https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/08/bad-breath.jpg

মানুষের মনের ভাব প্রকাশের সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম হচ্ছে ভাষার আদান প্রদান। আর কারও কাছাকাছি বসে কথা বলার মাধ্যমে কাউকে সবচেয়ে বেশি জানা ও বুজা যায়। আর এই ভাব বিনিময়ের জন্য আমরা মুখ ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু কথা বলার সময় মুখ থেকে গন্ধ আসলে সেটি হতে পারে অন্যতম একটি বিরক্তকর জিনিস। কথা বলার সময় কারো মুখের দুর্গন্ধ আসলে মানুষ তাকে এড়িয়ে চলে আর ভেবে নেয় সে নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করে না কিংবা সে পরিষ্কার পরিছন্নতার বিষয়ে সচেতন নয়।

সম্মানিত ভিজিটর, নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করার পরও আমাদের অনেকের মুখ থেকে দুর্গন্ধ আসে। হয়তো আমাদের অনেকের শুনতেও হয়েছে তুই/তুমি/আপনি কি আজ দাঁত ব্রাশ করেন নাই। আবার সামনে না বলেলও অনেকে পিছনে এ নিয়ে কথা বলে। আসলে পাছে লোকে অনেক কিছু বলে এ নিয়ে মাথা ব্যাথা করার কিছু নেই। আপনার সমস্যা আপনার সমাধান করতে হবে।

প্রিয় ভিজিটর, টিপসওয়ালী আপনার দৈনন্দিন নানা সমস্যার সঠিক ও কার্যকরী সমাধান খুঁজে বের করে দিতে প্রস্তুত। আজকের লেখাজুড়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো- মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার কারন কি, কিভাবে মুখের দুর্গন্ধ দূর করা যায় (কিছু ঘরোয়া উপায়) মুখের দুর্গন্ধ দূর করার ঔষধ, চিকিৎসা ও এ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়।

মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ কি?

রোগের চিকিৎসার আগে রোগ ও এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে হবে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে চাইলে আগে এর কারন জানতে হবে। মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে- দীর্ঘ সময় ধরে মুখ পরিষ্কার না করা, না খেয়ে থাকা, মুখে ব্যাকটেরিয়ার প্রজন, সাইনাস জনিত সমস্যা, কিডনির সমস্যা, টনসিলে সমস্যা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা। এছাড়াও লিভারের সমস্যা, ক্রনিক অম্বলের কারনে ও অ্যালার্জির সমস্যার কারনে মুখে দুর্গন্ধ হয়ে থাকে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া উপায় ও খাবার

শারীরিক সমস্যা জনিত কারনে মুখে দুর্গন্ধ না হলে আপনি সম্পূর্ণ ঘরোয়া উপায়ে মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে পারবেন। তবে মেজর সমস্যা হলে আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। চলুন কথা না বাড়িয়ে মুখের দুর্গন্ধ দূর করার কিছু উপায় ও খাবার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. ভালো মানের দাঁতের মাজন ব্যবহার করুন

মুখ পরিষ্কার ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখার সবচেয়ে সেরা ও কার্যকরী উপায় হচ্ছে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা। তবে দাঁত ব্রাশ করার সময় যদি ভালো মানের টুথ পেস্ট বা মাজন ব্যবহার না করেন তবে হিতের বিপরীত হতে পারে।

ভালো টুথপেস্ট বা মাজন কোনটি?

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট ও পাউডার পাওয়া যায় এদের মধ্যে কোলগেট, ক্লোজআপ, পেপসোডেন্ট, ওরাল-বি, সেনসোডাইন, মেসওয়াক, এ এম-পিএম। এছাড়াও হোয়াইট প্লাস, ডাবর রেড, মেডিপ্লাস, আয়ুস, ম্যাজিক টুথ পাউডার।

২. দিনে অন্তত একবার ফ্লস করুন

ফ্লস হচ্ছে রেশমের সুতোর সাহায্যে দুই দাঁতের মাঝখান পরিষ্কার করা। আমাদের মুখের ময়লা মূলত দাঁতের ফাকে বা গোঁড়ায় জমে থাকে ও পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। সঠিকভাবে ফ্লসিং করলে আপনার দাঁতের মধ্যে জমে থাকা খাদ্য কনা এবং প্লেক অপসরণ করে মুখের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফ্লসিং করার জন্য এখন ফ্লসিং কিট কিনতে পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির উপায়

