https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/02/blackheads-and-whiteheads-bangla.jpg

ব্ল্যাক হেডস (Blackheads) ও হোয়াইট হেডস (Whiteheads) ত্বকের এই সমস্যাগুলোর সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। সব বয়সী নারী কিংবা পুরুষকেই এই সমস্যাগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকতে দেখা যায়। সুন্দর, স্বাস্থ্যজ্জ্বল ও কোমল ত্বকে সামান্য ব্ল্যাক হেডস কিংবা হোয়াইট হেডসের উপস্থিতি যেন চাঁদের কালো দাগের মত দেখায়।

বাইরে যাওয়ার সময় এই ক্ষুদ্র সমস্যাটি আপনার গর্জিয়াস লুককে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এ সমস্যাগুলো এতটাই জেদি যে এর থেকে রেহাই পাওয়া কঠিন। কিন্তু তাই বলে তো হাল ছেড়ে দেওয়া চলে না। একটু চেষ্টা করলে, নিয়মিত সঠিক পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিলে এসব জেদি সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ব্ল্যাক হেডস ও হোয়াইট হেডস কি, এর কারণ ও প্রতিকার বে দূর করার উপায় সম্পর্কে:

ব্ল্যাকহেডস কি?

Blackheads/ব্ল্যাক হেডস বা ডার্ক সার্কেল এক ধরণের পর্দাহীন ব্রণ, যা বাতাসের ধুলাবালি ও ময়লার সংস্পর্শে এসে অক্সিডাইজড হয়ে কালো বর্ণ ধারণ করে। এর উপর ত্বকের নির্গত তেল জমে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা মারাত্মক রুপ ধারণ করতে পারে।

হোয়াইটহেডস কি?

Whiteheads/হোয়াইট হেডসও এক ধরণের ব্রণ, যা সৃষ্টি হয় মৃত কোষ ও তেল দিয়ে ত্বকের হেয়ার ফলিকল, ছোট ছিদ্র বা রন্ধ্রসমূহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। ত্বকের উপরিতল বা এপিডার্মিসের কেরাটিনের সঙ্গে তেল মিশ্রিত হলে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।

দুটোই একই ধরণের সমস্যা। তবে ব্ল্যাক হেডসের ক্ষেত্রে ব্রণের মুখ উন্মুক্ত ও হোয়াইট হেডসের ক্ষেত্রে ব্রণের মুখ বন্ধ থাকে।

ব্ল্যাক হেডস ও হোয়াইট হেডস হওয়ার কারণ কি? 

বিভিন্ন কারণে ত্বকে ব্ল্যাক হেডস ও হোয়াইট হেডস সৃষ্টি হতে পারে। চলুন জেনে নেই ত্বকের এসব জেদি সমস্যার প্রচলিত কিছু কারণ সম্বন্ধে:

১। ত্বকের সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে অতিরিক্ত তেল নির্গত হওয়ার ফলে ত্বক তৈলাক্ত থাকা।

২। ত্বকে ময়লা বা ব্যাকটেরিয়া (প্রোপিওনিব্যাক্টেরিয়াম) জমা।

৩। গর্ভকালীন বা পিরিয়ডের সময়ের হরমোনাল পরিবর্তন হওয়া।

৪। অতিরিক্ত ঘর্মাক্ত থাকা।

৫। স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় বাস করা।

৬। অতিরিক্ত মেকাপ প্রোডাক্ট বা মেয়াদ উত্তীর্ণ মেকাপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করা।

৭। জন্মনিয়ন্ত্রক পিল গ্রহণ করা। (কিছু কিছু সময়)

৮। তৈলাক্ত খাবার বেশি গ্রহণ করা।

৯। কোন বিশেষ গ্রুপের ঔষধ (কর্টিকোস্টেরয়েড, লিথিয়াম বা অ্যান্দ্রোজেন) সেবন করার।

১০। হেরেডিটারি বা বংশগত কারণ। 

ব্ল্যাক হেডস দূর করতে কার্যকরী ৫টি প্রোডাক্ট

ব্ল্যাক হেডসের কালো জেদি দাগ ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য দূর করে দেয়। তাই ত্বকে এই সমস্যাটি বাসা বাঁধার আঁচ পাওয়ার সাথে সাথেই এর বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

১) লোনোভ ব্ল্যাক হেডস রিমুভার ভ্যাকিউম পোর ক্লিনার (Lonove Blackheads Remover Vacuum Pore Cleaner)

এই প্রোডাক্টটি সাধারণ ভ্যাকিউম পোর ক্লিনারের মত নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত পদ্ধতিতে ত্বকের ব্ল্যাক হেডস টার্গেট করে শুষে নতিং। আপনার ত্বক সংবেদনশীল, শুষ্ক, তৈলাক্ত, মিশ্র বা নিরপেক্ষ যেমনই হোক না কেন, এই প্রোডাক্টটি সব ধরণের ত্বকে অ্যাপ্লাই করা যাবে। কেননা এতে আছে সবরকমের ত্বকের জন্য আলাদা আলাদা পাওয়ার সেটিং।

