আজকের লেখায় আমরা জানবো, জাফরান কি, এর উৎপত্তি, জাফরানের ব্যবহার, খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা, রূপচর্চায় জাফরানের ব্যবহার, তৈরির নিয়ম, চাষ পদ্ধতি, এর দাম সম্পর্কে বিস্তারিত।
জাফরান কি
ইংরেজিতে Saffron বা জাফরান একটি মশলা জাতীয় উদ্ভিদ। যা কিনা বিশ্বের সবচেয়ে মুল্যবান মশলাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। যা মূলত জাফরান ক্রোকাস নামে পরিচিত। জাফরান মূলত খাবারে মধ্যে বিশেষ করে বিরিয়ানি ও প্রসাধনীতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন রোগ নিরাময়েও জাফরানের বিশেষ গুনাগুন রয়েছে। তবে এই জাফরান ফুল থেকে ফল হয় না। বিশেষ পদ্ধতিতে জাফরান চাষ করা হয়। নিচে চাষ পদ্ধতি নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো।
জাফরান অর্থ কি?
ইংরেজিতে Saffron বা জাফরান এর বাংলা অর্থ দুটি নদী। মূলত আরবি ভাষা থেকে এর উৎপত্তি এর বৈজ্ঞানিক নাম Crocus Sativus. অনেকের কাছে জাফরান কুমকুম নামেও পরিচিত।
জাফরানের উৎপত্তিস্থল
জাফরানের সঠিক উৎপত্তিস্থল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে এর উৎপত্তিস্থল ইরান। তবে গ্রিস এবং মেসোপটেমিয়াতেও জাফরানের দেখা মিলে। এছাড়াও কাশ্মীর, আফগানিস্তান, মরক্কো, ইটালি, ক্যানাডা, উত্তর আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের জাফারানের চাষাবাদ হয়ে থাকে। পৃথিবীর মোট জাফরানের ৯০ শতাংশই ইরান সরবরাহ করে থাকে।
দাম
মহা-মুল্যবান এই মশলার নাম যেমন দামেও তেমন। প্রতি কেজি জাফরানের দাম প্রায় ৫০০০ মার্কিন ডলার। এটি পৃথিবীর সব থেকে দামি মশলা।
উপকারিতা
দামে ও নামের পাশাপাশি কাজের দিক থেকেও জাফরান কিন্তু একটুও পিছিয়ে নেই। প্রসিদ্ধ এই মশলাটির রয়েছে বহুমাত্রিক গুণাবলি ও উপকারিতা। চলুন ওক নজরে জাফরানের উপকারিতাগুলো জেনে নেওয়া যাক-
মুল্যবান এই মশলাটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজ, কপার, আয়রন, ভিটামিন সি সহ ১৫০ টি উপাদান যা কিনা মানব শরীরের অনেক উপকারে আসে।
জাফরানে রয়েছে ক্রোসিন যা কিনা শুধুমাত্র খাবারের রংই পরিবর্তন করে না। এই ক্রোসিন মানব শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের কোষ যেমন- ওভারিয়ান, কাসিনোমা, লিউকেময়া প্রভৃতি ধবংস করতে সহয়তা করে থাকে। আর জাফরানে এক প্রকার ক্যারোটিন থাকে যা কে ক্রোসিন বলা হয়ে থাকে।
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে জাফরানের রয়েছে দারুন কার্যকরিতা। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে জাফরান মানুষের স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আর অনেক আগে থেকেই স্মৃতিশক্তি এবং পারকিনসন হাড়িয়ে যাওয়া লোকদের চিকিৎসায় জাপানে জাফরান ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।
ভাইটালিটি বাড়াতে জাফরান ও দুধ পান করা যেতে পারে। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস পরিমান দুধ ও এক চিমটে পরিমান জাফরান মিশিয়ে পান করুন আপনার শরীরের ভাইটালিটি বেড়ে যাবে।
শারীরিক উন্নতিতে জাফরান বিশেষ করে ওই সকল মেয়েদের যারা কিনা শারিরিক ভাবে অনুন্নত অর্থাৎ দেখলে রোগা রোগা লাগে। তারা প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক চামচ দুধের সাথে জাফরান মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি আপনার শরীরে হরমোন উদ্দীপ্ত করে তুলবে। এবং নিয়মিত পান করলে বেশ কিছু দিনের মধ্যেই এর কার্যকরীতা আপনি নিজেই টের পাবেন।
গর্ভাবস্থায় জাফরান
গর্ভবতী নারীদের জাফরান খাওয়ার প্রচলন অনেক আগে থেকেই। যা কিনা গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন নানা সমস্যা ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। চলুন গর্ভাবস্থায় জাফরান খাওয়ার উপকারিতা কি জেনে নেওয়া যাক-
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
গর্ভকালিন সময়ে অনেক গর্ভবতী মায়েদের রক্তচাপ বেড়ে ও কমে যায়। খাদ্য তালিকায় জাফরান ও ভিটামিন জাতীয় ফলমূল, সবুজ শাক -সবজি রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে থাকে।
অস্বস্তি ও ক্লান্তি দূর
ব্যাথা নিরাময়ে জাফরান বেশ কার্যকরী। বাচ্চা বড় হওয়ার সাথে সাথে টার নড়াচড়ার মাত্রা বেড়ে যায়। এবং মায়ের পেশিগুলোও বাচ্চার জন্য স্থান প্রসরিত করে সামঞ্জস্য করে নেয়। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সময় মায়েরা পেটে ব্যাথা অনুভব করে। গর্ভবতী কালিন সময়ে জাফরান গ্রহন করলে এই ব্যাথার মাত্রা কিছুটা কম অনুভব হয়।
শরীরে আয়রনের স্তর বাড়ায়
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা দেখা দেওয়া একটি কম সমস্যা। যা কিনা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। এই সময়ে বেশি পরিমান আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহনের পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত খাবার তালিকায় জাফরান রাখলে এটি আপনার শরীরে আয়রন ও হিমোগ্লোবিনের স্তর বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়াও ক্র্যাম্পস থেকে মুক্তি দেয়, হার্টের অসুখ থেকে রক্ষা করে, শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা নিরাময় করে; মাড়িতে ব্যাথা নিরাময়ে সাহায্য করে, উন্নত ও স্বাস্থ্যকর হাড় গঠন করে।
Saffron বা জাফরান খাওয়ার নিয়ম
জাফরানের তো অনেক গুনাগুন শুনলাম তাহলে আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে কি ভাতের মতো কতোগুলো জাফরান নিয়ে খাওয়া শুরু করবেন? জি না, জাফরান খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। চলুন জাফরান খাওয়ার নিয়মগুলো জেনে নেওয়া যাক-
জাফরান খাওয়ার সবচেয়ে উত্তম সময় হচ্ছে রাত। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুধের সাথে মিশিয়ে পান করুন। আর অবশ্যই অরজিনাল ইরানি জাফরান খাওয়ার চেষ্টা করুন।
যা যা লাগবে- ১ কাপ খাঁটি গরুর দুধ, অবশ্যই গুড়ো দুধ নয়। ১ চিমটি জাফরান, ১ চামচ কিসমিস বাটা বা আস্ত কিসমিস, এবং ১ চা চামচ অরগানিক বা খাঁটি মধু।
আগে ভালো ভাবে দুধ ফুটিয়ে নিন। ফুটানো দুধের সাথে জাফরান দিয়ে ২-৩ মিনিট ফুটিয়ে চুলা বন্ধ করে দিন। এর মধ্যে বাটা বা আস্ত কিসমিস দিয়ে দিন। এরপর ঢাকনা দিয়ে ৫ মিনিট রেখে দিন। কুসুম গরম দুধের সাথে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করুন। অবশ্যই দুধ ঠাণ্ডা হওয়ার আগে পান করুন।
রূপচর্চায় জাফরানের ব্যবহার
প্রাচিনকাল থেকেই রুপচর্চায় চন্দন ও জাফরানের ব্যবহার খেয়লা করা যায়। খাবারের ফ্লেবার যোগ করার পাশাপাশি রূপচর্চায় এর জুড়ি নেই। নিয়মিত ফেসপ্যাক ব্যবহারের মাধ্যে আপনার চেহারায় প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা নিয়ে আসতে পারেন। এটি আপনার রোদে পোড়া ত্বক ও ত্বকের দাগ দূর করতে বেশ কার্যকরী। চলুন জেনে নেওয়া যাক জাফরান দিয়ে কিভাবে রূপচর্চা করবেন ও ফেসপ্যাক বনাবেন।
১. চন্দন কাঠ, দুধ ও জাফরানের ফেসপ্যাক
এটি সব থেকে বেশি প্রচলিত ও কার্যকর জাফরান ফেসপ্যাক। আধাকাপ ঘন দুধের মধ্যে ১-২চিমটি জাফরান মিশিয়ে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এর সাথে ১ টেবিল চামচ পরিমান চন্দন গুঁড়া মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি হয়ে গেলে হাতের আঙ্গুলে নিয়ে ক্রিমের মতো করে মুখ ও গলার ত্বকে লাগান। ২০-৩০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলুন। মুখ শুকাতে ফ্যানের নিচে বসা যাবে না।
