https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/11/City-Bike-Loan.jpg

পড়াশুনার পাশাপাশি ছোট-সুন্দর একটা চাকরি করি আর এই সুবাধে স্যালারির জন্য ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য কয়েক মাস আগে ব্যাংকে গিয়েছিলাম। ভিতরে প্রবেশ করেই বাইক লোনের বিজ্ঞাপন ঝুলতে দেখে একাউন্ট খোলার বিষয়ে জানার আগে সিটি ব্যাংক বাইক লোন সম্পর্কে জানার জন্য ব্যাংকের এক ভদ্র মহিলার কাছে গিয়ে একটু খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করলাম। ভদ্র মহিলার সব কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পর বুজলাম আরও কয়েক মাস চাকরি, মাসে মাসে কিছু টাকা সঞ্চয়, এবং পাশাপাশি আরও বেশি বেশি লেখালেখি করতে হবে।

একটু থামুন! প্রায় প্রত্যেকটি ছেলের বিশেষ করে ২০-৩৫ বছরের ছেলেদের বাইকের প্রতি যে কত দুর্বলতা আছে তা বলে বা লিখে বোঝানো সম্ভব না। জামানার হাল-চাল বদলের অনেক মেয়েদের মধ্যেও বাইক কেনার প্রবনতা বেড়েছে। শখ থাকলেও অর্থের প্রশ্নে সে চুপচাপ। একটা কথা না শেয়ার করলেই না, আমার লেখালেখি শুরুর পিছনের গল্পটাও অনেকটা এই বাইক ঘিরে। এক সময় হঠাৎ বাইক কেনার শখ জাগলেও আমার মহামান্য আম্মাজানের অসম্মতি আর গরীব মানিব্যাগ আমার শখ পূরণ করতে দেয় নাই। তাই ছোট মাথা দিয়ে টাকা আয় করার উপায় খুঁজতে শুরু করলাম। লেখালেখি করলে নাকি পায়সা মিলে আর তাই লেখালেখি শুরু করি। এখনো কেনার টাকা হয়ে উঠে নাই তবে আশায় আছি দেখি কিছু একটা করা যায় নাকি।

সম্মানিত ভিজিটর, আজকের লেখাজুড়ে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো সেদিন সিটি ব্যাংক থেকে জেনে আশা সিটি ব্যাংক বাইক লোন সম্পর্কে বিস্তারিত। জানাবো সিটি ব্যাংক থেকে বাইক পাওয়ার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস, আবেদন করার নিয়ম, কতো টাকা পর্যন্ত লোন পেতে পারেন ও এর সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত।

সিটি ব্যাংক বাইক লোন পাওয়ার যোগ্যতা

সিটি ব্যাংক মোটর সাইকেল লোনের প্রথম শর্ত হচ্ছে, আপনাকে বাংলাদেশি প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক হতে হবে এবং মোটরযান চালানোর লাইসেন্স থাকতে হবে। চাকরিজীবী, আত্মনির্ভরশীল, ব্যবসায়ী, প্রবাসী, জমির মালিক, ফ্রিল্যান্সার, ও রাইড শেয়ারিং সার্ভিস (উবার, পাঠাও, সহজ রাইড় ইত্যাদি) পেশার সাথে জড়িত এমন যে কেউ দ্যা সিটি ব্যাংক বাইক লোনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

আপনি যদি চাকরিজীবী হয়ে থাকেন এবং আপনার স্যালারি একাউন্ট পে হয়ে থাকে তবে আপনার মাসিক বেতন সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা এবং ক্যাশে (নগদ টাকা) হয়ে থাকলে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা হতে হবে। তবে সিটি ব্যাংকের স্টাফ হয়ে থাকলে ১২০০০ টাকা হলেই হবে।

আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী, জমির মালিক কিংবা প্রফেশনাল (উকিল, সাংবাদিক, ফার্মাসিস্ট, ইত্যাদি) হয়ে থাকলে সিটি ব্যাংক বাইক লোনের জন্য আপনার সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা মাসিক আয় থাকতে হবে।

