https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/04/pigeon-meat-bangladesh.jpg

কবুতরের মাংস শুনলেই জিব্বার ডগায় পানি চলে আসে অনেকের। তবে পোষা পাখি হিসেবে কবুতরের নাম তালিকার প্রথম দিকেই জায়গা পায়। এক সময় যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই কবুতর। আজকালও খবরের কাগজে কবুতরের গোয়েন্দাগিরি নিয়ে নানা খব দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে ছোট এই পোষা পাখিটির মাংসে রয়েছে চমৎকার পুষ্টিগুন। বেশি পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় কবুতরের মাংসের কথা থাকবে না এমনটা কল্পনাও করা যায় না।

প্রিয় ভিজিটর, আজকের লেখাজুড়ে বিস্তারিত কথা হবে কবুতরের মাংসের পুষ্টিগুন, কবুতরের বাচ্চার মাংস খাওয়ার উপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম, ও রান্না করার নিয়ম বা রেসিপি। কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেওয়ার যাক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবারটি সম্পর্কে।

কবুতরের মাংসের পুষ্টিগুন

প্রচলিত আছে একটি কবুতর এর মাংসে থাকা পুষ্টি গুন ৯ টি মুরগির পুষ্টির সমান। এক গবেষণায় দেখা যায় অন্যান্য মাংসের তুলনায় কবুতরের মাংসে প্রায় ২-২৪ শতাংশ বেশি প্রোটিন রয়েছে। এবং এতে ফ্যাটের পরিমান খুবই সামান্য প্রায় ১ শতাংশ।  এছাড়াও এই মাংসে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বি, ই ও ভিটামিন ডি এবং আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ও কপার রয়েছে।

কবুতরের বাচ্চার মাংস খাওয়ার উপকারিতা

আশা করছি আপনি ইতিমধ্যে কবুতরের মাংস খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বেশ ভালো ধারনা পেয়ে গেছেন। প্রচুর পুষ্টিগুনের পাশাপাশি আরও কিছু বিশেষ উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১) পুষ্টি পরিপূরক

বিশেষজ্ঞদের মতে কবুতরের মাংস একটি ভালো খাদ্যের পাশাপাশি ভালো ওষুধও। এরে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কম চর্বি থাকায় এটি একটি ভালো পুষ্টিকর পরিপুরক। কবুতরের মাংস রক্তের লিপিড ও শর্করা বাড়ায় না।

২) রোগ প্রতিরোধক

কবুতরের মাংসে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন ও ভিটামিন । যা আপনার শরীরের পুষ্টি চাহিদা পুরনের পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশ কার্যকরী। অস্ত্রপাচারের পর রোগীর ক্ষত পুনরুদ্ধার ও নিরাময়ে ভালো ভুমিকা পালন করে।

মধ্য বয়সী, বয়স্ক অসুস্থ, হাইপারলিপিডেমিয়া, কার্ডিওভাসকুলার এবং সেরিব্রোভাসকুলার রোগী, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কবুতরের মাংস বিশেষ উপকারি।

৩) স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও স্কিনের উন্নতি

কবুতরের মাংস পুষ্টিতে সমৃদ্ধ এবং এতে থাকা পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের উন্নয়ন ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি আপনার স্কিন বা ত্বকের সতেজতা আনয়নে বেশ কার্যকরী।

৪) লিভার কিডনি ও রক্তের উন্নয়ন

চাইনিজ চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে কবুতরের মাংস লিভারের উন্নতি সাধন ও কিডনি শক্তিশালী করে। এছাড়াও রক্ত পুষ্ট করে তোলে ও শরীরের অন্যনায় তরল উপাদানের মান উন্নয়নে ভুমিকা পালনকরে। যা আপনাকে দীর্ঘ স্থায়ী অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতা থেকে মুক্তি দেয়।

