https://tipswali.com/wp-content/uploads/2021/08/testosterone.jpg

টেস্টোস্টেরন হচ্ছে পুরুষ সেক্স হরমোন। তবে মহিলাদেরও সামান্য পরিমাণ থাকে। এই হরমোন মূলত পুরুষের অণ্ডকোষ এবং মহিলাদের ডিম্বাশডয়ে উৎপাদিত হয়। অ্যান্ড্রিল গ্রন্থিগুলিও সামান্য পরিমানে টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদন করে থাকে।

ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক পরিবর্তনের (পেশী বৃদ্ধি, গভীর কণ্ঠস্বর, চুলের বৃদ্ধি) মূল চলক টেস্টোস্টেরন হরমোন। যৌবন বয়সের পাশাপাশি বৃদ্ধ বয়সেও এর মাত্রা অনুকুল পরিমানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টেস্টোস্টেরন হরমোনের স্বাস্থ্যকর মাত্রা সাধারণ স্বাস্থ্য, রোগের ঝুঁকি, শরীরের গঠন, যৌন ক্রিয়াকলাপ এবং অন্যান্য সবকিছুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মহিলাদের স্বাস্থ্য এবং যৌন সুস্থতার জন্যও এই হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সম্মানিত ভিজিটর, আজকের লেখাজুড়ে বিখ্যাত কয়েকটি হেলথ ম্যাগাজিনের তথ্য মতে দ্রুত ও প্রাকৃতিকভাবে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির কার্যকরী কয়েকটি উপায়, খাবার, ব্যায়াম ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির উপায়

প্রিয় ভিজিটর চলুন এ পর্যায়ে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির ৮ টি কার্যকরী উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

১. ব্যায়াম ও ভার উত্তোলন

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থতার অন্যতম কার্যকরী উপায় হচ্ছে ব্যায়াম। বিশেষজ্ঞদের মতে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির সব চেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে ব্যায়াম।

একটি বিশেষ গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম বেশি করে তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা অন্যদের তুলনায় বেশি। রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং, ওজন উত্তোলন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী উভয় ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির জন্য সর্বোত্তম উপায়।

২. প্রোটিন, ফ্যাট এবং কার্বস খান

আমরা যে সকল খাবার গ্রহন করি তা টেস্টোস্টেরন হরমোন ও শরীরের অন্যান্য হরমোনের উপর প্রভাব ফেলে। আর এজন্য আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহন করতে হবে। অপরদিকে নিয়মিত ডায়েটিং কিংবা অতিরিক্ত মাত্রায় খাবার গ্রহনও এর উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

পর্যাপ্ত প্রোটিন খাওয়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখার পাশাপাশি চর্বি হ্রাসেও সহায়তা করে, যা আপনার শরীরের স্টেস্টোস্টেরনের সাথেও যুক্ত। ন্যাশনাল লাইব্রেরী অব মেডিসিন এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে কার্বস এই হরমোন অপ্টিমাইজ করতে সাহায্য করে তাই নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ কার্বস গ্রহন করুন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর চর্বি টেস্টোস্টেরন হরমোন ও স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারি।

৩. দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন

দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। যা কার্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। কার্টিসলকে মূলত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার হরমোন বলা হয়। আর কার্টিসলের অস্বাভাবিক মাত্রা টেস্টোস্টেরন কমাতে পারে।

দুশ্চিন্তা ও কার্টিসল হরমোন আপনার শরীরে ক্ষতিকর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির ক্ষতি ও চর্বি বাড়িয়ে তুলতে পারে। যা পরবর্তীতে আপনার শরীরে টস্টস্টরন বা স্টেস্টোস্টেরন হরমোনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সর্বদা দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে মানুষের সাথে মিশুন, পরিবারকে সময় দিন, হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন।

আরও পড়ুনঃ মানসিক অবসাদ থেকে মুক্ত থাকার উপায়

৪. সূর্যের আলো গায়ে মাখুন কিংবা ভিটামিন ডি গ্রহন করুন

ভিটামিন ডি আবিষ্কারের পর থেকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ভিতামিনে পরিনত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায় ভিটামিন ডি স্বাস্থ্যের নানা উপকারের পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে স্টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধিতে বেশ কার্যকরী। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা যায়।

১২ মাসের একটি গবেষণায় দেখা যায় যে প্রতিদিন ৩০০০ আইইউ ভিটামিন ডি৩ ও এর সাথে পরিপূরক স্টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রায় ২৫% বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি হ্রাস পাওয়ার মাত্রাও কমায়। তাই নিয়মিত সূর্যের আলো গ্রহণ করুন।

