https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/10/Teeth-care-bangla.jpg

দাঁত আমাদের শরীরের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেওয়া কিংবা না নেওয়ার উপর আপনার দাঁত ও শারীরিক সুস্থতার অনেকাংশ নির্ভর করে। কথায় আছে, “দাঁত থাকিতে দাঁতের মর্ম বুজে না”। যদিও এটি একটি প্রবাদ তবে আক্ষরিক অর্থে একদম সঠিক কথা। দাঁতের গুরুত্ব দাঁত নাথাকা কালীন বুজা যায়।

সুস্থ দাঁতের জন্য সারা জীবনই এর যত্ন নিতে হবে। আপনার দাঁত আজ সুস্থ থাকলেও একটু অবহেলা বা অযত্নে কাল সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে নিয়মিত দাঁতের যত্ন আপনার দাঁত সারাজীবন ভালো রাখতে পারে।

সম্মানিত ভিজিটর, কেমন আছেন? আশা করছি আলহামদুলিল্লহা নিশ্চয়ই ভালো আছেন। আজকের লেখা জুড়ে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি দাঁতের যত্ন নেওয়ার ১০ টি টিপস। যা আপনার দাঁত সুস্থ রাখবে আর আপনাকে রাখবে প্রনবন্ত ও ফ্রেশ।

দাঁত সুস্থ রাখার টিপস

১. ঘুমানোর আগে ব্রাশ করুন

এটা আসলে সবারই জানা দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করা উতিচ। আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করতে যতোটা তৎপর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্রাশ করার ব্যাপারে ততটা বেখেয়ালি। কিন্তু রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করলে সারাদিনের জমে থাকা জীবাণু ও প্লাকের আক্রমন থেকে মুক্তি মেলে।

২. সঠিকভাবে ব্রাশ করা

অনেকে নিয়মিত দুইবার ব্রাশ করলেও সঠিক ভাবে ব্রাশ না করার কারনে দাঁতে নানা সমস্যা দেখা দেয়। দুই বার দাঁত ব্রাশ করার পাশাপাশি সঠিক ভাবে দাঁত ব্রাশ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সময় নিন এবং ধীরে ধীরে ব্রাশ করুন। দাঁতের উপরে জমে থাকা আস্তরন দূর করতে বৃত্তাকার গতিতে দাঁত ব্রাশ করুন। এভাবে ব্রাশ করলে দাঁতের গোঁড়ায় প্লেক দূর হয়। আর প্লেক দূর না হলে ক্যালকুলাস তৈরি হয় এবং জিনজিভাইটিস (এক ধরনের মাড়ির রোগ) হয়।

৩. জিহ্বার যত্ন নেওয়া

দাঁতের পাশাপাশি জিহ্বার যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের অনেকে এই বিষয়টি একদম জানেনই না। আমাদের দাঁতের পাশাপাশি জিহ্বায়ও প্লেক জন্মায় আর এ থেকে মুখে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি আমাদের মুখ ও স্বাস্থ্যের নানান সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রতিবার ব্রাশ করার সময় আলতো করে জিহ্বার উপরে ব্রাশ করুন। অনেক ব্রাশের উল্টো পাশে জিহ্বা ব্রাশ করা থাকে।

৪. ভালো মানের টুথপেস্ট ব্যাবহার

বাজারে নানা কোম্পানির দাঁতের মাজন বা টুথপেস্ট পাওয়া যায়। আর দাঁত মাজনের জন্য ভালো মানের টুথপেস্ট ব্যবহার উচিত। এই জন্য আপনি একটি ফ্লোরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করেন। কারন এটি আপনার দাঁতের ক্ষয়রোধের পাশাপাশি আপনার মুখের জীবাণুর সাথেও সমানে লড়াই করবে।

৫. ফ্লসিংকে গুরুত্ব দিন

যারা নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করেন বা করেন না তাদের অনেকেই ফ্লসিংকে গুরুত্ব দেয় না। আমাদের দাঁতের মাড়ির গোঁড়ায় খাবারের ছোট ছোট অংশগুলো আটকে থেকে মাড়িকে উদ্দিপ্ত করে ও ওই এলাকাগুলোতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। ফ্লসিং আপনাকে এথেক মুক্তি দিতে পারে।