২) হেইলি কেয়ার আলট্রা সনিক স্কিন স্ক্রাবার (HailiCare Ultra Sonic Skin Scrubber)

এটি একটি স্পাচুলা আকৃতির প্রোডাক্ট, যেটি ত্বক এক্সফোলিয়েট করে লোমকূপের ভেতর থেকে ময়লা, তেল ও ধুলাবালি দূর করে। এতে উচ্চ কম্পাংক বিশিষ্ট ভাইব্রেশন ব্যবহার করা হয়। এটিতে স্কিন পরিষ্কার করা, মইশ্চারাইজ করা ও টানটান করার জন্য তিন রকমের সেটিং রয়েছে। ক্লিঞ্জিং মোড ত্বকের গভীর থেকে ময়লা, ধুলাবালি বের করে আনে। মইশ্চারাইযিং মোড ত্বককে তৈরি করে যেন স্কিন সেরামের মত বিউটি প্রোডাক্ট অ্যাবজরব করতে পারে। এবং লিফটিং মোড ত্বককে টানটান ও রিংকেলমুক্ত রাখে।

৩) সেফোরা কালেকশন ডাবল এন্ডেড ব্লেমিশ এক্সট্র্যাক্টর (Sephora Collection Double Ended Blemish Extractor)

ত্বকের যেসব জায়গায় অন্যান্য বিউটি প্রোডাক্ট পৌঁছাতে পারেনা (কান ও নাকের আশেপাশে), সেসব জায়গার জন্য এই প্রোডাক্টটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্রোডাক্টটিতে বিদ্যমান ছোট লুপটি হোয়াইট হেডস দূর করে ও ফ্ল্যাট অংশটি ব্ল্যাক হেডস দূর করে।

৪) বি স্টানিং ডায়মন্ডবাফ মাইক্রোডারমাব্রেশন এক্সফোলিয়েশন টুল (Bee Stunning Diamondbuff Microdermabrasion Exfoliation Tool)

এই প্রোডাক্টটি ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে যা ব্ল্যাক হেডস দূর করতে ও ট্রিটমেন্ট দেওয়ার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এই প্রোডাক্ট ত্বকের মৃত কোষগুলো দূর করে নিমিষেই। এটির ছোট বাফার কান ও নাকের আশেপাশের সূক্ষ্ম জায়গায় গিয়ে কাজ করতে সক্ষম। এটি ব্ল্যাক হেডস দূর করে, ফাইন লাইন স্মুথ ও সফট করে, ত্বকের পোরের উপস্থিতি কমায় ও ত্বককে স্বাস্থ্যজ্জ্বল করে তোলে।

৫) অ্যামকনশোর ফেসিয়াল স্টিমার (Amconsure Facial Steamer)

এই স্টিমার এক ধরণের হিট জেনারেট করে যা ত্বকের পোরগুলো খুলে দিয়ে প্রোডাক্টটিকে ভেতরে গিয়ে কাজ করতে সহায়তা করে। এটি ত্বকে লেগে থাকা মেকাপ কণিকা দূর করে ও বন্ধ হয়ে যাওয়া পোরগুলোকে খুলে যেতে সাহায্য করে। এটি বিভিন্ন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ত্বকে কার্যকরীভাবে অ্যাবজরব করাতে বিশেষ ভুমিকা রাখে। এটি ব্লাড সারকুলেশন বাড়ায়, ফলে ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিন সৃষ্টি হয় ও ত্বক হয়ে ওঠে ইয়াঙ্গার লুকিং। এটি ৫-৮ মিনিট যাবত ত্বকে ব্যবহার করতে হয়।

হোয়াইট হেডস দূর করতে কার্যকরী ৫টি প্রোডাক্ট:

ত্বকের হোয়াইট হেডস তেল ও ময়লা আকর্ষণ করে,যার জন্য ত্বকে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে শুরু করে। ফলে ব্রণের মত অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই এটির প্রতিরোধে নিম্নোক্ত প্রোডাক্টসমূহ ব্যবহার করতে পারেন-

১) নিউট্রোজেনা ডিপ ক্লিন ব্রাইটেনিং ফোমিং ক্লিঞ্জার (Neutrogena Deep Clean Brightening Foaming Cleanser)

এই প্রোডাক্টটি সেনসেটিভ ত্বকে কোন ইরিটেশন সৃষ্টি করা ছাড়াই হোয়াইট হেডসের বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি স্কিনকে ক্লিন করে। এটিতে কোন হারশ কেমিক্যাল নেই, সম্পূর্ণভাবে অ্যালকোহল মুক্ত। এটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেশি কার্যকর। এটি ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম দূর করে ও ত্বককে পরিষ্কার রাখে। এই প্রোডাক্টটি সামান্য ব্যবহারেই দ্রুত ও কার্যকরী ফল পাওয়া যায়।

২) কিয়েলস ব্রেক আউট কন্ট্রোল টার্গেটেড ব্লেমিশ স্পট ট্রিটমেন্ট (Kiehl’s Break Out Control Targeted Blemish Spot Treatment)

