https://tipswali.com/wp-content/uploads/2020/12/work-place-সেফটি-টিপস.jpg

জীবন আর জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিন কতো না কাজ কিংবা সমস্যার সমাধান করতে হয় আমাদের। তবে কাজ করার পাশাপাশি কাজের পরিবেশ, নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাও জরুরী।
আপনি যে কোন কাজই করেন না কেন স্বাস্থ্যবিধি ও সেফটি বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় ভিজিটর আজকের লেখায় কথা হবে আপনি কিভাবে আপনার কর্মক্ষেত্রের ঝুকি কমিয়ে নিয়ে আসতে পারেন।

আপনাদের জন্য টিপসওয়ালীর পক্ষ থেকে আজকে থাকছে কর্মক্ষেত্রের জন্য ১০ টি সেফটি টিপস-

১. কাজের ঝুঁকি অনুধাবন করুন

আপনি কোথাও কোন নতুন প্রজেক্ট শুরু করলে বিশেষ করে আউটডোরে কোন কাজ করলে আপনার কাজের কি কি ঝুঁকি আছে সেগুলো খুঁজে বের করুন। একবার আপনার কাজের ঝুঁকিগুলো বুজতে পারলে আপনি সেগুলো মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারবেন। এর ফলে অসাবধানতা বসত ইনজুরি বা অন্যান্য দুর্ঘটনা থেকে নিজে ও আপনার সহকর্মীরা রক্ষা পাবে।

২. অতিরিক্ত প্রেসার কমিয়ে আনুন

কাজের মধ্যে নুন্যতম স্বাধীনতা না থাকলে কাজ করে শান্তি পাওয়া যায় না। এতে করে কর্মীদের মধ্যে হতাশা চলে আসে। ফলে তারা মুল কাজ থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। কারও পারফর্মেন্স ভালো না হলে তাকে প্রেসার দেওয়ার পরিবর্তে মোটিভেট করুন। টার্গেট দিয়ে দিন। এবং টার্গেট পুরনের জন্য উপহারের ব্যবস্থা রাখুন।

৩. পর্যাপ্ত ব্রেকের ব্যবস্থা রাখুন

একটানা কাজ দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে ওই কাজের প্রতি অনীহা চলে আসাটা অস্বাভাবিক কিছু না। আর এই ক্লান্তি বা অনীহা দূর করার সবচেয়ে সেরা উপায় হলো নিজেকে সময় দেওয়া। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় দিন। সহকর্মীদের সাথে হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন। সুযোগ হলে ভ্রমণ বা  ট্যুরে যেতে পারেন।

৪. বিশেষ সময় খুঁজে নিন

আপনি কোথাও কাজ করলে বুজবেন দিনের কোন সময় আপনার কাজ করতে ভালো লাগে বা লাগে না। তাই এই সময় গুলোকে টার্গেট করুন। এই আপনার বিশেষ কোন টাস্ক থাকলে আপনার যেই সময়গুলোতে বেশি ভালো অনুভব করেন সেই সময়গুলোতে আপনার বিশেষ কাজের সিডিউল করার চেষ্টা করুন।

৫. আলোচনার মধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন

আপনার কাজের মধ্যে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হবেন। কর্মীরা ভুল করে থাকবে। যে বিষয়গুলোতে ভুল করে সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। তাদের সাথে আলোচনা করুন। অথবা মাঝে মাঝে মিটিং বা ফ্লোরে দায়িত্ববান কাউকে দিয়ে মাসের মধ্যে দুই একবার মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

৬. যান্ত্রিক সমস্যা সমধানের ব্যবস্থা রাখুন

টেকনোলজির এই যুগে কর্মক্ষেত্রের নানান কাজে বিভিন্ন টেকনোলজির সাহায্য নিতে হয়। প্রতিদিনের কাজের শুরুতে একবার চেক করে নিন আপনার কাজ সম্পন্ন করার জন্য যে সকল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন সেগুলোর সব ঠিক আছে কিনা। কারন কাজের মাঝখানে কোন সমস্যা দেখা দিলে আপনার সারা দিনটাই মাটি হয়ে যেতে পারে।

৭. নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও পোশাক পড়ুন

সেফটি ফার্স্ট- এই লাইনটির সাথে নিশ্চয়ই পরিচিত আছেন। আপনার কাজ যদি কারখানা কিংবা নির্মান ভিত্তিক হয়ে থাকে অবশ্যই আপনার ও আপনার কর্মীদের নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি নিশ্চিত করুন।

৮. কোথাও কোন ইস্যু থাকলে অন্যকে জানান

এই ধরুন আপনার অফিসের কোন একটি যন্ত্র বিকল বা নষ্ট অথবা এমন কোন জায়গা আছে যেখানে প্রবেশ করা ঝুকি পূর্ণ। এছাড়াও অফিসের কোন নিয়মের পরিবর্তন আসলে আপনার সুপারভাইজারের মাধ্যমে অন্যদের জানান। এর ফলে নতুন সমস্যার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

৯. অগ্নি নির্বাপণ ব্যাবস্থা রাখুন

আজকাল প্রায়ই আগুন জনিত দুর্ঘটনার খবর দেখতে ও শুনতে পাওয়া যায়। আপনার কারখানা কিংবা অফিসে অগ্নি নির্বাপণ ব্যাবস্থা রাখুন। রাসায়নিক কিংবা দাহ্য পদার্থ থাকলে সরকারি বিধি নিষেধ মেনে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করুন।

১০. আপনার অধিকার জানুন

কর্মক্ষেত্র আপনার নিজের অধিকার জানুন। নিজের অধিকার বলতে প্রতিষ্ঠান হতে আপনার বিভিন্ন-সুযোগ সুবিধা। কাজ করাতে পারার সঠিক কর্মপরিবেশ, বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব ও সঠিক ভাবে পালন করুন।

কাজের পরিবেশ ঠিক রাখতে এবং আপনার ও আপনার কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সেফটি টিপস গুলো মেনে চলুন ও অন্যকে সেফটি টিপস মেনে চলতে উৎসাহিত করুন।

Spread the love

Leave a Reply