২. গোলাপজল ও জাফরানের ব্যবহার
আপনার মুখের ত্বক যদি বেশি তেলতেল হয় তবে এই প্যাকটি আপনার জন্য। প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। ২ টেবিল চামচ গোলাপজলের মধ্যে ২ চিমটি পরিমান জাফরান মিশিয়ে ভালো ভাবে নেড়ে নিন। এর পর ১ ঘণ্টা রেখে দিন। পরিষ্কার তুল নিয়ে তুলা চুবিয়ে চুবিয়ে চেপে চেপে আপনার ত্বক মুছুন। আর আপনি এই টোনার প্যাকটি চাইলে ফ্রিজে রেখেও অনেক দিন ব্যবহার করতে পারবেন।
৩. মধু ও জাফরান ফেপ্যাক
আপনার ত্বক যদি রুক্ষ হয়ে থাকে তাহলে এটি আপনার জন্য। ১ টেবিল চামচ পরিমান মধু নিন। এর সাথে দুই চিমটি জাফরান মিশিয়ে নিন। ১০ মিনিট রাখার পর আপনার মুখ ও গলার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। এভাবে ১০ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করুন। এবং ১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
৪. পুদিনা পাতা ও জাফরান
ব্রন দূর করতে এই প্যাকটি বেশ কার্যকরী। ১ টেবিল চামচ গোলাপজলে আধা চা চামচ (১/২ চামচের কম) পরিমান জাফরান ভিজিয়ে রাখুন। এক মুঠো পুদিনা পাতা বেটে জাফরানের মিশ্রণে মেশান। পেস্টের মতো তৈরি করে মুখের ত্বকে আধা ঘণ্টা রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে আপনার মুখের ব্রন দূর হবে।
চাষ পদ্ধতি
মুল্যবান এই মশলাটি চাষ করতে আপনাকে বিশেষ কিছু ধাপ ও পদ্ধতি অনুসরন করতে হবে। জাফরান চাষের জন্য সঠিক জমি নির্বাচন, বীজ (মোথা) সংগ্রহ, চাষ ও সঠিক পরিচর্যা জরুরি। চলুন একে একে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে জাফরানের চাষ পদ্ধতি ও কিভাবে পরিচর্যা করবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-
জমি বা বীজতলা তৈরি
কোন ফসল চাষের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষটি হচ্ছে কোথায় চাষ করা হবে। প্রথমে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে জাফরানের যে বীজ তৈরি করবেন সেটি সরেজমিন হতে প্রায় ১৫ সে মি উচু। অবশ্যই পর্যাপ্ত আলো বাতাস আছে এমন জায়গা নির্বাচন করুন। মাটির পি এইচ ৬-৭ হলে উত্তম।
প্রায় সব ধরনের মাটিতে জাফরানের চাষ করা যায় তবে বেলে দোআঁশ মাটি সব চেয়ে উত্তম। মাটি ভালো ভাবে কুপিয়ে মাটিতে গোবর সার/পচনশীল জৈব আবর্জনা, শতক প্রতি ৩ কেজি টিএসপি, ৪ কেজি এমপিও সার প্রয়োগ করুন। প্রতিটি মোথার জন্য ১০-১৫ সেমি দূরে ছোট গর্ত করুন।
বীজ সংগ্রহ ও রোপণ
জাফরানের কোন ফল হয় না। আখের মতো মোথা দিয়ে বংশবিস্তার করা হয়। এক বছর বয়স্ক গাছ থেকে রোপণ উপযোগী মাত্র দুইটি মোথা বা ইষন পাওয়া যায়। আর ৩-৪ বছর বয়সী একটি গাছ থেকে ৫-৭ টি মোথা পাওয়া যায়। ৩-৪ বছরের বেশি সময় রাখা ভালো নয় এমন হলে মোথা তুলে আবার নতুন করা লাগানো উত্তম। বর্ষা শেষ হওয়ার একটু আগে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে মোথা বা বালব লাগানো উত্তম।
পরিচর্যা
জাফরানের সঠিক উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য জমি আগাছা মক্ত রাখা একান্ত জরুরি। মাঝে মাঝে নিড়ানি দিয়ে মাটি হালকা আগলা করে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে শিকড় যাতে উপড়ে না যায়। শুকনো মৌসুমে হালকা সেচ দিতে হবে তবে গাছের গোঁড়ায় পানি জমতে দেয়া যাবে না। অন্যান্য ফসলের তুলনায় জাফরান চাষ -এ কম সেচ প্রয়োজন। তবে বর্ষায় পানি জমে গেলে গাছে গোঁড়ায় পচন ধরতে পারে। তাই অবশ্যই উচু জমি ও পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা থাকা একান্ত জরুরি।
