https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/09/Lalbagh-Fort.jpg

বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমাহদেশের ইতিহাসে লালবাগের কেল্লা এক উল্লেখযোগ্য নাম। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ পশ্চিম-অঞ্চলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে লালবাগ কেল্লা অবস্থিত। ইতিহাসের সাক্ষী এই কেল্লা নিয়ে নানা কাহিনী প্রচলিত আছে। পাশাপাশি মুঘল সম্রাজ্যের বিভিন্ন নিদর্শন, পরী বিবির সমাধি, শাহী মসজিদ, সুড়ঙ্গ ইত্যাদি সম্পর্কে জানা ও দেখার জন্য অনেকেই আগ্রহ নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন।

প্রিয় ভিজিটর, আজকের লেখাজুড়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো লালবাগ কেল্লা ও এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, প্রবেশের সময়সূচী, কোন কোন দিন বন্ধ থাকে, টিকেট মুল্য, কিভাবে যাবেন ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

লালবাগ কেল্লার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

লালবাগ কেল্লা ঢাকা শহরের দক্ষিন পশ্চিম দিকে সদরঘাট এলাকা থেকে একটু বুড়িগঙ্গা নদীর তিলে অবস্থিত। এটি মূলত একটি অসামাপ্ত মুঘল দুর্গ। ১৬৭৮ সালে মুঘল সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ্‌ এর নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ্‌ ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবেড় ছেলে। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেও সম্রাট হয়েছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর আরেক মুঘল সম্রাট শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে লালবাগ কেল্লা পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তবে ১৬৮৪ সালে শায়েস্তা খাঁর কন্যা ইরান দুখত রাহ্মাত বানু মারা যাওয়ায় তিনি এই দুর্গতি অপয়া মনে করেন আর এই কারনে তিনি এর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। আর এই কেল্লার উল্লেখযোগ্য একটি স্থাপনা হচ্ছে পরী বিবির মাজার বা কবর।

তৎকালীন রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করলে শায়েস্তা খাঁ ঢাকা ত্যাগ করেন আর এর জনপ্রিয়তা হারায়। এর অনেক বছর পর ১৮৪৪ সালে এই এলাকাটির নাম আওরঙ্গবাদ বদলে লালবাগ রাখা হয়। এখানে তিনটি ভবনের সমন্বয়ে মোট দুইটি দুর্গ রয়েছে ভবনগুলো হচ্ছে- মসজিদ, পরী বিবির সমাধি ও দেওয়ান-ই-আম।

পরী বিবির মাজার

পরী বিবির মাজার এই কেল্লার স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে মূলত শায়েস্তা খাঁর মেয়ে সমাহিত আছেন। তৎকালীন সুবাদার শায়েস্তা খাঁ তার কন্যার স্মরণে মনোমুগ্ধকর মাজারটি নির্মাণ করেন।২০.২ মিটার বর্গাকৃতির এই মাজারটি ১৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দের আগে নির্মিত হয়। এই মাজারের মাঝের একটি ঘরে পরী বিবির সমাধিস্থল এবং এই ঘরকে ঘিরে আটটি ঘর আছে। ১৬৬৮ সালের ৩রা মে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবেড় ছেলে শাহজাদা মুহাম্মদ আজমের সাথে পরী বিবির বিয়ে হয়।

লালবাগ কেল্লা সময়সূচী

দিনসময়সূচী
রবিবারসাপ্তাহিক ছুটি
সোমবারদুপুর ২:৩০টা থেকে বিকাল ৬টা (শীতকালে ২:৩০টা থেকে ৫টা)
মঙ্গলবারসকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা (শীতকালে ৯ টা থেকে ৫টা)
বুধবারসকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা (শীতকালে ৯ টা থেকে ৫টা)
বৃহস্পতিবারসকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা (শীতকালে ৯ টা থেকে ৫টা)
শুক্রবারসকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা (দুপুর ১২ঃ৩০টা থেকে ২টা পর্যন্ত বন্ধ)
শনিবারসকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা (শীতকালে ৯ টা থেকে ৫টা)
লালবাগ কেল্লা ভ্রমনের সময়সূচী

লালবাগ কেল্লা টিকেট মুল্য

সাধারণ মানুষ ও বিদেশী পর্যটকদের জন্য এই মুঘল নিদর্শন খুলে দেওয়া হয়েছে। এখানে শায়েস্তা খাঁর বাসভবন ও দরবার হল বর্তমানে লালবাগ কেল্লা জাদুঘর হিসবে উন্মুক্ত। বর্তমানে এখানে টিকেট কেটে প্রবেশ করতে হয়। লালবাগ কেল্লার টিকেটমুল্য নিম্নরূপ-

শ্রেণীফি
৫ বছর বয়সের নিচেফ্রি
দেশী দর্শনার্থী (জনপ্রতি)২০ টাকা
বিদেশী দর্শনার্থী (জনপ্রতি)১০০ টাকা
লালবাগ কেল্লা টিকেট মুল্য তালিকা

লালবাগ কেল্লা যাওয়ার উপায়

ঢাকা কিংবা ঢাকার আশেপাশে যারা থাকেন তাদের জন্য লালবাগ কেল্লা যাওয়া একদম সহজ। নিউমার্কেট, সদরঘাট, বাবুবাজার ব্রিজ, গুলিস্তান থেকে রিকশা কিংবা সিনএনজি নিয়ে এখানে যাওয়া যায়। নিউমার্কেট ও গুলিস্তান থেকে রিকশা ভাড়া ৭০-১০০ টাকা।

লালবাগ কেল্লা কে নির্মাণ করেন?

মুঘল সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ্‌ লালবাগ কেল্লার নির্মাণ শুরু করে। তার মৃত্যুর পর তার উত্তরসুরি মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে এর পুনঃনির্মাণ শুরু করেন।

লালবাগ কেল্লার আদি নাম কি?

কিলা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।

লালবাগ কেল্লা কোথায় অবস্থিত?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ পশ্চিম-অঞ্চলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে লালবাগ কেল্লা অবস্থিত।

কেল্লা কি?

কেল্লা বা দুর্গ হচ্ছে মধ্যযুগের অভিজাত্য বা রাজকীয়তা ও সমারিক আদেশ বলে নির্মিত একধরণের সুরক্ষা কাঠামো। এর অর্থ হচ্ছে- দুর্গ, গড়, সেনানিবাস।

লালবাগ কেল্লায় কয়টি দরজা আছে?

মোট দরজা ৩ টি। বর্তমানে ১ টি দরজা খোলা আছে। এই দরজা দিয়ে ঢুকলে বরাবর সোজা পরী বিবির মাজার চোখে পড়ে।

সর্বশেষ

প্রিয় ভিজিটর, আজকের মতো এখানেই শেষ করছি, স্বাস্থ্য, বিউটি, ভ্রমন বিষয়ক টিপস পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আপনাদের সবার প্রিয় টিপসওয়ালী ডট কম। আমাদের লেখা নিয়ে আপনার কোন মতামত কিংবা পরামর্শ থাকলে শেয়ার করুন আমাদের সাথে। আমাদের সাথে সংযুক্ত হতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজে।

আরও পড়ুনঃ কক্সবাজার ভ্রমন গাইড, হোটেল, খাবার, দর্শনীয়স্থান।