৩. জিহ্বা ব্রাশ করুন

আমাদের অনেকেই বিশেষ করে বাচ্চারা জিহ্বা ব্রাশ করে না। দাঁতের ফাকের পর জিহ্বা সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়ার আশ্রয় দেয় ও জন্মায়। তাই দাঁত ব্রাশ করার সময় জিহ্বাও ব্রাশ করে ফেলুন। বাজারে বিশেষ টুথ পেস্ট ও পাউডার পাওয়া যায় যাতে জিহ্বা ক্লিনারও থাকে।

৪. দাঁতের টুলসগুলো পরিষ্কার করুন

দাঁতের সমস্যা থাকে বাঁচতে বিভিন্ন কিট এছাড়াও অনেকে মাউথ গার্ড, নকল দাঁত ব্যবহার করে থাকে। দিনে অন্তত একবার কিংবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এটিভালোভাবে পরিষ্কার করুন ও ব্যবহার করুন।

৫. কিছুক্ষণ পর পর কুলি করুন ও পানি পান করুন

শুষ্ক মুখে কিংবা অনেক সময় মুখ বন্ধ রাখলে ব্যাকটেরিয়ার বাম্পার প্রজনন ঘটে। আই এই ব্যাকটেরিয়া মুখে দুর্গন্ধ ও মুখে নানা রোগ সৃষ্টি করে। তবে অবশ্যই তামাক এড়িয়ে চলুন। প্রচুর সাদা পানি পান করুন। কোমল পানীয়, কফি কিংবা অ্যালকোহল নয়, এগুলো মুখে শুঁকিয়ে বা লেগে নতুন ব্যাকটেরিয়া তৈরি করবে।

৬. খাবারে পরিবর্তন আনুন

আমরা যেসকল খাবার খাই সেগুলোও মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার কারন হতে পারে। বিশেষ করে বেশি মশলাযুক্ত খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন। পেঁয়াজ রসুনের মতো খাবার আপনার মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে। আবার প্রচুর পরিমাণ চিনিযুক্ত খাবারও দুর্গন্ধ করতে পারে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত?

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে যে সকল খাবার খাবেন- আনারসের জুস, মধু, দুধ, কমলা, গ্রিন টি, আপেল। খাবার খাওয়ার পর পানি পান করুন অথবা কুলি করুন।

৭. নিয়মিত ব্রাশ ও টুথ পেস্ট পরিবর্তন করুন

আমাদের অনেকেই যতদিনে না দাঁতের ব্রাশ ভাজ না হয়ে যায় ততোদিনে পরিবর্তন করি না। এটি খুবই বাজে অভ্যাস। একটি দাঁত ব্রাশ অনেকদিন ব্যবহার করলে এ থেকেও নতুন ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু ছড়াতে পারে। পাশাপাশি ভালো ভাবে মুখ ও দাঁত পরিষ্কার হয় না।

কতো দিন পর টুথ ব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত?

অন্তত তিন কিংবা চার মাস পর পর টুথ ব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। অবশ্যই নরম ও ভালোমানের টুথ ব্রাশ ব্যবহার করুন।

৮. নিয়মিত ডেন্টাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

আপনার যদি মাড়ির রোগ থাকে তবে আপনি অবশ্যই একজন মারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কারন মাড়ি থেকে দাঁত সরে গিয়ে মাড়ির মাংসে সংক্রমণ হয়ে এ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। ঘরোয়া উপায়গুলোর সাহায্য সমস্যার সমাধান না হলে একজন ডেন্টিস্ট এর শরণাপন্ন হন।

৯. মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করুন

মাউথে ওয়াশ মূলত মুখে ও মুখের লালা রসে থাকা জীবাণুর কর্মক্ষমতার ঝুঁকি কমায়। অবে অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে আপনার দাঁতে দাগ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জেনে কিন কিভাবে বাসায় মাউথ ওয়াশ তৈরি করবেন।

চিকিৎসা

চিকিৎসার জন্য আপনাকে অবশ্যই ডাক্তার কিংবা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। আপনার শহরেই বিশেষজ্ঞ ডেন্টিস পেয়ে যাবেন। মুখের কিংবা দাঁতের চিকিৎসার জন্য ডেন্টাল হাসপাতালে যেতে পারেন।

সর্বশেষ

প্রিয় পাঠক, আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। পরিছন্ন থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন ও অন্যকে নিরাপদে রাখুন। সব সময় সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন। আমাদের লেখা নিয়ে আপনার কোন মতামত প্রশ্ন, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে। লেখাটি শেয়ার করতে পারেন আপনার কাছের মানুষের সাথে। শেয়ার করতে নিচে/পাশে থাকা শেয়ার আইকনে ক্লিক করুন।