হোয়াইট হেডস দূরীকরণের ক্ষেত্রে সর্বাধিক কার্যকরী পদ্ধতি হল স্পট ট্রিটমেন্ট। এটিতে বিদ্যমান সালফার ও ভিটামিন বি-৩ দ্রুত হোয়াইট হেডসের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করে স্কিনকে পরিষ্কার ও মোলায়েম করে। এটি কিছুটা দামী প্রোডাক্ট হলেও ত্বকের লালচে ভাব, অ্যাকনে ও হোয়াইট হেডসের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকর।

৩) ডঃ বেল্মুর ক্লারিফাইং স্পট প্যাচ কিট (Dr. Belmeur Clarifying Spot Patch Kit) 

সালিসাইলিক এসিড ও উইলো হারবসের সমন্বয়ে তৈরি এই প্রোডাক্টটি ত্বকের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কাজ করতে সক্ষম। এটি ত্বককে কাম করে ও ব্লেমিশভাব দূর করে। এটির ফল পেতে বারবার স্কিনে অ্যাপ্লাই করতে হয়। এটির নিয়মিত ব্যবহার জেদি অ্যাকনে ও হোয়াইট হেডসের পরিমাণ হ্রাস করে নিমিষেই।

৪) দ্যা বডি শপ টি ট্রি অয়েল (The Body Shop Tea Tree Oil)

এটির অ্যান্টি ইনফ্লেমেটোরি ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল প্রপার্টি অ্যাকনে ও হোয়াইট হেডসের বিরুদ্ধে সর্বাধিক কার্যকরী ফল দেয়। অ্যাকনে ও হোয়াইট হেডস সম্পূর্ণরুপে দূর করতে এই প্রোডাক্টটির কোন বিকল্প নেই। এই প্রোডাক্টটি হোয়াইট হেডসের ছোট দাগ এক রাতের মধ্যেই রিমুভ করে ও বড় দাগ এক সপ্তাহে দূর করে।

৫) লরিয়াল প্যারিস আইডিয়াল স্কিন মেকাপ রিমুভিং টাওয়েলেটস (L’Oreal Paris Ideal Skin Makeup Removing Towelettes)

সারাদিন স্কিনকে ক্লিন ও ফ্রেশ রাখতে এটি ক্যারি করতে পারেন। এটি মেকাপ সম্পূর্ণভাবে রিমুভ করে ও স্কিনের পোরগুলোকে টাইট করে ব্রেকআউটের সম্ভাবনা দূর করে। এটি অ্যালকোহল মুক্ত ও ডারমেটোলজিস্ট দ্বারা স্বীকৃত। এটি সবধরনের ত্বকে ব্যবহার করা গেলেও কোন কোন ক্ষেত্রে সেনসেটিভ ত্বকে ইরিটেশন সৃষ্টি করতে পারে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবো ব্ল্যাক ও হোয়াইট হেডস:

ত্বকের এসব সমস্যা দূর করতে ত্বক পরিষ্কার রাখার কোন বিকল্প নেই। ত্বকের মৃত কোষ জমে পোর বন্ধ হয়ে যায়। ময়লা, ধুলা ও ব্যাকটেরিয়া বাসা বাধে। তাই বাইরে থেকে বাসায় আসার সাথে সাথে ত্বক স্ক্রাবিং করতে হয়। ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিতে হয়। এ কাজে আইস কিউব ব্যবহার করতে পারেন।

প্রথম দিকে নাক ও গালের কিছু অংশে ব্ল্যাক ও হোয়াইট হেডস হওয়া শুরু করে, তখন কেউ এদিকে বিশেষ নজর বা গুরুত্ব দেয় না। ফলে এটি সমস্ত অংশে ছড়িয়ে পড়ে। যা থেকে পরবর্তীতে মুখে দাগ সৃষ্টি হয়। তাই ব্ল্যাক হেডস বা হোয়াইট হেডস হওয়া শুরু করলেই এটি প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

সুন্দর ও পরিপাটি লুকের জন্য দাগহীন, স্বাস্থ্যজ্জ্বল ত্বকের বিকল্প নেই। নিয়মিতভাবে ও সঠিক পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিলেই ব্রণ, অ্যাকনে, ব্ল্যাক হেডস বা হোয়াইট হেডসের সমস্যামুক্ত থাকা সম্ভব। উপরোক্ত পণ্যগুলি ডারমেটোলজিস্টের পরামর্শে ব্যবহার করুন। এছাড়াও ঘরোয়া পদ্ধতিতে স্ক্রাবার ও মইশ্চারাইজার তৈরি করে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক পরিষ্কার করে মেকাপ ব্যবহার করুন, এবং ব্যবহারের পর ভালো করে ত্বক পরিষ্কার করুন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ও ঘুম থেকে উঠে পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। এক্ষেত্রে মৃদু ক্লিঞ্জার ব্যবহার করতে পারেন। তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন।

লিখেছেনঃ মেহজাবিন

Spread the love

Leave a Reply