https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/10/Isabgol-Bhusi.jpg

ইসবগুল আয়ুর্বেদ চিকিৎসা শাস্ত্রের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত একটি উদ্ভিজ্জাত দ্রব্য। বিশ্বের সব দেশের মানুষই এই ইসবগুলের ভুষির সাথে কম বেশি পরিচিত। মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতে, ক্লান্তি দূর করতে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি দারুন কাজের।

তবে আমাদের অনেকেরই ইসুবগুলের উৎপত্তি, গুনাগুন ও খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানা নেই। প্রিয় ভিজিটর আজকের লেখাজুড়ে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি ইসবগুলের ভুষির উপকারিতা, ইসবগুল ভুষি খাওয়ার নিয়ম, দাম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অপকারিতা, কোথায় কিনতে পাওয়া যায় ও এর সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য বিষয় বিস্তারিত।

Table of Contents

ইসবগুল

ইসবগুল এর ইংরেজি নাম ব্লন্ড প্লান্টিন (Blond Plantain) বা সিলিয়াম হাস্ক (Psyllium Husk). তবে এই শব্দের উৎপত্তি ফরাসি শব্দ ইসপা গোল থেকে। এর অরথ ঘোড়ার কান। এটি মূলত একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এই গাছের উচ্চতা দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। এবং এর ফল দুই কোষ বিশিষ্ট যা এক একটি ৭ থেকে৮ মিলিমিটার লম্বা হয়। এইগাছের বীজ দেখতে কিছুটা নৌকার মতো।

ইসবগুলের ভুষি

গুল শব্দ শুনে আমাদের অনেকেই ভাবি এটি মনে হয় গাছের শিকর থেকে আসে। আসলে তা নয়। অথবা ফুলের পাপড়ি হতে পারে। আসলে তা নয় ইসবগুল হচ্ছে এই গাছের ফলের বীজের খোসা। চিকিৎসায় ভুষি ও বীজ উভয়ই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশ্বের সব চেয়ে বেশি ইসুবগুলের চাষ ও ফলন হয় ভারতে। তবে বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, আফ্রিকা, স্পেন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এর ফলন হয়ে থাকে।

ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার উপকারিতাঃ

১. রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে

ইসবগুলের ভুষি আমাদের অন্ত্রে একটি স্তর সৃষ্টি করে যা অন্ত্রকে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা প্রদান করে। আর এর কারনে আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক মাত্রায় চলে আসে। যাদের হৃদ রোগ জনিত সমস্যা আছে তার চাইলে এই ভুষি খেতে পারেন।

২. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

কোষ্ঠকাঠিন্য জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেটে ইসবগুলের ভুষির তুলনা হয় না। মূলত এই কারনেই আমাদের কাছে এটি বেশি পরিচিত। অন্যান্য উপকারিতার মধ্যে এটিই সবার নজরে পড়ে। আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তাহলে প্রতিদিন ঘুমের আগে ২ চামচ ইসবগুলের ভুষি এবং ১ গ্লাস কুসুম গরম গরুর দুধ পান করুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনার পেট ক্লিন। পাশাপাশি বেশি বেশি পানি পান করুন ও শাক সবজি খান।

৩. অ্যাসিডিটি থেকে মুক্ত রাখে

অ্যাসিডিটি আমাদের একটি কমন সমস্যা। মূলত পাকস্থলী থেকে এই সমস্যার সৃষ্টি। ভুষি আমাদের খাদ্য হজম প্রক্রিয়া সহজ ও তরান্বিত করে ফলে এবং আমাদের পাকস্থলীতে একটি স্তর তৈরি করে যা আমাদের অ্যাসিডিটি থেকে রক্ষা করে।

৪. ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে

আমাদের মধ্যে অনেকেকেই প্রায়ই ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। আপনা বা আপনার পরিচিত কারো ডায়রিয়া হলে ইসবগুলের ভুষি ও দই একসাথে মিশিয়ে খান বা খাইয়ে দিন। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ভালো ফল পেয়ে যাবনে।

৫. ওজন কমায়

ওজন কমানোর উপায় নিয়ে আমাদের সাইটে ইতিমধ্যে একটি বিস্তারিত আর্টিকেল পাবলিশ করা হয়েছে আপনি এখান থেকে পড়ে নিতে পারেন। ওজন কমাতে কুসুম গরম পানির সাথে সামান্য লেবুর রস ও ২ চা চামচ ইসবগুলের ভুষি নিয়ে ভাত খাওয়ার আগে খেয়ে নিন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ইসবগুলের ভুষির কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নাই। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে পেটে সমস্যা হতে পারে।

খাওয়ার নিয়ম

বিকালে তোকমা দানা, ইসবগুলের ভুষি, গুড় পানিতে ভিজিয়ে রাখুন এবং রাতে ঘুমানোর আগে খেয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে এর সাথে এলোভেরা মিশিয়ে ও খাওয়া যেতে পারেন। ডায়ারিয়া থেকে মুক্তি পেতে চাইলে ভুষির সাথে দই মিশিয়ে খান। অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে ২ চা চামচ ভুষির সাথে ১ হালস ফুটানো ঠাণ্ডা দুধ মিশিয়ে খান।

দাম

১ কেজি ইসবগুলের ভুষির দাম ১২০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা। আপনি চাইলে ১০০ গ্রাম বা ৫০ গ্রামও কিনতে পারেন। ১০০ গ্রাম ভুষির দাম ১৩০ টাকার কাছাকাছি।

কোথায় ভালমানের ইসবগুলের ভুষি কিনতে পাওয়া যায়?

অপরিষ্কার কিংবা নিন্মমানের ভুষি আপনার উপকারের বদলে ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন অরগানিক ফুডের দোকান রয়েছে যেখান থেকে আপনি ভালো মানের ভুষি কিনতে পারেন। অনলাইন শপ, ফার্মেসী ও মুদি দোকানে ইসবগুলের ভুষি কিনতে পাওয়া যায়।

সর্বশেষ

আজকের মতো এখানে শেষ করছি। আমাদের লেখা নিয়ে আপনার মতামত, অভিজ্ঞতা, কিংবা পরামর্শ জানাতে লিখতে পারেন আমাদের কাছে। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

আরও পড়ুনঃ তোকমা দানা খাওয়ার উপকারিতা