Site icon TipsWali

ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিস এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

diabetes treatment in bd

ডায়াবেটিসের সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। এটি এমন একটি রোগ যা কখনো সরে না। কিন্তু এটি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে তা সরাসরি নিরাময় করার চিকিৎসা না থাকলেও  একটু সচেতন হলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আজকের লেখায় আমরা জানবো ডায়াবেটিস কি? এর লক্ষণ, ডায়াবেটিস কেন হয়, চিকিৎসা, নিয়ন্ত্রণ করার উপায় ও বেড়ে গেলে করনীয়।

ডায়াবেটিস কি

ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। শরীরের ইনসুলিন নামক হরমণের ঘাটতির কারনে রক্তে  গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং তা প্রসবের সাথে বেরিয়ে আসে। এই সামগ্রিক অবস্থাই ডায়াবেটিস। এটি কোন মরনব্যাধি কিংবা ছোঁয়াচে রোগ নয়। তাই এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সচেতন জীবন যাপন করলেই এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ

ডায়াবেটিস রোগের সাধারন কিছু লক্ষণ রয়েছে ।যা খেয়াল করলে সহজে ডায়াবেটিস চিহ্নিত করা যায়। আপনার শরীরে এই সকল লক্ষন দেখা দিলে নিকটস্থ ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন ও তাদের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো হলোঃ

ডায়াবেটিস কেন হয়

বিভিন্ন কারনে ডায়াবেটিস হতে পারে। এর প্রথম একটি কারন হল জেনেটিক বা বংশগত কারন। বংশগত কারনে ইন্সুলিন কম হলে বা ইন্সুলিনের কার্যক্ষমতা কমে গেলে।  নানা ধরনের সংক্রমক রোগের ফলে এ রোগ হতে পারে। বহুদিন স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করলেও হতে পারে। এছাড়া খাবার খাওয়ায় ব্যালেন্স বা কনট্রোল না করলেও এটি হতে পারে। সুষম খাবারের তালিকা দেখুন।

ডায়াবেটিস এর চিকিৎসা

ঔষধ ও ইনজেকসন দিয়েই মুলত ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা হয়। ডায়াবেটিসের কারণগুলো লক্ষ রেখে এ গুলো তৈরি করা হয়। যাদের শরীরে পরিমাণ মত ইনসুলিন নেই তাদের ইনসুলিন নিতে হবে। আবার যাদের শরীরে ডায়াবেটিস থাকা সত্বেও ইনসুলিন তৈরি হয় তাদের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর পরও যাদের না কমবে তারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ খাবেন।

ডায়াবেটিস কিভাবে নিয়ন্ত্রন করবেন

নিয়মিত ঔষধ সেবন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম করার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু নিয়ম মেনে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

১. নিম

নিম ইনসুলেন তৈরিতে সাহায্য করে। এটি সুগার নিয়ন্ত্রনে চমৎকার কাজ করে। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ টি নিমের পাতা খালি পেটে খাবেন। এটি ডায়াবেটিস নিউরপ্যাথি রোগীদের জন্য ভালো একটি উপায়।

২. আমলকী

আমলকী রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রনে কাজ করে। প্রতিদিন ২০ মিলিলিটার করে আমলকীর জুস খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকার। এছাড়া আমলকীর গুরাও খেতে পারেন।

৩. করল্লা

করল্লার জুস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো একটি উপাদান। নিয়মিত ২-৩ টা করল্লার জুস করে খেতে পারে। এতে আপনার সুগার নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে।

৪. গ্রিন টি

গ্রিন টি ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। তাই রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রনে গ্রিন টি পান করতে পারেন।

Diabetes রোগীদের খাদ্য তালিকা

কোনো ডায়াবেটিস রোগী যদি শৃঙ্খলইত জীবন যাপন করতে পারেন তবে অন্য রোগীদের চেয়ে সুস্থ থাকবেন। একজন Diabetes রোগীকে ঔষধ,খাবার ও নিয়মানুবর্তিতা এই তিনটি জিনিস অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এবার দেখে আসি একজন ডায়াবেটিসের রোগী কিকি খাবার খাবেন?

সকালের খাবারঃ  সকাল নয়টার মধ্যে নাস্তা সারতে হবে। এই নাস্তায় আপনি রুটি/চিরা/মুড়ি/টোস্ট খতে পারেন।

দুপুরের খাবারঃ  দুপুরের খাবার খাবেন ১.০০-২.০০ টার মধ্যে। এই খাদ্য তালিকায় আপনি ভাত,মাছ/মুরগির মাংস, শাকসবজি,সালাত,লেবু খেতে পারেন।

বিকালের খাবারঃ  বিকালে খেতে পারেন ছোলা, চিনি ছাড়া বিস্কুট, মুড়ি এরকম হালকা খাবার।

রাতের খাবারঃ  রাতে আপনি আপনার পছন্দমতো রুটি বা ভাত খেতে পারেন। সাথে সবজি, মাছ, সালাত খেতে পারেন। রাতের খাবার রাত ৮-৯ টার মধে শেষ করবেন।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার সম্পর্কে বেশ সচেতন থাকতে হয়। খাবার কনট্রোল করতে পারলে ডায়াবেটিস এর মাত্রা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। Diabetes রোগীরা যেসকল খাবার এড়িয়ে চলবেন।

প্রিয় পাঠক, সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপনের জন্য বিশুদ্ধ, হালাল খাবার ও শারীরিক পরিশ্রমের বিকল্প নেই। সৎ পথে উপার্জিত ও হালাল খাবার গ্রহন করুন।