Site icon TipsWali

শিশুদের স্কুলের প্রতি আগ্রহী করার উপায় – ৭ টি টিপস

https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/11/prepare-your-child-for-school.jpg

আমার সন্তান স্কুলে যেতে চায় না, স্কুলে পাঠালে অনেক কান্নাকাটি করে। আমার বাচ্চাকে স্কুলের প্রতি আগ্রহী করার উপায় কি? কি করলে আমার সন্তান স্কুলে যেতে চাইবে? হ্যা, প্রিয় ভিজিটর আমাদের কাছে এমন করেই জানতে চেয়েছেন আমাদের একজন সম্মানিত ভিজিটর।

আপনিও যদি একই সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকনে তাহলে আজকের লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইলো। আশা করছি আমাদের টিপসগুলো আপনার বাচ্চাকে স্কুলে যেতে আগ্রহী করবে।

১) একসাথে স্কুলে যান

যুগ বদলেছে পুরুষ-মহিলা সবাইই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। কেউ প্রয়োজনে কেউ আবার সমাজকে দেখিয়ে দিতে। তবে এর প্রভাব পড়ে বাচ্চাদের বেড়ে ওঠার উপর। বাবা মা থেকে দূরে থাকা আর বাসার কাজের মানুষের কাছে বড় হয়ে উঠতে উঠতে মা-বাবার আদর স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয় হাজারো শিশু। যাহোক এ নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকার কারনে অনেক মা-বাবা তাদের সন্তানকে কাজের লোক বা অন্য কাউকে দিয়ে স্কুলে পাঠায়। বাচ্চারা সাধারণত নতুন পরিবেশে বা নতুন মানুষের সাথে সহজে মিশতে চায় না। আর স্কুল বাচ্চাদের কাছে একদমই নতুন। তাই তারা এখানে অনেক অস্বস্তি অনুভব করে। স্কুলে যাওয়ার পর কান্নাকাটি করে। তাই স্কুলে ভর্তি করানোর আগে আপনার সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যান। সম্ভব হলে স্কুলের মাঠে বাচ্চার সাথে খেলা করুন। ক্লাসে তার পাশে বসুন।

২) স্কুলে সন্তানের নতুন বন্ধু বানান

শিশুরা সাধারণত শিশুদের সাথে খেলতে ও মিশতে পছন্দ করে। তাই স্কুলে তার নতুন বন্ধু বানাতে সাহায্য করুন। সম্ভব হলে বাসার আশেপাশে একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ে এমন কারো সাথে বাসায় খেলার সুযোগ করে দিন। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচিত ও খেলার সাথী পেয়ে যাবে যা তাদের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলবে।

৩) বাসায় বসে স্কুলের মতো খেলুন

বাচ্চাদের পুতুল খেলার সাথে তো সবাই পরিচিত। হ্যা বাসায় এই খেলাটাকে স্কুলের মতো করে উপস্থাপন করুন। অথবা আপনার বাচ্চাকে বলুন চল আমরা স্কুল স্কুল খেলি। বাচ্চাদের খেলা, গল্প বা গানের মধ্যে স্কুলের বিভিন্ন রুটিন অভিনয় করুন। এইখেলায় আপনার সন্তানকে শিক্ষক বানান। এর ফলে তার মনের মধ্যে স্কুলের প্রতি ভয় থাকলে তা দূর হবে এবং সে ভাবতে শুরু করবে স্কুল অনেক মজার জায়গা।

8) আপনার স্কুল জীবনের মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন

শিশুরা মনে করেন স্কুলে গেলে তাকে পড়া মুখস্ত দিতে হবে না পারলে ম্যাডাম বা স্যার শাস্তি দেয়, খেলাধুলা করা যায় না। আর এই কারনে তাদের মনের মধ্যে স্কুল সম্পর্কে বিরূপ ধারণা কাজ করে। আপনার শিশুকে আপনার স্কুল জীবনে ঘটে যাওয়া মজার ঘটনাগুলো শেয়ার করুন। আর এইগল্পগুলো আপনার শিশুদের স্কুলের প্রতি আগ্রহী করবে। তবে এমন কোন বিষয় শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন যা আপনার সন্তানকে খারাপ কিছু শেখায়।

৫) স্কুলের প্রতি আগ্রহী বাচ্চাকে পুরস্কার দিন

শুধু বাচ্চারা বললে ভুল হবে, বড় ছোট সবাইই উপহার পেতে পছন্দ করে। আপনার সামর্থ্য অনুসারে আপনার সন্তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য পুরস্কৃত করুন। তবে এমন কিছু বলবেন না যা আপনি আপনার সন্তানকে দিতে পারবেন না বা দিবেন না। তাহলে আপনার প্রতি সে বিশ্বাস হাড়িয়ে ফেলবে। তবে চাওয়া মাত্র সব কিছু দেওয়া থেকে বিরত থাকুন এতে করে আপনি আপনার সন্তানের জন্য নিজেই বিপদ ডেকে আনবেন। নিয়মিত স্কুলে গেলে ছুটির দিনে বাহিরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার অফার করতে পারেন। তবে মোবাইল কিনে দেওয়ার স্বপন দেখানো যাবে না।

৬) সন্তানের কথা শুনুন

আমরা অপরের কথা না শুনে তাদের প্রতি নিজেদের মতামত চাপিয়ে দিতে পছন্দ করি বা দেই। যা একটি খারাপ অভ্যাস। শিশুদের সব জিনিস ভালো লাগবে এমন না। তাদের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চান। নতুন পরিবেশ তাদের কাছে ভয়ের কিংবা অনেক বড় মনে হতে পারে। তাদের কথা শুনুন, স্কুল কেমন লাগে জিজ্ঞাস করুন। আপনি সব সময় তাদের পাশে আছেন এমন আশ্বস্ত করুন। এতে তাদের ভয় দূর হবে। শিশুকে স্কুলে যেতে আগ্রহী করে তুলবে।

৭) স্কুলে রেখে আসার সময় বিদায় দিন

নতুন অবস্থায় অনেকেই শিশুকে স্কুলে রেখে লুকিয়ে লুকিয়ে চলে আসে। এতে করে শিশুদের মধ্যে খারাপ লাগা কাজ করে তারা ভাবে মা বা বাবা মনে হয় আজও চলে যাবে। এভাবে না করে আশা সময় তাদের বলে আসুন। আসার সময় তাকে সালাম বা গুড বাই জানাতে পারেন। এটি আপনার সন্তানের মধ্যেও কাজ করবে। সেও ভবিষ্যতে কাউকে বিদায় জানানোর সময় সালাম দিবে।

সম্মানিত ভিজিটর, আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আমাদের লেখাটি আপনার কেমন লেগেছে জানাতে পারনে টিপসওয়ালী ডট কম এর ফেসবুক পেজে। লেখা নিয়ে আপনার কোন পরামর্শ থাকলেও শেয়ার করতে ভুলবেন না। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। নিরাপদ থাকুন।

“জেনারেল শিক্ষার পাশাপাশি সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা দিন।”

বাচ্চাদের খাবার তালিকা সম্পর্কে পড়ুন।