স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধুলাবালি মুক্ত জীবনযাপন অত্যান্ত জরুরি। শহুরে পরিবেশে ধুলাবালি যেন আমাদের প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। ছোট বড় কিংবা বয়স্ক সকলের স্বাস্থ্যের জন্য ধুলা বালি অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার আপনাকে এই অসহ্য ধুলাবালি থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দিতে পারে।

প্রিয় ভিজিটর বাংলাদেশের বাজারে নানা ধরনের ও দাম এর Vacuum cleaner পাওয়া যায়। কাজেও এই সকল ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার সম্পর্কে ভালো ধারনা না থাকলে একজন নতুন ক্রেতা হিসেবে একটি ভালো মানের ও সঠিক দামে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কেনা সম্ভব নাও হতে পারে।  প্রিয় পাঠক আজকের লেখাজুরা বিসাদ আলোচনা করার চেষ্টা করবো ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কি, কিভাবে কাজ করে, সেরা কয়েকটি ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের দাম/প্রাইস ইন বাংলাদেশ (Vacuum Cleaner Price In Bangladesh), কেনার টিপস, ও ব্যবহারের নিয়ম। তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে একে একে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কি

Vacuum Cleaner বা বাংলায় ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। অনেকে একে হুভার ও বলে থাকে। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হচ্ছে  ধুলাবালি শুষে নেওয়ার যন্ত্রবিশেষ যা বাতাসের সাহায্যে আপনার মেঝে (ফ্লোর) ও অন্যান্য পৃষ্ঠতল থেকে ধুলা ময়লা শুষে নেয়।

ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

অ্যামেরিকার ওয়েস্ট ইউনিয়ন, আইওয়া এর ড্যানিয়েল হেস নামে এক ব্যাক্তি কার্পেট ক্লিনার ১৮৬০ সালে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার আবিস্কার করেন। যার নাম দিয়েছিলেন কার্পেট সুইপার। এতে থাকা একটি ব্রাশ ঘুরে ঘুরে ধুলিকনা সংগ্রহ করত ও একটি হাপর (জাঁতা) এর ধুলোবালি ধরে রাখত। এর কাছাকাছি সময়ে ১৮৬৯ সালের দিকে শিকাগো শহরের আইভেস ডাব্লিউ ম্যাকগ্যাফাই নামে আরেক ব্যাক্তি বহির্লউইন্ড নামে একটি মডেল নিয়ে আসেন। উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে পাওয়ার ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের দেখা মিলে। এর পরে অনেক ম্যানুফ্যাকচারার ও গবেষক বিভিন্ন মডেলের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার নিয়ে আসেন। বর্তমান সময়ে এটি এক ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় গৃহস্থলির জিনিসে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে উন্নত দেশ সমূহে রবোটিক Vacuum cleaner বেস জনপ্রিয়।

ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের প্রকারভেদ

কাজের ও বিভিন্ন ফিচারের কারনে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মধ্যে নানা পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৬ প্রকারের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার পাওয়া যায়। এগুলো যথাক্রমে- ক্যানস্টার ভ্যাকুয়াম, আপরাইট, হ্যান্ডহেল্ড, স্টিক ভ্যাকুয়াম, পেট (পোষা প্রাণীর) ভ্যাকুয়াম,  রবোটিক।

ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কিভাবে কাজ করে

আমরা সাধারনত জানি যে বাতাসের সাহায্যে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কোন পৃষ্ঠে থাকা ধুলা ময়লা টেনে নিয়ে নেয়। তবে আসলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কাজ করে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদের এর ভিতরের দিকে নজর দিতে হবে। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক, কিভাবে একটি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কাজ করেঃ

আমরা যেভাবে পানি গিলে ফেলি তেমনি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ঋণাত্মক বাতাসের সাহায্যে কোন তলে থাকা ধুলা ময়লা ভিতরের দিকে টেনে বা শুষে নেয় । ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ভিতরে একটি ঋণাত্মক বাতাসের প্রবাহ তৈরি করে এই কাজটি করে থাকে।

ভ্যাকুয়াম ক্লিনারেরে মধ্যে থাকা মোটর থাকে যাতে থাকা পাখার সাহায্যে ধুলোময়লা শুষে নেওয়ার জন্য বাতাস তৈরি করে। ফলে ছোট ধুলি কনা থেকে শুরু করে অন্যান্য ময়লা শুষে নেয়। এখন আপনি বলেত পারেন এই বাতাস ভিতরে গিয়ে আটকে যায় না? নাহ, বাসাত বের হয়ে যাওয়ার জন্যও স্পেস থাকে।

ভিতরের দিকে বাতাসে টেনে নেওয়া ময়লা বা ধুলাবালি ফিল্টারের সাহায্যে আটকে দেওয়া হয়। এমনকি খালি চোখে যে সকল ধুলাবালি দেখা যায় না সেগুলোও  এবং ময়লাগুল একটি বিনে জমা হয়।

বেশিরভাগ ভ্যাকুয়াম ক্লিনারগুলো এভবেই কাজ করে তবে মডেল ভেদে এগুলো আলাদা হতে পারে। অনেক ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সাথে ব্রাশ থাকে ব্রাশের সাহায্যে সামনে থাকা ধুলো ময়লা শুষে নেয়। এবং এর সাথে থাকা ছোট বিনে জমা করে। পরবর্তীতে আপনাকে বিন আলাদা করে ময়লা ফেলে দিতে হয়।

সেরা ৫ টি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার

বাংলাদেশের বাজারে নানা ধরনের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার পাওয়া যায়। নিচে বাজেট ফ্রেন্ডলি ও ভালো মানের ৫ টি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, এদের ফিচার ও এর দাম আলোচনা করা হলঃ

1. Panasonic MegaCyclone Bagless Vacuum Cleaner

বাংলাদেশের বাজারে আন্তর্জাতিক মানের ইলেক্ট্রনিক্স এর জন্য প্যানাসনিক বেশ সুপরিচিত। বাংলাদেশের বাজারে প্যানাসনিক মেগাসাইক্লন বাগলেস ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি এভেইলএভেল। এতে থাকছে সর্বোচ্চ ১৬০০ ওয়াট ইনপুট পাওয়ার। এর বিন সর্বচ্চ ২ লিটার পরিমান ডাস্ট ধারন করতে পারে। লং লাস্টিং মোটর এর সাথে সাথে থাকছে HEPA ফিল্টার। কর্ড এর দৈর্ঘ্য ৫ মিটার। ফলে মাঝারি থেকে বড় আকারের রুম খুব সহজেই ক্লিন করা সম্ভব। বাংলাদেশের বাজারে এর দাম ধরা হয়েছে ১৩৫০০ টাকা।

2. Samsung SC4570 Canister Vacuum Cleaner

স্যামসাং এর এই ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটিতে থাকছে ৩৬০ ডিগ্রি সুইবেল হজ। সর্বোচ্চ ডাস্ট ধারন ক্ষমতা ১.৩ লিটার যা প্যানাসনিকএর তুলনায় কম হলেই ১.৩ লিটার পরিমান ময়লা কিন্তু অনেক। সাথে থাকছে একটি ৬ মিটারের পাওয়ার কর্ড যা প্যানাসনিকের তুলনায় ১ মিটার বেশি। তাই যারা বড় কর্ড যুক্ত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার খুঁজছেন তারা এটি দেখতে পারেন। ২০০০ ওয়াটের সাইক্লোন ফোর্সের এই ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটির বাজার মুল্য ১৪৫০০ টাকা।

3. Xiaomi FV2

আপনি যদি গাড়ি, বালিশের কাভার, বিছানা, সোফা, ম্যাট্রেস কিংবা এই জাতীয় জিনিস পরিষ্কার করার জন্য একটি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার খুঁজে থাকেন তবে আপনি শাওমি এফভি২ ক্রয় করতে পারেন। দামে তুলনামুলক একটু বেশি হলেও এটি বেশ কার্যকরী ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। আকারে ছোট হওয়ায় হাতের মুঠোয় নিয়ে পরিষ্কার করার কাজ সেরে ফেলতে পারবেন। এর ডাস্ট ধারন ক্ষমতা ০.২ লিটার। ব্যাটারি চালিত হওয়ায় বিদ্যুৎ না থাকলেও আপনি আপনার কাজ করতে পারবেন অনায়সে। থাকছে ২০০০ এমএএইচ এর ব্যাটারি। পাওয়ারফুল মুডে এক চার্জে ১০ মিনিট ও অবিরাম বা স্থির মুডে টানা ২৫ মিনিট ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশে Xiaomi FV2 Vacuum cleaner এর দাম ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।

4. Walton WAVC-F153 Vacuum Cleaner

আপনি যদি কম দামে একটি ভালো মানের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার খুঁজে থাকেন তবে আপনি ওয়াল্টন Walton WAVC-F153 Vacuum Cleaner টি কিনতে পারেন। আমি আমার অফিসের জন্য Walton WAVC-F153 Vacuum Cleaner ব্যবহার করি। প্র্যায় ২ বছর হয়ে গেছে স্টিল কোন ঝামেলা ছাড়াই চলছে। অফিস বয় এটি নিয়ে এখন পর্যন্ত কমপ্লেইন দেয় নাই। আকারে মাঝারি হওয়ার রুমের এক কোনায় খুব সহজেই রেখে দেওয়া যায়। এতে রয়েছে ৩টি ফিল্টার সিস্টেম। এর বিন ক্যাপাসিটি ১.১ লিটার। ওয়াল্টন ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের দাম ৫৫০০ টাকা।

5. Philips FC9728/01 PowerPro Expert Bagless Vacuum Cleaner

ইলেক্ট্রনিক্স এর জগতে বিশেষ করে বাংলাদেশ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে ফিলিপস এক পরিচিত নাম, আয়রন, টিভি, ফ্রিজ, লাইটের পাশাপাশি তাদের ভ্যাকুয়াম ক্লিনারেরও বেশ ভালো সুনাম রয়েছে। ২০০০ ওয়াটের এই পাওয়ারফুল Vacuum Cleaner টিতে থাকছে Allergy H13 filter, ৭ মিটার পাওয়ার কর্ড। হ্যান্ডেলের সাথে রয়েছে সফট ব্রাশ। এছাড়া ডিজিটাল পাওয়ার কন্ট্রোল ফাংশন তো আছেই। তবে আপনি যদি একটি ফিলিপস Vacuum cleaner কিনতে চান আপনার বাজেটটা একটু বেশিই থাকতে হবে। বাংলাদেশের বাজারে এর দাম ধরা হয়েছে ২৩৫০০ টাকা।

ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহারের নিয়ম

সঠিক ভাবে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহারের নিয়ম না জানার কারনে আমাদের অনেকেরই ক্লিনিং কাজে অনেক বেশি সময় লেগে যায় এবং সঠিক ভাবে পরিষ্কার করতে পারি না। চলুন ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জেনে নেওয়া যাকঃ

ধাপ-১ঃ আপনার ডিভাইসটি যদি আগের দিনে ব্যবহার করে থাকেন তবে এর ময়লার বিনে ময়লা জমা আছে কিনা চেক করে নিন। ময়লা থাকলে সেগুলো ফেলে দেওয়া নিশ্চিত করুন। অনেক সময় এর সাথে ময়লার ব্যাগ থাকে। ব্যাগটি যদি পুনঃব্যবহারযোগ্য হয় তবে এটি খালি করে নিন।

ধাপ-২ঃ বেশির ভাগ ক্লিনারে বিভিন্ন আকারের কার্পেটের জন্য এডজাস্টেবেল ইনডিকেটর থাকে। নিশ্চিত হয়ে নিন, আপনার কার্পেটের জন্য উপযুক্ত দৈর্ঘ্য সেট করা আছে। যদি এটি খুব বেশি সেট করা থাকে তবে এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাকশন হবে না এবং যদি এটি কম সেট করা থাকে তবে এটিতে যথেষ্ট এয়ারফ্লো থাকবে না।

ধাপ-৩ঃ ক্লিন করার সময় সবগুল ছোট জিনিস পত্র ভ্যাকুয়ামের পথ থেকে সরিয়ে ফেলুন। আসবাবপত্রের কোনায় কোনায় অনেক ময়লা জমে থাকে।

ধাপ-৪ঃ ইলেকট্রিক সুইচ অন করুন এবং আপনার মেঝের কার্পেটের উপর সামনে ও পিছনের দিকে ভ্যাকুয়াম টানতে থাকুন। তবে একটু আস্তে আস্তে। যদি আপনি খুব দ্রুত করেন তবে ময়লা ভালোভাবে পরিষ্কার হবে না। নরমাল এয়ারফ্লোতে ক্লিনার ব্যবহার করা উত্তম।

ধাপ-৫ঃ ক্লিনিং শেষ হয়ে গেলে ময়লা গুলো ফেলে দিয়ে ব্যাগে অথবা নির্দিষ্ট স্থানে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি রেখে দিন।

রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার

রোম্বা বা রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হচ্ছে এক ধরনের Vacuum cleaner যা কিনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা তৈরি করা মেঝে পরিষ্কার করার যন্ত্র। মূলত সমান পৃষ্ঠতল বা মেঝে পরিস্কার করার কাজে এর ব্যবহার করা হয়। এগুলো সাধারনত সেলফ কন্ট্রোলড কিংবা রিমোট কন্ট্রোল হয়ে থাকে। এর বিশেষ সুবিধা হচ্ছে আপনাকে হাৎ দিয়ে ধরে ধরে পরিষ্কার করার কাজ করতে হয় না।

প্রিয় ভিজিটর আজকের মতো এখানে শেষ করছি। আজকের লেখা নিয়ে আপনার কোন প্রশ্ন কিংবা পরামর্শ থাকেল শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Spread the love

Leave a Reply