৫. নিয়মিত ঘুমান

খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম মানুসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার শরীরীরে স্টেস্টোস্টেরনের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে একজন মানুষের দৈনিক নুন্যতম ৬ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। একটি গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি অতিরিক্ত ১ ঘণ্টা ঘুমের জন্য এই হরমোনের মাত্রা গরে ১৫% হারে বেশি হয়। প্রতিদিন গরে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম, সুষম খাবার গ্রহণ ও শারীরিক ব্যায়াম খুব দ্রুত আপনার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ এই হরমোনের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে।

৬. ভিটামিন ও খনিজ গ্রহণ করুন

এক গবেষণায় দেখা যায়, জিংক ও ভিটামিন বি শুক্রাণুর মান প্রায় ৭৪% বৃদ্ধি করতে সক্ষম। আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভিটামিন এ, সি এবং ই আপনার যৌন হরমোন এবং স্টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৭. ড্রাগ, এলকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন

নেশা দ্রব মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংস কোরে দেয়। ধর্মীয় দিক থেকেও নেশাজাত দ্রব্য গ্রহনে সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। এটা আমরা সবাইই কম বেশি জানি যে, মেডিকেল কিংবা বিনোদন যে কারনেই আমরা অ্যালকোহল গ্রহণ করি না কেন উভয়ই আমাদের স্টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা হ্রাস করতে পারে। ধূমপান ত্যাগের উপায় পড়ুন

সুত্র- হেলথ লাইন, মেডিকেল নিউজ, পাবমেড।

টেস্টোস্টেরন সম্পর্কিত জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

টেস্টোস্টেরন হরমোন কি?

Testosterone বা টেস্টোস্টেরন হচ্ছে পুরুষ সেক্স হরমোন। তবে মহিলাদেরও সামান্য পরিমাণ থাকে। এই হরমোন মূলত পুরুষের অণ্ডকোষ এবং মহিলাদের ডিম্বাশডয়ে উৎপাদিত হয়। অ্যান্ড্রিল গ্রন্থিগুলিও সামান্য পরিমানে টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদন করে থাকে।

টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির জন্য কোন খাবার খাওয়া উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির জন্য যে সব খাবার খাওয়া উচিত সেগুলো হচ্ছে- মধু, বাঁধাকপি, রসুন, ডিম কলা, কাঠবাদাম, টক ফল, পনির বা চিজ, পালংশাক, আঙ্গুর, ডালিম, মাংস।

কোথা থেকে টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরিত হয়?

মানুষ, সরীসৃপ প্রানি, পাখি ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রানির শুক্রাশয়ে টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপন্ন হয়। পুরুষের শুক্রাশয় থেকে ও নারীর ডিম্বাশয় থেকে উৎপন্ন হয়। তবে অ্যান্ড্রোনাল গ্রন্থি থেকে সামান্য পরিমাণ ক্ষারিত হয়ে থাকে।

টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাবে কি হয়?

এটি মূলত যৌন হরমোন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাবে শরীরে ক্লান্তিভাব অনুভব হয়। এর অভাবে আপনার লিঙ্গ শিথিলতার রোগ দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ আপনার অঙ্গে যৌন উদ্দীপনা আসবে না।

টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার লক্ষন কি?

যৌনক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তিভাব চলে আসা, পেশীর ঘনত্ব কমে যাওয়া, বদমেজাজ, অবসাদ, চুল পড়ে যাওয়া ও চেহারা ফ্যাঁকাসে হওয়া যাওয়া ইত্যাদি টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়ার অন্যতম লক্ষন।

কোন ঔষধ খাওয়া উচিত?

শরীরের হরমোনে হ্রাস কিংবা বৃদ্ধি আভ্যন্তরীণ বিষয়। শুধু লক্ষন দেখেই একদম নিশ্চিত হওয়া সম্ভব না। টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধির জন্য কোন ঔষধ খাওয়া উচিৎ তা কেবল পরিক্ষা করে ফলাফলের উপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারই বলতে পারবে। তাই কোন ঔষধ কিংবা ইনজেকশন গ্রহণ করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তবে আপনি উপরের উপায়গুলো অনুসরন করতে পারেন।

সর্বশেষ

সম্মানিত ভিজিটর, টেস্টোস্টেরন হরমোন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর ও পরিছন্ন জীবনযাপন করুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন। নেশাজাত দ্রব্য গ্রহণ ও ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন। এর চিকিৎসা ও ওষুধ গুলো খুবই সংবেদনশীল বিষয় তাই অনলাইনে দেখে কিংবা কারও কথা শুনে ওষুধ, থেরাপি কিংবা ইনজেকশন গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। কোন ওষুধ কিংবা ইনজেকশন গ্রহণ করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আমাদের লেখা নিয়ে আপনার কোন মতামত, অভিযোগ, কিংবা পরামর্শ থাকলে শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে।