https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/10/Home-Loan-In-Bangladesh.jpg

স্বপনের বাড়ি নির্মাণের জন্য হোম লোনের কথা ভাবছেন কিন্তু হোম লোন সম্পর্কে ভালো ধারনা নেই? টিপসওয়ালী ফিন্যান্স-এ আপনাকে স্বাগতম।

বাংলাদেশে হোম লোন সম্পর্কে চুলছেড়া বিশ্লেষণ করতে আজ আমি আছি আপনাদের সাথে। আজকের লেখাজুড়ে আমি আপনাদের বিস্তারিত ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করবো- হোম লোন কি, বাড়ি কেনার ঋণ কিভাবে কাজ করে, আবেদনের অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কোথায় কম রেটে হোম লোন পাওয়া যায় বা গৃহ ঋণের জন্য বাংলাদেশের সেরা কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

হোম লোন কি?

গৃহ ঋণ বা হোম লোন হচ্ছে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন বা পুরাতন বাড়ি ক্রয়, মেরামত কিংবা প্লট কেনার জন্য প্রাপ্ত লোণ বা ঋণ। নির্দিষ্ট চুক্তি ও ডকুমেন্টস এর উপর ভিত্তি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক লোন গ্রহীতাকে হোম লোন প্রদান করে থাকে।

হোম লোনের প্রকারভেদ

দেশের প্রচলিত বাড়ি বা হোম লোনকে ৫ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১) আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য একক ঋণ, ২) জমিসহ ও বাড়ি ক্রয় সম্মিলিত ঋণ, ৩) জমিসহ রেডিমেট বাড়ি ক্রয় ঋণ, 8) ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ঋণ ৫) পুরাতন বাড়ি মেরামত ঋন।

লোনের পরিমাণ

বাংলাদেশে সরকারের প্রচলিত আইন অনুসারে দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত হোম লোন প্রদান করতে পারে। তবে বাড়ি মেরামতের জন্য ৫ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা প্রদান করতে পারে। উল্লেখ্য, ঋণ নিয়ে বাড়ি কিনতে চাইলে মোট টাকার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ঋণ গ্রহীতার নিজের থাকতে হবে।

হোম লোনের মেয়াদ

হোম লোন মূলত একটি দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ। হোম লোনের মেয়ার সাধারণত ৩ থেকে ২৫ বছর হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি সাধারণ মেয়াদের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। মূলত এটি নির্ভর করে ঋণ দাতার শর্ত ও গ্রহীতার লোনের প্রয়োজনীয়তা ও যোগ্যতা।

সুদের হার

বাংলাদেশে হোম লোনের সুদের হার ১.৫% থেকে ৯%। তবে এলাকা, লোনের পরিমাণ, মেয়াদ ইত্যাদি বিষয়ের উপর নির্ভর করে ইন্টারেস্টের পরিমাণ কম বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশে হোম লোনের যোগ্যতা

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও হোম বা বাড়ি ক্রয় কিংবা নির্মাণ ঋণ পাওয়ার জন্য নুন্যতম কিছু শর্ত রয়েছে। যার উপর ভিত্তি করে ঋণ দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে ঋণের চুক্তি সম্পাদিত হয়। বাংলাদেশে হোম লোন পাওয়ার জন্য নিম্ন লিখিত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন-

ঋণ পেতে ইচ্ছুক ব্যাক্তির বয়স নুন্যতম ২১ বছর কিংবা এর বেশি হতে হবে। উক্ত লোণ পরিশোধ কালীন সময়ে আয়ের বৈধ ও নিয়মিত উৎস থাকতে হবে। নুন্যতম ক্রেডিট স্কোর। কোন প্রকার ঋণখেলাপি, আয়কর না দেওয়া ইতিহাস, কিংবা মামলা থাকা যাবে না। তবে কিছু কিছু লোন দাতা প্রতিষ্ঠান থেকে লোণ পাওয়ার জন্য বিশেষ কিছু যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ক্রেডিট কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদনের অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

হোম লোনের জন্য আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও কাগজপত্র নিচে দেওয়া হল-

  1. সঠিক তথ্য দিয়ে নির্ভুলভাবে লোন আবেদন ফরম পুরন।
  2. আবেদনকারী ও গ্যারান্টারের জাতীয় পরিচয়পত্র।
  3. গ্যাস, পানি অথবা বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি।
  4. বিগত ১ বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  5. পে স্লিপ।
  6. ই-টিন কপি।
  7. জমির মালিকানা সংক্রান্ত দলিল ও ডকুমেন্টস।

বিঃ দ্রঃ তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভেদে অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগতে পারে।

হোম লোনের জন্য সেরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ

বাংলাদেশের বর্তমানে প্রায় সকল সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক ও কয়কে ডজন আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান করে থাকে। হোম লোনের জন্য বাংলাদেশের সেরা কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, ঢাকা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, হোম লোন।

সর্বশেষ

সম্মানিত ভিজিটর, আশা করছি হোম লোন নিয়ে আপনি বিস্তারিত ধারনা পেয়ে গেছেন। হোম লোন নিয়ে আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে শেয়ার করুনা আমাদের সাথে। টিপসওয়ালী ফিন্যান্স টীম আপনাকে সঠিক উত্তর দিতে সর্বদা প্রস্তুত।