https://tipswali.com/wp-content/uploads/2020/08/ওজন-কমানোর-উপায়.jpg
Spread the love

ওজন কমানোর উপায় : ছোট বেলায় যখন চিকন ছিলাম- কি অবস্থা এতো খাও যায় কই! আবার যখন একটু মোটা হয়ে গেলাম- এই শরীর নিয়া চলাফেরা করতে কষ্ট হয় না? একদিক থেকে কথা খারাপও বলে কারন বেশি চিকন বা বেশি মোটা হওয়া কোনটাই ভালো না। যাহোক আজকের লেখা জুড়ে কথা হবে আপানার শরীরের বাড়তি মেদ বা ওজন কমানোর কিছু সহজ ও কার্যকরী উপায় নিয়ে।

ওজন কমানোর অনেক টিপস আপনাকে ক্ষুধার্ত বা অসন্তুষ্ট করতে পারে। আর এটিই আপনার জন্য ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কঠিন কারন হয়ে দাড়াবে।

যাহোক, সত্যি কথা বলতে সকল ডায়েটে এই প্রভাব থাকে না। লো কার্ব ডায়েট ওজন কমানোর জন্য সব থেকে কার্যকরী; এবং এই পদ্ধতিটি নিয়মিত করাও সহজ।

প্রিয় পাঠক, তো কথা না বাড়িয়ে চলুন আজকের লেখায় একে একে ওজন কমানোর উপায় বা টিপস গুলো বিস্তারি জেনে নেওয়া যাক।

কার্বস বাদ দিন: ওজন কমানোর সেরা উপায়

প্রথমেই হাই কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া বাদ দিন। বেশি পরিমাণে চিনি খাওয়া আপনার দেহের পক্ষে সবচেয়ে খারাপ কাজ। এটি আপনার স্বাস্থ্যের উপর অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এখন কথা হচ্ছে শাকসবজিতেও তো কার্বস আছে!! তাহলে কোন ধরনের কার্বসযুক্ত খাবারগুলো বাদ দিবেন? চিনিযুক্ত বা কোমাল পানীয়, পেস্ট্রি, কুকিজ এবং কেক, আইসক্রিম, ক্যান্ডি এবং চকোলেট, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং আলু চিপস ও এ জাতীয় অন্যান্য খাবার।

আপনি যখন এটি করেন, আপনার ক্ষুধার মাত্রা হ্রাস পায় এবং আপনি সাধারণত উল্লেখযোগ্যভাবে কম ক্যালোরি গ্রহন করেন।

আর এর ফলে আপনার শরীর শক্তির জন্য কার্বস ব্যবহার করার পরিবর্তে ফ্যাট কমাতে শুরু করে।

কার্বস বা কার্বোহাইড্রেট এমন অণু যাতে কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন পরমাণু রয়েছে।

পুষ্টিতে, “কার্বস” বলতে তিনটি বৃহত্তর পুষ্টি উপাদানগুলির মধ্যে একটিকে বোঝায়। অন্য দুটি হলেন প্রোটিন এবং ফ্যাট।

কার্বস বাদ দেওয়ার আরেকটি সুবিধা হ’ল এটি আপনার শরীরের ইনসুলিনের মাত্রা হ্রাস করে, পাশাপাশি কিডনিগুলিও অতিরিক্ত সোডিয়াম এবং পানি প্রবাহিত করে; এছাড়াও এটি ফোলা এবং অপ্রয়োজনীয় পানি জনিত ওজন কমাতে সাহায্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে এভাবে প্রথম এক সপ্তাহে সাড়ে চার কেজি কোন কোন ক্ষেত্রে তারও বেশি ওজন কমানো সম্ভব।

প্রোটিন, ফ্যাট এবং শাকসবজি খান

আপানর প্রতি বেলার খাবারেই প্রোটিন, ফ্যাট, এবং কম কার্বস যুক্ত শাকসবজি রাখুন।

খাবারের বেলা কমানোর দরকার নেই। অর্থাৎ আপনি আগে যেভাবে দুই বেলা বা তিন বেলা খাবার খেতেন সেভাবেই খান। তবে তাও যদি খিদে পেয়ে যায় তাহলে বিকালে হালকা কোন খাবার মেনু অ্যাড করে নিতে পারেন।

কোন ধরনের প্রোটিন গ্রহন করবেন?