এছাড়া ফ্রিল্যান্সার, প্রবাসী ও রাইড শেয়ারিং এর সাথে জড়িত থাকলে যথাক্রমে ৩০ হাজার, ২০ হাজার, ১৫ হাজার টাকা (সর্বনিম্ন) মাসিক আয় থাকতে হবে।

তবে আপনার ফিক্স ডিপোজিটের বিপরীতেও লোনের জন্য আবেদন করতে পারেন।

সিটি ব্যাংক বাইক লোনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

দ্যা সিটি ব্যাংক বাইক লোনের জন্য জন্য যেসব ডোকুমেন্টস লাগবে সেগুলো হচ্ছে- বিগত ১২ মাসের ব্যাংক স্টেস্টমেন্ট, স্যালারি সার্টিফিকেট, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি, ভোটার আইডি কার্ডের কপি, ভিজিটিং কার্ড, ল্যাব প্রিন্ট পাসপোর্ট সাইজের ছবি, রি-পেমেন্ট চেক (যে চেকে লোনের সম্পূর্ণ টাকা ইন্টারেস্ট সহ উল্লেখ থাকে) ব্যাক্তিগত গ্যারান্টারের আইডি কার্ডের কপি এবং ছবি।

সিটি বাইক লোন ইন্টারেস্ট রেট

দ্যা সিটি বাইক লোনের কমন সুদের হার ১২.৯৯%। মেয়েদের জন্য বাইক লোনের ইন্টারেস্ট রেট ১% কম অর্থাৎ ১১.৯৯%। রাইড শেয়ারিং পার্টনার ৯.৯৯%, সিটি ব্যাংক স্টাফ ৪.৯৪% এবং ইয়ামাহা, হোন্ডা ও বাজাজ কোম্পানির কাস্টমারদের জন্য সিটি বাইক লোনের সুদের হার ১১.৯৯%।

লোনের পরিমাণ

বাইক লোনের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা। তবে সিটি ব্যাংক, বাইক কেনা ও রেজিস্ট্রেশন খরচ সহ মোট খরচের সর্বোচ্চ শতকরা ৮০% পর্যন্ত লোন প্রদান করে। অর্থাৎ বাইক কেনা ও রেজিস্ট্রেশন সহ মোট খরচ ১ লক্ষ টাকা হলে আপনি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। তবে মেয়ে ও সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ১০০ ভাগ লোন সুবিধা প্রদান করে। এফডিআর বা ফিক্স ডিপোজিটের বিপরীতে ৯৫% লোন নেওয়া যায়।

উল্লেখ্য সিটি ব্যাংক বাইক লোন ৬ থেকে ৩৫ মাস কিস্তিতে পরিশোধ সুবিধা প্রদান করে।

বাইক লোনের জন্য আবেদনের নিয়ম

বাইক লোনের জন্য উপরে উল্লেখিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আপনার নিকটস্থ সিটি ব্যাংক শাখার লোন অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন।

সর্বশেষ

প্রিয় ভিজিটর, সিটি ব্যাংক বাইক লোন নিয়ে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আপনার যদি বুজতে সমস্যা হয় তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আপনার নিকটস্থ সিটি ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করুন। আর আমার লেখাটা বেশি বেশি শেয়ার করে আমার বাইক কেনার ইচ্ছা পূরনে সাহায্য করতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ উল্টা রস্তায় কিংবা উচ্চ শব্দে হর্ন বাজিয়ে বাইক চালানো থেকে বিরত থাকুন। আপনার ছেলে বা মেয়েকে অল্প বয়সে চাওয়া মাত্র বাইক কিনে না দিয়ে তাদের নিজেদের স্বাবলম্বী হয়ে নিজের অর্থ দিয়ে কিনতে উৎসাহিত করুন।

সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন।