https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/12/reduce-blood-pressure.jpg

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার হার্টের রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় এ কথা আমরা সকলেই কমবেশি জানি। ব্লাড প্রেসার কমাতে আমরা ডাক্তার দেখাতে দেখাতে অনেকেই ক্লান্ত কিন্তু কোন গতি মেলে না বা মিলছে না।

প্রিয় ভিজিটর, হাই ব্লাড প্রেসার কমাতে চাইলে আগে জানতে হবে ব্লাড প্রেসার কি, বাড়ার কারন কি বা কি কারনে ব্লাড প্রেসার বাড়ে। প্রিয় পাঠক, আজকের লেখাজুড়ে আপনাদের সাথে বিস্তারতি আলোচনা করবো- ব্লাড প্রেসার বাড়ার কারণ কি, কিভাবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ব্লাড প্রেসার কমানো যায়। সাথে থাকছে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ। তাই সময় নিয়ে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন।

Table of Contents

ব্লাড প্রেসার বাড়ার কারণ কি?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে- শারীরিক ও মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ওজন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা, নিয়মিত মধ্যপান কিংবা ধূমপান, অনিয়মিত ঘুম, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ইত্যাদি।

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ থাকে ৮০ মিলিমিটার থেকে ১২০ মিলিমিটার।

হাই প্রেসার কি?

যদি কোন ব্যাক্তির ব্লাড প্রেসার রিডিং ১৪০/৯০ কিংবা এর চেয়ে বেশি হয় তখন সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

লো ব্লাড প্রেসার কি?

যদি কোন ব্যাক্তির ব্লাড প্রেসার রিডিং ৯০/৬০ কিংবা এর আশেপাশে থাকে তবে সেটিকে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ব্লাড প্রেসার কমানোর উপায় ও টিপস

১) নিয়মিত হাঁটুন ও ব্যায়াম করুন

উচ্চ রক্তচাপ তথা ব্লাড প্রেসার কমানোর সবচেয়ে সেরা ও কার্যকরী উপায় হচ্ছে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা। নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের হৃদপিণ্ড শক্তিশালী করে এবং রক্ত পাম্প করতে আর বেশি দক্ষ করে তোলে। আর এর ফলে আমাদের ধমনীতে চাপ কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে সুস্থ থাকতে চাইলে একজন মানুষের প্রতি সপ্তাহে নুন্যতম ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের শারীরিক ব্যায়াম (যেমন- হাঁটা) এবং ৭৫ মিনিট বা তার বেশি জোরালো ব্যায়াম (যেমন- দৌড়ানো) করা উচিত। অনেকে মনে করে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করতে হয়। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। আপনি চাইলে বাসায় বসে জিমের মতো ব্যায়াম করতে পারেন এবং নিজের blood pressure কমাতে পারেন। বাসায় ব্যায়াম করার নিয়ম পড়ুন এখানে।

২) পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করুন

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের তথ্য অনুসারে পটাশিয়াম আমাদের শরীরের জন্য একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। পটাশিয়াম আমাদের শরীরকে সোডিয়াম থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে এবং আমাদের রক্তনালীতে চাপ কমায়। বিভিন্ন পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে চেরি টমেটো, আলু, মিষ্টি আলু, দই, অ্যাভোকাডো, কমলা, তরমুজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া ও বেশি তরতাজা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৩) হতাশা ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন

হতাশা ও দুশ্চিন্তা মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে হতাশা হচ্ছে রক্তচাপ বাড়ার সবচেয়ে প্রধান কারন। আমরা যখন কোন মানসিক চাপ বা প্রেসারে থাকি তখন আমাদের শরীর ফ্লাইট মোডে থাকে। ব্লাড প্রেসার কমাতে মানসিক হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। মানসিক হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ কিছু উপায় সম্পর্কে পড়ুন এখানে।

৪) অ্যালকোহল পরিহার করুন

গবেষণা অনুসারে রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার বাড়ার অন্যতম কারন হচ্ছে অ্যালকোহল। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ এর তথ্য মতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১৬% মানুষের উচ্চ রক্তচাপের জন্য অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলযুক্ত খাবারকে দায়ী করা হয়েছে। এখন অনেকেই বলে থাকে যে সামান্য পরিমাণ অ্যালকোহল শরীরের ক্ষতি করে না। আসলে এটা ডাহা মিথ্যা কথা। তাই Blood Pressure কমাতে আজই অ্যালকোহল এবং অ্যালকোহলযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

৫) সোডিয়াম গ্রহনের মাত্রা কমানো

লবন আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন কারন এতে আয়োডিন ও সোডিয়াম থাকে। তবে আপনি হয়তো শুনে থাকবেন অনেক গবেষণায়ও দেখা গেছে স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপ সহ নানা শারীরিক ঘটনাগুলির জন্য বেশি লবন গ্রহন দায়ী। তবে এ বিষয়টি নিয়ে অনেকের আবার দ্বিমতও আছে। যাহোক আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে তবে আপনি কাঁচা লবন খাওয়ার মাত্রা কমিয়ে বা সম্পূর্ণ পরিহার দেখতে পারেন।

৬) ডার্ক চকলেট ও নন-ক্ষারযুক্ত কোকো খান

গবেষণায় দেখা যায় উদ্ভিদ যৌগ রক্তনালীকে শিথিল করতে সাহায্য করে। কোকো পাউডার ও ডার্ক চকলেটে রয়েছে উদ্ভিদ যৌগ। অপরদিকে ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ কোকো রক্তচাপ কমানোর পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের বেশ উন্নতি করতে সক্ষম। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় ডার্ক চকলেট আপনার হার্টের উন্নতি করার বিপরীতে ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়াবে। তাই পরিমাণ (মাঝে মাঝে) মতো ডার্ক চকলেট বা কোকো খান।

৭) ওজন কমানোর প্রতি মনোযোগ দিন

গবেষণায় দেখা যায়, যাদের ওজন বেশি বা স্থূলকায় তাদের হার্টের স্বাস্থ্য ফিট লোকদের তুলনায় বেশি খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনার শরীরের যদি বাড়তি ওজন থাকে তবে তা কমানোর দিকে মনযোগী হন। ব্যায়ামের সাহায্যে ওজন কমানো রক্তচাপ কমাতে বেশি কার্যকর। ওজন কমানোর উপায়

৮) ধূমপান পরিহার করুন

ধূমপান ক্যানসারের কারন, হার্টের ক্ষতি করে তা যারা ধূমপান করে তাদের সবারই জানা। সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে বড় করে লেখা থাকে। ধূমপান শুধু হার্টের ক্ষতি করে না শরীরের হাজারো রোগ ও পরিবেশ দূষণের জন্য ধূমপান/সিগারেট সরাসরি দায়ী। সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে এটি শুধুমাত্র সেবনকারীরই ক্ষতি করে না ধূমপায়ীর আশেপাশে থাকা বাচ্চা ও নারীদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। ধূমপান ত্যাগ করার সহজ উপায়।

৯) ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান

মেডিকেল নিউজ টুডে এর মতে যে সকল মানুষ কম ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করে তাদের প্রায়ই ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়। যদিও কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে এটি সরাসরি রক্তচাপ কমানোর জন্য দায়ী। এ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন- গাড় সবুজ শাঁক, দুগ্ধজাত খাবার গ্রহন করুন। সুষম খাদ্য তালিকা দেখুন।

১০) পর্যাপ্ত ঘুমান

রাতের ঘুমের বিকল্প কেবল রাতের ঘুমই। হয়তো মুরব্বিদের মুখে শুনে থাকবেন যে, একরাতের ঘুম ১ সপ্তাহ দিনের ঘুমের সমান। আসলে মহান আল্লাহতালা রাতকে ঘুমের জন্য আর দিনকে জীবিকা সন্ধানের জন্য দিয়েছেন। যারা নিয়িমিত রাতে দেরি করে ঘুমায় আবার সকালে অনেক দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে তাদের নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। আপনার যদি পর্যাপ্ত ঘুম না হয় তবে রাতে আগে আগে ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং দিনে আগে আগে ঘুম থেকে উঠুন।

ব্লাড প্রেসার কমানোর টিপস

সর্বশেষ

সম্মানিত ভিজিটর, আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। বাংলা ভাষায় টিপস ট্রিকস পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন আপনাদের প্রিয় টিপসওয়ালী ডট কম।

আমাদের লেখা নিয়ে আপনার কোন মতামতা কিংবা পরামর্শ থাকলে জানাতে পারেন আমাদের সাথে। সংযুক্ত থাকতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। নিজের, পরিবারের সদস্যদের যত্ন নিন।