শরীরের জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার একান্ত আবশ্যক। এএসএন( ASN) এর মতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমান প্রোটিন গ্রহন করার ফলে ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম ক্যালরি ব্যয় বাড়তে পারে।

পিএমসি(PMC) এর মতে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবারগুলো খাবারের প্রতি অভিলাস এবং প্রায় ৬০ আবেগমূলক চিন্তা ভাবনাও কমাতে সক্ষম; এমনকি মাঝ রাতে স্নাক্স খাওয়ার ইচ্ছাও প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিতে সক্ষম।

যে সকল প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করবেন- গরু, মুরগি, ভেড়ার মাংস; মাছ (সামুদ্রিক মাছ ভালো); কুসুম সহ ডিম; উদ্ভিজ্জ প্রোটিন যেমন- মটরশুটি, শিম এবং সয়া।

লো কার্ব সমৃদ্ধ শাকসবজিতে কোন গুলো

কম কার্ব সমৃদ্ধ খাবারের কথা শুনে অনেকেই ঘাবড়ে যায়। এখানে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নাই এগুলতে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদনা রয়েছে।

আমাদের দেশে সহজলভ্য লো কার্ব শাকসবজি গুলোর মধ্য অন্যতম হচ্ছে- ব্রকলি, ফুলকপি, টমেটো, পালং শাক, কালে, বাঁধাকপি, সুইস চার্ড, লেটুস, শসা ইত্যাদি।

কি জাতীয় ফ্যাট শরীরের ওজন কমাতে খাওয়া উচিত

কি ভাই একটু আগেই তো বললেন ফ্যাট পরিহার করতে! এখন আবার ফ্যাট গ্রহন করতে! জি। অবাক হওয়ার কিছু নাই। একই সাথে লো কার্ব এবং লো ফ্যাট গ্রহন করে ডায়েট নিয়মিত করা অনেক কঠিন হয়ে যেতে পারে।

বিভিন্ন হেলদি ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার যেমন- স্বাস্থ্যকর মেদ উত্স অন্তর্ভুক্ত: জলপাই তেল, নারকেল,  অ্যাভোকাডো তেল, মাখন গ্রহন করা যেতে পারে।

তবে অনেক সময় মানুষিক কারনেও খিদে লাগে। আপনার মনের মধ্যে এমন চিন্তা আসতে পারে যেমন- একটু খাই, এটা খাই ওটা খাই অর্থাৎ একটা খাই খাই ভাব কাজ করে।

এই ধরনের চিন্তা ভাবনা আমাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোন কার্টিসল নিঃসরন করে; আর এই হরমোন আমাদের খাবার খেতে আগ্রহি করে তোলে। আর আমাদের চর্বি ও চিনিতে টুইটুম্বর খাবার খেতেই বেশি ভালো লাগে।

আর অতিরিক্ত চিনি ও চর্বি জাতীয় খাবার মেদ বা ওজন বাড়ানোর অন্যতম কারন।

প্রতিদিন তিনবার ভার উত্তোলন: ওজন কমানোর অন্যতম সেরা উপায়

ওজন কমানোর জন্য আপনাকে যে এই উপায় বা পদ্ধতিটি একান্ত পালন করতে হবে তা নয়; তবে আপনি এক্সট্রা বেনিফিট পাবেন।

ওজন কমানোর ফলে আপনার শরীরের চামড়া ঝুলে যেতে পারে। আর একই সাথে লো কার্ব সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন এবং ভার উত্তলনের ফলে আপনার শরীরের পেশীগুলোরও কিছুটা উন্নতি হবে।

তবে আপনি চাইলে সপ্তাহে তিন বা চার দিন জিমে যেতে পারেন। এমনকি একজন জিম প্রশিক্ষকের পরামর্শও নিতে পারেন।

উল্লেখ্য, ওজন কমানোর জন্য কেবল মাত্র ভারউত্তোলনই একমাত্র উপায় না। আপনি নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, জগিং, দৌড়, সাইকেলিং, অথবা সাতার কাটতে পারেন।

সোর্সঃ হেলথলাইন, এএসএন, পিএমসি।

প্রিয় পাঠক, সহজে ওজন কমানোর উপায় নিয়ে এই ছিলো আজকের মতো; ওজন কমানোর অন্য কোন টিপস বা উপায় জানা থাকলে শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে। আমাদের কাছে লিখতে ক্লিক করুন এখানে

আরও পড়ুনঃ ছেলেদের রূপচর্চার টিপস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *