https://tipswali.com/wp-content/uploads/2020/08/টনসিল.jpg

টনসিল মূলত আমাদের শরীরের একটি অংশ। এটি এক প্রকার মাংসল প্যাড যা গলার পিছনের প্রতিপাশে অবস্থিত। টনসিলের ব্যাথা বা টনসিলাইটিস হল টনসিলের প্রদাহ।

টনসিলের ব্যাথা বা টনসিল সংক্রমণের সাথে কম বেশি প্রায় সবাই পরিচিত। ঘরোয়া চিকিৎসায়ই টনসিল ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মুলত টনসিল ইনফেকশনের কারনে টনসিলে ব্যাথা হয়ে থাকে। আর যে কোন বয়সের মানুষের টনসিলে ব্যাথা হতে পারে। তাই এ নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছুই নেই।

প্রিয় ভিজিটর, আজকের লেখাজুরে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো- টনসিল কি, টনসিলাইটিস বা টনসিলের ব্যাথার ঘরোয়া চিকিৎসা, টনসিলের ওষুধ, টনসিল পেকে গেলে করনীয় কি ও এ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারত।

Table of Contents

টনসিল কি?

মুখের ভিতরে জিহ্বার ঠিক পিছনে ও গলার দেয়ালের দুই পাশে গোলাকার মাংসপিণ্ডের মতো জিনিসটি দেখা যায় সেই মাংসপিণ্ডটিই হচ্ছে টনসিল। অন্যভাবে বলা যায়, টনসিল মুলত আমাদের গলার পিছনের একধরণের গ্রন্থি বা লিম্ফ নোড।

টনসিলের কাজ কি?

আমাদের দেহে শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদনে টনসিল কাজ করে থাকে। আর এই রক্তকণিকা বাহিরে থেকে প্রবেস্করা রোগজীবাণুর প্রতিরোধ করে। আর এর ফলে আমাদের শরীর ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকে।

এই ব্যাকটেরিয়ার সাথে যুদ্ধ করতে করতে মাঝে মাঝে টনসিল নিজেও আক্রান্ত হয়ে যায়; আর ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের কারনেই মূলত টনসিলে ব্যাথা হয়ে থাকে।

টনসিল ইনফেকশন বা টনসিলাইটিস এর লক্ষন

মূলত ঠাণ্ডা জনিত কারনে বা ব্যাকটেরিয়ার কারনে টনসিলাইটিস হয়ে থাকে। টনসিলের ইনফেকশনের লক্ষনঃ

  • ২ দিনের বেশি সময় ধরে গলা ব্যাথা থাকে।
  • খাবার গিলতে গেলে ব্যাথা অনুভব হয়।
  • কণ্ঠ বা গলার স্বরের পরিবর্তন আসে। অনেকেই আমরা সাধারন বাংলায় গলা ভেঙ্গে যাওয়া বলি।
  • স্ট্রেপ্টোকক্কাল টনসিলাইটিসের কারনে অনেক সময় শিশুদের মাথা ব্যাথা, জ্বর কিংবা পেটে ব্যাথা হয়ে থাকে।

টনসিলের ঘরোয়া চিকিৎসা

টনসিলের ব্যাথা বা ইনফেকশন একটি কমন ব্যাপার। তাই এ নিয়ে ভয় পাওয়া বা আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। সম্পূর্ণ ঘরোয়া চিকিৎসা ও বিশ্রাম নিলেই এমনি এমনি টনসিলের ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

১) লবন ও হালকা গরম পানি

এই চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে আমরা কম বেশি সবাইই পরিচিত। আপনার টনসিলে বা গলায় সামান্য ব্যাথা অনুভব হলেই সামান্য গরম পানি ও হালকা লবন মিশিয়ে বারে বারে গড়গড়া দিয়ে কুলি করুন।হালকা গরম পানি ও লবন আপনার গলায় থাকা ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমণের থেকে বাঁচাবে।

২) গরম দুধ ও হলুদ

টনসিলে হালকা ব্যাথা অনুভব হলেই এক কাপ গরম দুধে এক চিমটি হলুধ মিশিয়ে নিন। বিশেষ করে গরুর দুধে এন্টিবায়োটিক উপাদান আছে আর এই এন্টিবায়োটিক টনসিলের ব্যাথা দূর করতে খুবই কার্যকরী। আর হলুদ একটি ইনফ্লামেন্ট্রী এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ উপাদান তাই হলুদ টনসিলের ব্যাথা দূর করতে খুবই কার্যকরী।

৩) আদা চা

একটু গলা ব্যাথা বা শরীরে হালকা জ্বর অনুভব হলেই মুরব্বীদের বলতে দেখবেন – আদা দিয়ে এক কাপ চা বানিয়ে খাও। মহাঔষধ নামে খ্যাত আদায় রয়েছে হাজারো পুষ্টি গুন।আদায় রয়েছে ক্রমোনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, অয়েল সহ নানা পুষ্টি উপাদান।

দেড় কাপ পরিমান পানিতে এক কাপ চামচ পরিমান আদা কুচি কুচি করে পরিমান মতো চা পাতা দিয়ে ৮-১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। যতটুকু গরম নিতে পারেন সেভাবে দিনে ২-৩ বার পান করুন। আদার অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান কলা ব্যাথা ও ফুলা কমিয়ে দিয়ে খুবই কার্যকরী।

৪) গ্রিন টি ও মধু

মধুর হাজারো পুষ্টি গুন সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাইই অবহিত। মহানবী (সঃ) মধুকে খাইরুদ্দাওয়া বা মহৌষধ বলেছেন। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ পুষ্টিবর্ধক হিসেবে পান করে আসছে।

যাহোক, এক কাপ গরম পানিতে আধা চামচ সবুজ চা পাতা ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে টানা ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এর পর কুসুম গরম থাকতে থাকতে আস্তে আস্তে চুমুক দিয়ে পান করুন। ডোক দিয়ে গিলতে গেকে গলায় আটকে যেতে পারে। দিনে ৩-৪ বার এই উপায় পান করুন।

৫) লবন ও লেবুর রস

টনসিল ব্যাথা সারাতে লেবুরসও বেশ কার্যকরী। ২০০ মিলিগ্রাম পরিমান গরম পানিতে এক কাপ লেবুর রস, এক চামচ লবন এবং মধু চায়ের মতো করে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। যতদিন গলা ব্যাথা ভালো না হয় তত দিন এইভাবে পান করতে থাকুন।

৬) ঠাণ্ডা জাতীয় খাবার পরিহার করুন

মূলত ঠাণ্ডা জনিত কারনে টনসিলের ব্যাথা হয়ে থাকে। তাই ঠাণ্ডা জাতীয় খাবার কম গ্রহন করুন। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময় আমরা বাহির থেকে এসে ফ্রিজ থেকে ঠাণ্ডা পানি বা খাবার বের করে খাওয়া শুরু করি। যা কিনা টনসিল ব্যাথা অন্যতম কারন।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

উপরের চিকিৎসায় যদি আপনার টনসিলের ব্যাথা বা সমস্যা সমাধান না হয় তাহলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসা নেওয়া উচিত। ৪ দিনের বেশি সময় ধরে আপনার গলা ব্যাথা বা জ্বর থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ডাক্তারের পরামর্শ মতো চিকিৎসা নিলে খুব সহজেই টনসিল ব্যাথা ভালো হয়ে যাবে।

টনসিল ইনফেকশন

টনসিল ইনফেকশনের উপসর্গ হচ্ছে- গনগন গলাব্যথা, জ্বর, ঠাণ্ডা, খাবার খেতে অনীহা। মনে রাখবেন এই সামান্য সমস্যা আপনি যদি অবহেলা করেন তবে এটি পেকে আপনার মারাত্মক ইনফেকশন হতে পারে। এমনকি এই ইনফেকশন থেকে ক্যান্সার হতে পারে। সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা শুরু করে দিন। সম্ভব হলে গলায় মাফলার জাতীয় কিছু পেচিয়ে রাখুন। ঠাণ্ডা লাগানো বা ঠাণ্ডা জাতীয় খাবার ও পানীয় হতে বিরত থাকুন।

টনসিলের ওষুধ

টনসিলাইটিস বা টনসিল জনিত প্রদাহ/ব্যাথা হলে প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিন। ৩/৪ দিনের বেশি সময়ধরে ব্যাথা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ সেবন করুন। অনেকেই ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক খেয়ে থাকে। মনে রাখবেন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনভাবেই এন্টিবায়োটিক বা অন্যকোন ব্যাথাজনিত ওষুধ খাওয়া উচিত না।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

টনসিল ব্যাথা হলে কি কি খাওয়া যাবে না?

টনসিল জনিত ব্যাথা হলে চিপস, টোস্ট, কাঁচা গাজর, আপেল, ও অন্যান্য যেকোন শক্ত খাবার খাওয়া উচিত না। শক্ত খাবার খাওয়ার ফলে গলায় আঁচড় লাগতে পারে যা থেকে গলায় ব্যথা হতে পারে।

কোন ধরণের খাবার খাওয়া উচিত?

টনসিলাইটিস বা টনসিল জনিত ব্যথা হলে নরম অর্থাৎ গিলে খাওয়া যায় এমন খাবার খাওয়া উচিত। যেমন- স্যুপ, ব্রথ, রান্না করা পাস্তা, খাঁটি ফল দিয়ে প্লেইন দই, আলু ভর্তা, উষ্ণ ওটমিল

সর্বশেষ

সম্মানিত ভিজিটর, টনসিলের ব্যাথার ঘরোয়া চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার, ও টনসিলাইটিস নিয়ে আমাদের লেখা আজকের মতো এখানেই শেষ করছি।

সুস্থ থাকুন নিরাপদ থাকুন। বাংলা ভাষায় স্বাস্থ্য, বিউটি, ফ্যাশন, রান্না টিপস সহ হাজারো টিপস ও ট্রিকস পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন আপনাদের প্রিয় টিপসওয়ালী ডট কম।

আরও পরুনঃ

ওজন কমানোর সহজ উপায়

ছেলেদের রূপচর্চার টিপস

Leave a Reply