছরের অন্যান্য ঋতুর চেয়ে কিছুটা আলাদা সেহেতু শীতকালে খাবার তালিকায় কি একটু পরিবর্তন আনা উচিত না?

হ্যা অবশ্যই। কারন শীতের স্নিগ্ধতা উপভোগ করার পাশাপাশি আমাদের শক্তিশালী ইমিউনিটি সিস্টেম গড়ে তোলার কথাও মনে রাখতে হবে।

সম্মানিত ভিজিটর, চলুন আজকের লেখাজুড়ে জেনে নেওয়া যাক শীতকালে শরীর সুস্থ ও উষ্ণ রাখতে খবার তালিকায় কোন কোন খাবার থাকা উচিত ও এদের গুরুত্ব।

১) খেজুর

খেজুরের উপকারিতার কথা জানা নেই এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। এতে রয়েছে আঁশ, ভিটামিন, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে মানুষের শরীরের মোট আয়রনের চাহিদার ১১ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম। এটা অনেকটা ক্যাপসুলের মতো। যারা শরীরের ফিটনেস নিয়ে সচেতন তাদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় নিয়মিত খেজুর রাখা উচিত। নিয়মিত খেজুর খাওয়া আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যোগানের পাশাপাশি শরীরকে উষ্ণ রাখে।

২) মুক্তা বাজরা

কি একটু অবাক হয়ে গেলেন? অনেকেই হয়তো বাজরার নাম এই প্রথম শুনলেন। হ্যা একটু অনলাইনে সার্চ করলেই বিস্তারিত জানতে পারবেন। চর্বি, প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ মুক্তা বাজরা আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রনের উৎসগুলরে মধ্যে এটি অন্যতম। নিয়মত সেবনে আপনার শরীরের হাড়গুলো শক্তিশালী করবে এবং আপনাকে অলসাতা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

৩) গাঢ় সবুজ শাক

আপনি জানেন কি যে, পাতাযুক্ত সবজির রঙ যত গাঢ় হয় তার পুষ্টি ততো বেশি। গাঢ় সবুজ শাক সবজি তে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ এবং পটাশিয়াম থাকে। যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। শীতকাল ও অন্যান্য ঋতুতে খাবার তালিকায় গাঢ় সবুজ শাক সবজি রাখার চেষ্টা করুন।

৪) আখরোট

আখরোট একধরণের বাদাম জাতীয় ফল। জল খাবার হিসেবে আখরোটের জনপ্রিয়তা বেশ পুরাতন। পাশাপাশি এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান। আখরোটে রয়েছে সামান্য পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট ও অধিক ফাইবার। একটি আখরোটে ৬৫ শতাংশ ফ্যাট ও ১৫ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। দুধ ও মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে এর পুষ্টিগুন কয়েকগুন বেড়ে যায়। পাশাপাশি এটি মানসিক চাপ, অবসন্নতা দূর করতে এবং টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৫) ডিম ও মাছ

পুষ্টিকর খাবারের নাম মুখে আনলে বিশেষ করে বাংলাদেশীদের মুখে থেকে ডিম ও মাছের কথা বের হবে না এটা ভাবাই যায় না। একটি ডিমে প্রায় ১২.৫৬ গ্রাম প্রোটিন ও ৯.৫২ গ্রাম ফ্যাট থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, আয়রন ও ভিটামিন। যা বিশেষ করে শিশুদের হাড় শক্ত করে ও দৈহিক বৃদ্ধিতে এবং মেধার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অপরদিকে মাছে প্রোটিনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন যেমন ভিটামিন এ, ডি, এবং ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম, আয়োডিন রয়েছে।

৬) সাইট্রাস ফল

একটি মাত্র সাইট্রাস ফল সেবনে সারাদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণে সক্ষম। আর সাইট্রাস ফল শীতকালে সবচেয়ে বেশি রসালো হয়। শীতকালে খাবার তালিকায় ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ এগুলি আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের স্বাস্থ্যকর অনুপাত বজায় রাখে। শীতকালে খাবার তালিকায় কমলা, লেবু, আঙুর এর মতো সাইট্রাস ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৭) শালগম

শীতকালে যেসকল সবজি পাওয়া যায় এর মধ্যে শালগম অন্যতম। অনেকেই একে তাচ্ছিল্য করে, খেতে চায় না। বিশেষ করে তথাকথিত আধুনিক ছেলে পেলে। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, শালগম শুধু মাত্র আপনার কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে উন্নত করে না বরং এটি আপনার হাড়কে শক্তিশালী করার পাশাপাশি হজম শক্তি উন্নত করে।

আপনি দেখে থাকবেন শীতকালে বাতাসে অন্যান্য ঋতুর তুলনায় বেশি ধুলাবালি থাকে। আর এর ফলে দূষিত পদার্থ সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। স্টার্চ সমৃদ্ধ শালগম চমৎকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এটি আমাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

৮) মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু উচ্চ ফাইবার, ভিটামিন ও পটাসিয়ামের অন্যতম সেরা উৎস। কম ক্যালোরি ও বেশি পুষ্টিগুণ থাকায় এটি আমামদের পেটের জন্য বেশ উপকারী। মিষ্টি আলু কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে এবং হজম শক্তি উন্নত করে। পাশাপাশি এটি আমামদের পেটের প্রদাহ কমাতেও ভূমিকা পালন করে। তাই শীতকালে খাবার তালিকায় মিষ্টি আলু রাখার চেষ্টা করুন।

৯) অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোর উপকারিতা নিয়ে টিপসওয়ালীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর অ্যাভোকাডো আমাদের দেহকে সোডিয়াম, সুগার এবং কোলেস্টেরল মুক্ত রাখে। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত ফ্যাট যা আমাদের হার্টকে সুস্থ রাখে। ক্যান্সার ও কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রনে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

১০) কুসুম গরম দুধ

দুধ ও দুধ জাতীয় অন্যান্য খাদ্য যেমন দই, পনির ইত্যাদি শীতের জন্য অত্যন্ত দারুণ খাবার। কারন এতে রয়েছে পচুর পরিমাণ ভিটামিন বি ১২, এ, প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম যা একজন মানুষের স্বাস্থ্য বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি সুস্থ থাকতেও সাহায্য করে। আপনি যদি খেয়াল করেন তবে দেখতে পাবেন আপনার আশেপাশে অনেকেই বিশেষ করে শীতকালে ঠাণ্ডা সর্দিতে আক্রান্ত হয় এমনকি আপনি নিজেও হতে পারেন। দিনে ২ বার ঘন কুসুম গরম দুধ পান আপনাকে এ থেকে মুক্তি দিতে পারে। তবে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধের পরিবর্তে স্কিমড বা আধা-দক্ষ দুধ পান বেছে নিন। আর কম ক্যালরি গ্রহণ করতে চাইলে আপনি দধি পান খেতে পারেন।

১১) ব্রকলি

সাম্প্রতিক সময়ে ব্রোকলির জনপ্রিয়তা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছেল এতে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধী বিটা ক্যারোটিন, সেলিনিয়াম যৌথ ও ভিটামিন সি। যা প্রোস্টেট, কোলন, ফুসফুস, স্তন ও প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ থাকায় স্কিনে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে বাঁচায়।

১২) বেশ বেশি পানি পান

পানির অপর না জীবন। শীতকাল কিংবা গ্রীষ্মকাল সব সময়েই শরীরের জন্য পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। দিনে অন্তন ৩-৪ লিটার পানি পান করুন। অন্যথায় আপনার স্কিনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে। শীতকালে স্কিনের যত্ন নেওয়ার টিপস পড়ুন এখানে।

সর্বশেষ

প্রিয় ভিজিটর আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। সুস্থ থাকতে নিয়মিত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ব্যায়াম, পরিমিত ঘুমও প্রয়োজন। নিয়মিত সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন। অসাধু পথে অর্থ উপার্জন করে খাবার খেলে তাতে সাময়িক সুফল পেলেও এর পরিনতি ভয়াবহ। হালাল টাকায় আহার যোগাড় করার চেষ্টা করুন। আল্লাহ হাফেজ।