৬. মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করুন

আপনি এখন আমাকে জিজ্ঞাস করতে পারেন যে, নিয়মত দাঁত ব্রাশ ও ফ্লসিং করার পরও মাউথওয়াশের দরকার কি! মাউথওয়াশ আপনাকে তিনটি উপায়ে সাহায্য করে থাকে। প্রথমত এটি আপনার মুখের মধ্যে অ্যাসিডের পরিমাণ কমায়, আমাদের মাড়ির আশেপাশের অঞ্চলগুলো পরিষ্কার করে, আমাদের দাঁতকে পুনরায় খনিজ করে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে। তবে শিশুদের জন্য ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৭. বেশি বেশি পানি পান

পানি পানের সাথে শরীরের প্রতিটি বিষয়ের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। আর তাই বলা হয়ে থাকে পানির অপর নাম জীবন। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করি না। তবে বিশেষজ্ঞরা দাঁতের সুস্থতা তথা সার্বিক সুস্থতার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার জন্য পরামর্শ দেয়।

৮. কুঁচকানো ফল ও সবজি খান

আপনি জেনে অবাক হবেন যে, কুঁচকানো ফলগুলোতে কেবল মাত্র স্বাস্থ্যকর ফাইবার থাকে না, এটি দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। বিশেষজ্ঞরা চিবিয়ে খেতে হয় এমন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়। শরীরে ভিটামিন এর অভাবে মাড়ি ও দাঁতের সমস্যা দেখার দেয়। দাঁত সুস্থ রাখতে ভিটামিন এ, বি, সি, ডি ও কে সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। শাকসবজিতে এই ধরনের ভিটামিন অনেক বেশি থাকে।

৯. অ্যাসিডিক খাবার ও চিনিযুক্ত খাবার পরিহার

আমরা যখন চিনি খাই তখন তা আমাদের মুখের মধ্যে অ্যাসিডে রুপান্তরিত হয়। যা আমাদের দাঁতের এনামেলকে ক্ষয় করতে পারে। তাই মাত্রাতিরিক্ত অ্যাসিডিক ও চিনি যুক্ত খাবার খাওয়া কমান।

১০. বছরে অন্তুত দুইবার ডেন্টিস্ট দেখান

আমরা একবারে অসুস্থ না হলে কিংবা দাঁতে সমস্যা না দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে যাই না। তবে এ না যাওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে আমাদের দেশের দারিদ্রতা। পাশাপাশি আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যাবস্থার অনিয়ম ও অত্যান্ত ব্যয়বহুল। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ, ফ্লসিং, পানি পান, নিয়মিত খাবার গ্রহনের পরও আপনি যদি একদম সুস্থ ও থাকেন তবুও বছরে অন্তত এক-দুইবার ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হোন। কিছু বীমা কোম্পানি আছে যারা নিয়মিত আপনার ডেন্টাল চেকআপ কাভার করে দিবে।

দাঁতের জন্য কোন ভিটামিন খাওয়া উচিত?

দাঁতের যত্ন নিতে দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন নিশ্চিত করা জরুরী। দাঁতের জন্য যে ভিটামিনগুলো গ্রহণ করা উচিত- ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন কে। ক্যালসিয়াম মাড়ি শক্ত করে। দাঁতের সুস্থতার জন্য দুগ্ধ-জাত খাবার, কপি-জাতীয় সবজি, ফল, পানি।

সর্বশেষ

সুস্থতা আল্লাহর অশেষ রহমত। আমরা অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সুস্থতার মর্ম বুজি না। দাঁত সুস্থ থাকতেই দাঁত সুস্থ রাখার উপায় খুজুন, জানুন ও মানুন। আমাদের লেখাটি আপনার প্রিয় মানুষদের মাঝে শেয়ার করুন।

আরও পড়ুনঃ বাড়িতে মাউথ ওয়াশ বানানোর উপায়। মুখের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়