কবুতরের মাংস রান্না করার নিয়ম বা রেসিপি

নানা পুষ্টিগুনে ভরপুর কবুতরের মাংস খেতেও বেশ সুস্বাদু। তবে  খাওয়ার জন্য বাচ্চা কবুতরের মাংস বেশি উপকারি ও পুষ্টি সমৃদ্ধ। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন রান্না করার সঠিক উপায় ও রেসিপি জেনে নেওয়া যাকঃ

প্রথমেই কবুতরের বাচ্চা জবাই করে চামড়া ছিলে নিন অথবা আস্তে আস্তে পালক তুলে নিন । ছোট ছোট টুকরা করে কেটে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করুন। ফ্রিজে রেখে কবুতরের মাংস না খাওয়াই উত্তম। তাই তাজা তাজা রান্না করার চেষ্টা করুন।

উপকরণ

দুইটি বা এক জোড়া কবুতরের বাচ্চা রান্না করার জন্য যে সব উপকরন লাগবেঃ সরিষার তেল তিন টেবিল চামচ, আধা কাপ পেঁয়াজ কুচি বা বাটা, এক টেবিল চামচ পরিমান, আদা ও রসুন বাটা (আপনি চাইলে কম বেশি দিতে পারনে) এক টেবিল চামচ, এক চা-চামচ হলুদের গুঁড়া, এক বা দুই চামচ মরিচের গুঁড়া, ৪-৬ টি কাঁচা-মরিচ (না দিলেও সমস্যা নেই), গোল-মরিচ ৪/৫ টি, ভাঁজা জিরার গুঁড়া ১/২ চা চামচ, এলাচ ২-৩ টি, লবঙ্গ ৩-৪ টি, ৪-৫ কোয়া আস্ত রসুন, দারুচিনি ও পছন্দ মতো আলো ও পরিমান মতো লবন। দারুচিনি লবঙ্গ ভালো না না লাগলে কিংবা কম মশলা পছন্দ করলে আপনি চাইলে এগুলো বাদ দিয়ে দিতে পারেন।

যেভাবে রান্না করবেন

পদ্ধতি ১ঃ

প্রথমে একটি পাতিলে কবুতরের মাংস, আদা, আলু, রসুন বাটা, লবন, মরিচ, হলুদ, মরিচ তেল, পিঁয়াজ একসাথে দিয়ে মাখিয়ে নিন। এবার পরিমান মতো তাপে কষাতে থাকুন। ঘ্রান বের হলে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন কিছু কিছুক্ষণ পর নেড়ে দিন। ঝোল কমে আসলে তাপ কমিয়ে দিন। আপনার পছন্দ মতো ঝোল রেখে আলাদা পাত্রে জিরার গুঁড়া ভেজে একটু ভেঙে নিন এজন্য চামচ দিয়ে একটা/দুইটা ডলা দিলেই হয়ে যাবে।  চুলা বন্ধ করে দিন এবং জিরার গুঁড়া ছিটিয়ে দিন।

পদ্ধতি-২ঃ

প্রথমে আদলা ভাবে মশলা কষিয়ে নিন। কষানো শেষ হলে আলু দিয়ে ও মাংস দিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন ও কষিয়ে নিন। আপনি চাইলে আলু নাও দিতে পারেন। এটা আপনার নিজের উপর নির্ভর কররে। তবে আলু না দিলে লবন দেওয়ার সময় হিসাব করে দিবেন। কষানো শেষ হলে মাংস সিদ্ধ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান পানি দিয়ে ঢেকে রাখুন। ভুনা করতে চাইলে কবুতরের মাংসে কম পানি দিন। ঝোল কমে আসলে কাচামরিচ ও ভাঁজা জিরার গুঁড়া দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। হয়ে গেল মজাদার কবুতরের মাংস ভুনা। গরম গরম খেয়ে ফেলুন।

প্রিয় ভিজিটর আশা করছি কবুতরের মাংসের পুষ্টিগুন, খাওয়ার উপকারিতা ও রান্না প্রণালী সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা পেয়ে গেছেন। এ নিয়ে আপনার কোন প্রশ্ন, মতামত কিংবা রান্নার অন্যকোন উপায় জানা থাকলে শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.