পোকা ও রোগ দমন
ফসলের ভিবিন্ন ক্ষতিকর পোকা ও রোগবালাই আপনার কষ্ট করে চাষ করা ফসলের ১৩ টা বাজিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ইদুর, চিকা, ও খরগোশ জাফরান চাষের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। এরা গাছের মোথা খেতে পছন্দ করে। এতে করে আপনি নতুন ফসল চাষের জন্য মোথা পাবেন না। এবং জাফরানের চাড়া তৈরি করতে পারবেন না।
শিকড় পচে যাওয়া রোগ অনেক বেশি ক্ষতিকর। আর এই রোগ বেশ ছোঁয়াচে। এজন্য আপনাকে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হবে। একবার শিকড় পচা রোগ দেখা দিলে ১-২ বছরের মধ্যে ওই জমিতে জাফরান চাষ করা যাবে না। মূলত একই জমিতে টানা ৩-৪ বছর চাষ করলে এই রোগ দেখা দেয়। একই জমি হতে তিন বছর চাষ করা ও ফসল নেওয়ার পর মোথা তুলে অন্য নতুন জমিতে চাষাবাদ শুরু করুন। আপনি চাইলে ৩ বছর হওয়ার পূর্বেই একটি জমি তৈরি করে রাখতে পারেন এতে আপনার সময় বাচবে।
এছাড়াও ছত্রাক জনিত কারনে কিছু রোগ দেখা দিতে পারে। এতে গাছের গোঁড়া নরম হয়ে যাওয়া ও গাছ বাদামী রং ধারন করে এবং গাছ হেলে পড়ে। এই সমস্যা দেখা দিলে প্রতি এক লিটার পানির জন্য ২ গ্রাম লগন বা রিডোমিল-গোল্ড কিংবা কার্বোন্ডাজিম দলীয় ছত্রাক নাশক মিশিয়ে ছিটিয়ে দিন।
জাফরান তৈরির নিয়ম বা কিভাবে তৈরি করা হয়?
মনে রাখবেন অনেক সময় জাফরান চাষের প্রথম বছরেই ফুল ধরে না। ২য় বছর থেকে প্রতিটা গাছে ২-৪ টি ফুল আসে। দুই বছরের গাছে ৩-৪ টা এবং ৩-৪ বছরের গাছে ৫-৮টি ফুল আসতে পারে। একটি গাছে ৩ টি স্ত্রী অঙ্গ ও ৩ টি পুরুষ অঙ্গ থাকে। আর অক্টোবর থেকে গাছে ফুল ধরা শুরু করে। অনেক সময় তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
যেভাবে জাফরান তৈরি ও সংগ্রহ করবেন
আমরা আগেই বলেছি জাফরানের কোন ফল হয় না। গাছ হতে ফুলগুলো সংগ্রহ করুন। মূলত ফুল ফোটার সাথে সাথে ফুলের গর্ভদন্ডের প্রয়োজনীয় অংশ কেঁচি দিয়ে কেটে বা ছেঁটে চওড়া পাত্রে পরিষ্কার কাগজ বিছিয়ে এর উপর শুকানো হয়। এর পর ভালো ভাবে রোদে শুকাতে হয়। রোদে শুকানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে কোন প্রানি হাটাহাটি না করে কিংবা বাতাসে উরে না যায়।
বর্তমানে বাজারে এক ধরনের ডেসিকেটর পাওয়া যায় যাতে আপনি আপার সংগৃহীত জাফরানের ফুল শুকাতে পারেন কোন ঝামেলা ছাড়াই। এর সংগ্রহ ও প্রক্রয়াজাত করন অনেকটা চায়ের মতো।দুই থেকে তিন দিন পড়ন্ত রোদে শুকানোর পর আদ্রতা রোধক পাত্রে সংরক্ষন করতে হবে। এই একটি দীর্ঘ ও ধৈর্যের কাজ।
আসল জাফরান চেনার উপায়
১ গ্রাম বা ০.০৩৫ আউন্স জাফরানের জন্য ১৫০ টি ফুলের প্রয়োজন। অর্থাৎ ১ কেজি পরিমান জাফরানের জন্য ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার ফুলের প্রয়োজন হয়। এর দাম বেশি হওয়ার কারন হচ্ছে এটি পুরোটাই কায়িক শ্রম থেকে আসে আপনি চাইলেই মেশিন দিয়ে কিছু করতে পারবেন না। শুধু পরিচর্যার কাজ বাদে।
প্রচুর দাম ও চাহিদার কারনে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। আসল জাফরান চেনার উপায় হচ্ছে একটি কাঠি বা শলাকার উপর একটি পুংকেশর থাকবে যা দেখতে অনেকটা ম্যাচের কাঠির মতো।
প্রিয় পাঠক, আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করুন আমাদের ফেসবুক পেজে। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। মুখ ফর্সা করার ক্রিম।
আরও পড়ুনঃ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য স্কিন ফেস ওয়াশ
মুলতানি মাটির ব্যবহার, ফেস প্যাক, খাওয়ার নিয়ম