https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/10/get-rid-of-body-odor.jpg

প্রত্যকে মানুষের শরীরের আলাদা একটা ঘ্রান থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মানুষের শরীরের ঘ্রানকে ব্রোমহাইড্রোসিস বলা হয়। তবে ঘ্রানের তীব্রতা বেশি হলে গায়ের ঘ্রান দুর্গন্ধে পরিণত হয়। শরীরের দুর্গন্ধ মানুষের কাছে যেমনি অসহ্য লাগে তেমনি এর কারনে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয়। পাশাপাশি এটি মানুষের পার্সোনালিটির উপরও প্রভাব ফেলে। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই মানুষের শরীরের দুর্গন্ধ সহ্য করতে পারে না তাই দুর্গন্ধ দূর করার উপায় খোঁজে।

সম্মানিত ভিজিটর, আসসালামু ওয়ালাইকুম। আশা করি মহান আল্লাহর রহামতে আলহামদুলিল্লাহ্‌ নিশ্চয়ই ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।

আজকের লেখাজুড়ে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো শরীরে দুর্গন্ধ হওয়ার কারন কি, শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়, কোন খাবার বা ঔষধ শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতে পারে

শরীরে দুর্গন্ধ হওয়ার কারন কি?

আমাদের অনেকেরই শরীরের দুর্গন্ধ হওয়ার আসল কারন কি তা জানা নাই। অনেকে শরীরের দুর্গন্ধের জন্য ঘামকে দায়ী করলেও এর মূল কারন হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া। আর শরীরের সবচেয়ে আদ্র স্থানগুলোতে ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরের ঘামের প্রোটিন ভেংগে এসিডে পরিণত করে। আর এর ফলে যে বাই-প্রোডাক্ট তৈরি হয় তা থেকে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এছাড়াও আমাদের খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক গঠন, খাবার, মানসিক চাপ, শরীর নিয়মিত পরিষ্কার না করা, লিভারের সমস্যা, অতিরিক্ত ঘাম, ডায়াবেটিস ইত্যাদি কারনে শরীর থেকে দুর্গন্ধ আসে।

শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার ৬ টি টিপস

১. নিয়মিত গোসল

শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতে নিয়মিত গসলের বিকল্প নেই। শুধু গন্ধ দূর করা না, সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকতে নিয়মিত গোসল করা উচিত। আপনার শরীর যদি বেশি ঘামে ও অনেক স্যাঁতসেঁতে কিংবা খোলা স্থানে থাকা হয় যেখানে অনেক বেশি ধুলা ময়লা তবে আপনার প্রতিদিন দুইবার গোসল করা উচিত। গোসলের সময় বগল, গলার ভাজ ও কোমরের নিচের অংশ, পিঠ, হাত-পা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। আমাদের অনেকেই বাসায় ও জিমে ব্যায়াম করি। ব্যায়াম করার পর শরীর ঠাণ্ডা হলে যত দ্রুত সম্ভব গোসল করে ফেলুন।

২. অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার

বাজারে বিভিন্ন ধরনের সাবান পাওয়া যায়। কিছু সবান রূপচর্চার জন্য ব্যাভার করা হয়, কিছু সাবান স্কিনের সুরক্ষা ও কিছু সাবান বিভিন্ন চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। রংচটা বিজ্ঞাপন দেখে সাবান কেনা থেকে বিতর থাকুন। আপনার শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন। আপনি চাইলে বডিওয়াশ ও ব্যবহার করতে পারেন। যা আ[নার শরীরে ব্যাকটেরিয়ার উৎপাদন হ্রাস করবে। এবং শরীর ঘেমে যে গন্ধ তৈরি হয় তা থেকে মুক্তি দিবে।

৩. অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করুন

আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে(যেমন- বগল,জননাঙ্গ) অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করুন। কারন এইসক স্থানে থাকা লোম অনেক বেশি সময় ঘাম ধরে রাখে আর আমাদের শরীরে ব্যাকটেরিয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয়। এছাড়াও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নিয়মিত অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা উচিত।

৪. নিয়মিত বডি স্প্রে ব্যবহার

সাধারণত শরীরের ঘ্রান দূর করতে ও নিজেকে অন্যের কাছে আকর্ষণীয় করতে তুলতে আমারা নানা বডি স্প্রে ও পারফিউম ব্যবহার করে থাকি। বাহিরে অনেক সময় থাকার কারনে আমাদের শরীর থেকে একটা ঘ্রান আসে। পারফিম ব্যহার করলে মানুষের কাছে ঘামের বিপরীতে পারফিউমের ঘ্রান যায় ফলে তারা বিরক্ত হয় না। তবে অতিরিক্ত পারফিউম ব্যবহার করলে তা আবার বিরক্তের কারন হতে পারে। এছাড়া সবাই সব ধরনের ঘ্রান পছন্দ করে না। তাই লাইট পারফিউম ব্যবহার করুন। ইসলামের দৃষ্টিতে অ্যালকোহল ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই হালাল পারফিউম বা আতর ব্যবহার করুন।

৫. মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন

ডাক্তার ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মশলাযুক্ত খাবার না খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে কড়া ঘ্রান সমৃদ্ধ খাবার গ্রহনের ফলে শরীরে থেকে বাড়তি গন্ধ আসে। আবার যারা অ্যালকোহল গ্রহণ করে তাদের শরীর থেকে বাজে গন্ধ আসে। আপনার শরীর থেকে বেশি ঘ্রান আসলে খাবার মেনুতে পরিবর্তন আনতে পারেন। নিয়মিত খাবার তালিকা হতে বেশি মশলা সমৃদ্ধ খাবারগুলো সরিয়ে দিন। ছাড়া অ্যালকোহল আপনার শরীরের নানা ক্ষতি করে থাকে।

৬. পাতলা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান

জামানার বিবর্তনে টাইট-ফিট পোশাক একটি ট্রেন্ডে পরিনিত হয়েছে। টাইট পোশাক পরিধান করার ফলে আমাদের শরীরে বাতাস প্রবেশ করতে পারে না ও বেশি ঘাম উৎপাদন হয়ে ব্যাকটেরিয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে ফলে গন্ধ তৈরি হয়। তাই লুস ফিটিং জামা কাপড় পড়ুন অবশ্যই শালীন হয় যেন। ইসলামের টাইট আবার বেশি পাতলা (যা থেকে শরীরের ত্বক দেখা যায়) পোশাক পরিধান করা নিষেধ ও মেয়েদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম।

হঠাৎ শরীরের ঘ্রান পরিবর্তন হলে কি করা উচিত?

আপনার যদি পূর্বে শরীরের কোন দুর্গন্ধ না থাকে এবং হঠাৎ শরীর থেকে দুর্গন্ধ আসা শুরু করে বা ঘ্রান পরিবর্তন হয় তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সর্বশেষ

স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করুন। পরিষ্কার পরিছন্ন থাকুন। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলুন। জীবন অনন্য সুন্দর হয়ে উঠবে। আপনার কোন প্রশ্ন কিংবা জিজ্ঞাসা থাকলে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন ও নিরাপদ থাকুন।